সংবাদ শিরোনাম ::
বৈরী আবহাওয়ার কারনে বঙ্গোপসাগরে পৃথকভাবে ৩ টি মাছধরার ট্রলার ডুবি ১৩ জেলে নিখোঁজ গভীর লঘুচাপের প্রভাবে সুন্দরবন-উপকূলে টানা বৃষ্টি জনজীবন বিপর্যস্ত, মোংলা বন্দরে ব্যাহত পণ্য খালাস ঝালকাঠিকে আধুনিক ও মাদক মুক্ত মডেল পৌরসভা গড়ার অঙ্গীকার আনিসুর রহমান তাপুর ঝালকাঠিতে বিকাশ কর্মীর চোখে গুল ছিটিয়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই জীবননগর সীমান্তে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার বরিশাল নগরীতে শিয়ালের মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন সিলেটে যুব মহিলা লীগের নেত্রী লাকি বন্ধুকে নিয়ে আবাসিক হোটেলে দর্শনার যদুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ. বানারীপাড়ায় যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সুমন সরদারের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার

বৈরী আবহাওয়ার কারনে বঙ্গোপসাগরে পৃথকভাবে ৩ টি মাছধরার ট্রলার ডুবি ১৩ জেলে নিখোঁজ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি মোঃ নাঈম হাওলাদার।
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চর বিজয়, সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় একটি ছোট ট্রলার হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ফকিরহাট এলাকার এফবি মহিমা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় ডুবে যায়। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা অন্যান্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকি ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল। হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কারণে গভীর সাগরে মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অনেক ট্রলারের জাল ও ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কুয়াকাটা, মহিপুর, ফকিরহাট ও গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই ঘাটে এসে প্রিয়জনের ফেরার আশায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

নিখোঁজ এক জেলের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাগরে যাওয়ার সময় বলেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে। এখন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, যেন আমার স্বামীকে জীবিত ফিরে পাই। ছোট ছোট সন্তানরা বারবার বাবার খোঁজ করছে, তাদের কী উত্তর দেব বুঝতে পারছি না।

অপর এক নিখোঁজ জেলের বাবা বলেন, আমার ছেলেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হোক।

এদিকে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে না পেরে গভীর সাগরেই বিপদের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযান চালাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং জেলেদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বৈরী আবহাওয়ার কারনে বঙ্গোপসাগরে পৃথকভাবে ৩ টি মাছধরার ট্রলার ডুবি ১৩ জেলে নিখোঁজ

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চর বিজয়, সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় একটি ছোট ট্রলার হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ফকিরহাট এলাকার এফবি মহিমা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় ডুবে যায়। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা অন্যান্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকি ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল। হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কারণে গভীর সাগরে মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অনেক ট্রলারের জাল ও ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কুয়াকাটা, মহিপুর, ফকিরহাট ও গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই ঘাটে এসে প্রিয়জনের ফেরার আশায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

নিখোঁজ এক জেলের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাগরে যাওয়ার সময় বলেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে। এখন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, যেন আমার স্বামীকে জীবিত ফিরে পাই। ছোট ছোট সন্তানরা বারবার বাবার খোঁজ করছে, তাদের কী উত্তর দেব বুঝতে পারছি না।

অপর এক নিখোঁজ জেলের বাবা বলেন, আমার ছেলেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিন দিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হোক।

এদিকে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে না পেরে গভীর সাগরেই বিপদের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযান চালাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং জেলেদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।