২১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, বৃহস্পতিবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের পুরাতন মালামাল বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, সরকারি মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হাওলাদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেহেরগতি ইউনিয়ন বাস্তুহারা দলের আহ্বায়ক মো. সোহাগ হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লিখিত বক্তব্যে সরোয়ার হাওলাদার বলেন, গত ১৪ মে রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি জটলা দেখে তিনি ও সোহাগ হাওলাদার ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পিকআপভর্তি পুরাতন রড, ঢেউটিন, দরজা, জানালা ও গ্রিল দেখতে পান। পরে ট্রাকচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মালামালগুলো কেনা হয়েছে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। পরে কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও প্রভাষক সেলিম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে জানান, এগুলো পুরাতন ভবনের অপ্রয়োজনীয় ভাঙারি মালামাল, যা বিক্রি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ার হাওলাদার অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত টেন্ডার বা উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান থাকলেও কেন রাতের আঁধারে গোপনে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল—সে বিষয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা স্থানীয়দের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে মালামালবাহী গাড়িটিও নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
সরোয়ার হাওলাদার বলেন, আমি সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের একজন দাতা সদস্য। কলেজটির প্রধান প্রবেশপথ আমাদের পৈতৃক বাড়ির পাশ দিয়ে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভালো-মন্দের বিষয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কলেজের সুনাম রক্ষায় আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমাদের বসতভিটার আঙিনাজুড়ে গড়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আলাদা মায়া-মমতা রয়েছে। অথচ একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রত্যাশা করেন।
ছবির ক্যাপশন- সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সরোয়ার হাওলাদার।