২১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, বৃহস্পতিবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের ক্রাইম ডেক্স
বরিশালের বেসরকারি বেলভিউ হাসপাতাল এবং মেডিকেল সার্ভিসে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় এবং ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
নবজাতকের বাবা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। ২১ দিন বয়সে নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।
এদিকে ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, “আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন” বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, “২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা. আশীষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশষী স্যার প্রেস্ক্রিবশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন।
সিজারের একঘণ্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা. আশীষ স্যার তাঁর প্রেস্ক্রিবশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরে কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি।
সারা রাতে একবার তারা খোঁজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশীষ স্যার আসবেন না।
শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা. নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই, উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই।
এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার, আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা. নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরি একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়।”
পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, “বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে?”
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিকবার এমপি। ডা. আশীষ নিজেও স্বাচিপের রাজনীতির সাথে জড়িত। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে।