সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

চুয়াডাঙ্গায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহমুদ হাসান রনি,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় আলীমদ্দীন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। শুক্রবার সাড়ে ৯টয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের বাসভবনে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটি সালিশে জড়ো হয় গ্রামের দুটি পক্ষ।আর সালিশ শুরুর আগেই উভয় পক্ষের বাকবিতন্ডায় হত্যার ঘটনা ঘটে।নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক কাজে গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ার কাছ থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার রাতে নতুন করে সালিশের আয়োজন করা হয়। জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আলিম উদ্দিনের( ৫৫)’র ওপর হামলা চালান।কালু মণ্ডল বলেন, ‘তারা আমার ভাইকে তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যান বলে জেনেছি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, টাকা লেনদেন নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া
হয়েছে। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চুয়াডাঙ্গায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

আপডেট সময় : ০৯:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মাহমুদ হাসান রনি,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় আলীমদ্দীন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। শুক্রবার সাড়ে ৯টয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের মানিকডিহী গ্রামে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজনের বাসভবনে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটি সালিশে জড়ো হয় গ্রামের দুটি পক্ষ।আর সালিশ শুরুর আগেই উভয় পক্ষের বাকবিতন্ডায় হত্যার ঘটনা ঘটে।নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক কাজে গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ার কাছ থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা পরিশোধ করা হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার রাতে নতুন করে সালিশের আয়োজন করা হয়। জিয়া, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে বসে ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন ও আরিফের ছেলে আরাফাত। তারা হঠাৎ করেই আলিম উদ্দিনের( ৫৫)’র ওপর হামলা চালান।কালু মণ্ডল বলেন, ‘তারা আমার ভাইকে তলপেটে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে নিজ হেফাজতে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউল আলম সুজন বলেন, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ আমার বাসভবনে এসেছিল। সালিশ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে কিল-ঘুষি ও ইটের আঘাতে আলিম উদ্দিন মারা যান বলে জেনেছি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিম বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলিম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, টাকা লেনদেন নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া
হয়েছে। অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে।