বিজয়নগরে সাতগাঁও মাদ্রাসার মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার ১৩ বছরে দেশসেরা অর্জন
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

হুসাইন মোহাম্মদ (রুবেল) বিজয়নগর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার পরিবারের দুই ভাই বাংলাদেশ বেফাকুল মাদ্রাসিল আরবিয়া বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতি মিয়ার দুই নাতি, হাফেজ কারী তানভীর হোসেনের সুযোগ্য দুই ছেলে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার (১৩) ও হাফেজ মোহাম্মদ রেদোয়ান আহমদ (১১)।
তাদের অর্জনে ভূমিকায় ছিলেন, পিতা তানভীর, নানা হাফেজ খলিলুর রহমান, সাতগাঁও মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কাউসার আহমেদ ও হাফেজ আবু সাঈদ এর প্রচেষ্টায় এই অর্জন।
তারা উভয়ই দাউদপুর মোহাম্মদীয়া কুরআনিয়া হাসানিয়া সাত গাঁও মাদ্রাসার ছাত্র।
সু অর্জনে খুশিতে দিশেহারা মাতা রাবেয়া বেগম তিনিও একজন ধর্ম বিরু গৃহকর্মী, দাদি তানজিলা খাতুন ও দাদার তদারকিতে উচ্চ শিখরে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে।
গত ২৩শে জানুয়ারি সারা বাংলাদেশে লক্ষাধিক ছাত্রের অংশগ্রহণে ২৮শে রমাদান এই বোর্ডের ফলাফলে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল গাফফার ২শ নাম্বারের পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর প্রাপ্তিতে সাতগাঁও মাদ্রাসার নাম বাংলাদেশে উজ্জ্বল করেছে। দ্বিতীয় সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ রেদওয়ান আহমেদও একই পরীক্ষার ২শ নাম্বারের মধ্যে ১৯০ নাম্বার পেয়ে মুমতাজ ক্যাটাগরিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।
দুই ভাই এদারায়ে তালিমিয়া ব্রাহ্মতালিমিয়া অধীনে ২৭শে জানুয়ারি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ও ২০শে রমাদানে ফলাফলে আব্দুল গাফফার ২শত নাম্বার পরীক্ষায় ১৮৯ নাম্বার ও ছোট ভাই রেদওয়ান আহমেদ ১৮৬ নাম্বার পেয়ে উভয়ই জেলায় দ্বিতীয় স্থান (মুমতাজ) অধিকার করেছেন।
আব্দুল গাফফার ৭ বছর বয়সে ২৯২৬ দিনে ও রেদওয়ান ৬ বছর বয়সে ২০২৭ দিনে হাফেজের কুরআন অর্জন করে।
আব্দুল গাফফারের দাদা মতি মিয়া দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান আমলে সেনাবাহিনীতে অংশগ্রহণ করে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ৯ মাসের যুদ্ধে ৬ মাসই পরিবারে থেকে নিখোঁজ অবস্থায় ছিলেন। মতি মিয়ার পিতা আব্দুল বশির ও ভাই সুরুজ মিয়া পাক হানাদারের হাতে একই দিনে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
তাদের এই অর্জনে সতগাঁও মাদ্রাসার শিক্ষক ও কমিটি দেশের সকলে গর্ব ও আনন্দ প্রকাশ করেন। মাদ্রাসাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
পিতা হাফেজ কারী তানভীর হোসেন জানান, আমার দুই সন্তান বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ হয়েছে, তার জন্য আমি গর্ববোধ করি। আমি নিজেও তাদের শিক্ষক তার নানা ও সাতগাঁও মাদ্রাসার শিক্ষকরা তার প্রতি শ্রম দেওয়াতে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আশা করব সাতগাঁও মাদ্রাসা আরো এগিয়ে যাবে।























