সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

বিরামপুরে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা,স্থানীয় প্রশাসন নীরব—উদ্বেগে পরিবারগুলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিতভাবে মাদকের লেনদেন হয়। এছাড়া সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব স্থানে অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো অভিযান দেখতে পাচ্ছি না।”সচেতন মহল বলছে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চলতে পারে?
সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা,স্থানীয় প্রশাসন নীরব—উদ্বেগে পরিবারগুলো

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্যের প্রকাশ্য সরবরাহ ও কেনাবেচা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন মাদকের আসর বসছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার কেডিসি রোডে অন্তত ৫ থেকে ৬টি স্পটে নিয়মিতভাবে মাদকের লেনদেন হয়। এছাড়া সারগোডাউনের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, কলাবাগান, গরুহাটি, ঘাটপাড় ব্রিজ এলাকা, মামুদপুর, থানার পেছনের লিচুবাগান আদিবাসী পাড়া, শান্তিনগর, মির্জাপুর, শিমুলতলি ও ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব স্থানে অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কৌশলে কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে মাদকের জালে জড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। চোখের সামনে তারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কার্যকর কোনো অভিযান দেখতে পাচ্ছি না।”সচেতন মহল বলছে, মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ নানা সামাজিক অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ইতোমধ্যে ছোটখাটো অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন প্রকাশ্য মাদক বাণিজ্য চলতে পারে?
সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, যুব সমাজকে সচেতন করতে সামাজিক উদ্যোগ এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিরামপুরবাসীর প্রত্যাশা—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। উঠতি প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি।