১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, বুধবার, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
নেশার টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে নতুন দায়িত্বে সদ্য সাবেক প্রেস ও ডেপুটি প্রেস সচিব জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বিএনপির, আসামি ১ হাজার ৪৪ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপি সরকারের ২৫ মন্ত্রীর শপথ,নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতা বঙ্গোপসাগর থেকে ২০ জেলে অপহরণ বিজয়নগরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংস্কৃতি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে. জীবননগরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাবুগঞ্জে তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা সহজতর করতে এডভোকেসি সভা শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় চাকরি হারালেন মসজিদের খতিব নবনির্বাচিত এমপি জামালের বক্তব্য দাঁড়িপাল্লার ভোটারদের জারজ সন্তান বলায় জেলা জামায়াতের নিন্দা
বানারীপাড়ায় দেড় বছর পরে কবর থেকে শহিদ তাহিদুলের মরদেহ উত্তোলন

বানারীপাড়ায় দেড় বছর পরে কবর থেকে শহিদ তাহিদুলের মরদেহ উত্তোলন

রাহাদ সুমন

,বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় ১৮ মাস পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদ তাহিদুল ইসলামের (২১) মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় চাউলাকাঠী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার মরদেহ তোলা হয়। পরে তা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ সময় বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বায়েজিদুর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান, বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. ইসাহাক আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ তোলার সময় তাহিদুলের বাবা-মা ও স্বজনরা কান্না-বিলাপ করেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ বায়েজিদুর রহমান বলেন, তাহিদুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কবর থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে আবার দাফন করা হবে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, তাহিদুলের মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাহিদুল ইসলাম বরিশাল বিএম কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি রাজধানীর ফার্মগেটে একটি ওয়ার্কসপে কাজ করতেন। তাহিদুলের মা লাভলী বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ, বড় ভাই তারিকুল ইসলাম বেকার। পরিবারে উপার্জনক্ষম হিসেবে তাহিদুলই ছিল একমাত্র ভরসা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট বিকাল ৫ টায় তাহিদুল রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ঢাকা থেকে বরিশালের বানারীপাড়ার চাখারে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। ময়না তদন্ত ছাড়াই ৬ আগষ্ট সকালে দু’দফা জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়।

তাহিদুলের বাবা কৃষক আব্দুল মান্নান কান্নাভেজা কন্ঠে জানান, তাঁদের দরিদ্র পরিবারে তাহিদুলই ছিলেন মূল ভরসা। তিনি দিনমজুরি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চলে না। তাহিদুলের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে “মেধার” যোগ্যতায় ভালো কোন চাকরিতে যোগদান করবেন। দরিদ্র পিতা-মাতার সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আনবেন। গ্রামের বাড়ির জীর্ণ ঘর ভেঙ্গে একটি বড় ঘর বানিয়ে সবাইকে নিয়ে বসবাস করবেন। কিন্তু গুলিতে তার সঙ্গে স্বপ্নেরও করুন মৃত্যু হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে তার বড় ছেলের জন্য একটি চাকরির দাবি জানান। ###

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019