সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

‎হিলিতে ৭৯ জনের ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ভূয়া এনজিও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



‎শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি-
‎দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সাতকুড়িঁতে গরিব অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য ঋণ দেয়ার কথা বলে গ্রাহকের সঞ্চয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইডিএফএন সংস্থা নামের একটি ভূয়া এনজিওর বিরুদ্ধে।

‎রবিবার(১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভোক্তভোগীরা ঋণ নিতে অফিসে গেলে তালা ঝুলানো দেখতে পান এবং মোবাইল ফোনে কল দিলে এনজিও কর্মীদের ফোন বন্ধ পান। এক সময়ে তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রতিকার পেতে ঐ দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তারা। এদিকে প্রশাসন বলছেন, থানায় অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ভুক্তভোগি রোমানা, আমিনুরুল সহ কয়েকজন বলেন, উপজেলার সাতকুড়ি বাজারে একটি অফিস নিয়ে আই ডি এন এফ সংস্থা নামের একটি এনজিও গড়ে তোলেন। মাত্র ৫ শতাংশ হারে দু,বছর মেয়াদী ঋণ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সমিতি করেন এবং কমপক্ষে এক লাখ করে ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা সঞ্জয় আদায় করেন এবং বলেন রবিবার বিকালে ঋণ বিতরণ করা হবে। কিন্তু ঋণ প্রত্যাশিরা এসে দেখেন অফিসে তালা ঝুলছে। আশপাশের লোকজন জানায় সকাল থেকে ওই অফিস তালাবন্ধ। অফিসের লোকের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তারা বুঝতে পারেন তাদের সাথে প্রতরনা করা হয়েছে। প্রতারনার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিকার পেতে ৭৯ জনের ৪ সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

‎অফিসের বিল্ডিং মালিক রিয়াজুল আলম জানান, আইডিএফএন সংস্থা নামের এনজিওর দুই ব্যাক্তি চলতি মাসের ৩ তারিখে ভাড়া নিতে আসেন। এবং মাসিক ৬ হাজার টাকা মৌখিক ভাড়া চুক্তি হয়। লিখিত চুক্তি করতে চাইলে চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকা থেকে বড় স্যার আসবে তখন লিখিত চুক্তি করার কথা জানান। রোববার সকাল থেকে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। মনে করেছিলাম তারা ফিল্ডে গেছে। বিকেলে শুনি তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

‎ভুক্তভোগী উপজেলার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় সমিতি খোলা হয়ছিল। ঋন দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ১০-২০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা নিয়েছে। এখন তারা উধাও। তাদের মুঠোফোনে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

‎হাকিমপুর থানা ওসি নাজমুল হক জানান, ঋণ দেওয়ার কথা বলে আই ডি এফ এন সংস্থা নামের একটি এনজিও সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৪ টি সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সমিতির সভাপতিদের দেওয়া তথ্য মতে ৭৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। যারা প্রতরণার শিকার হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এবিষয়ে এনজিও ম্যানেজার মাজহারুল ও মাঠ কর্মীদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।


নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‎হিলিতে ৭৯ জনের ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ভূয়া এনজিও

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫



‎শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি-
‎দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সাতকুড়িঁতে গরিব অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য ঋণ দেয়ার কথা বলে গ্রাহকের সঞ্চয়ের অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইডিএফএন সংস্থা নামের একটি ভূয়া এনজিওর বিরুদ্ধে।

‎রবিবার(১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভোক্তভোগীরা ঋণ নিতে অফিসে গেলে তালা ঝুলানো দেখতে পান এবং মোবাইল ফোনে কল দিলে এনজিও কর্মীদের ফোন বন্ধ পান। এক সময়ে তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রতিকার পেতে ঐ দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তারা। এদিকে প্রশাসন বলছেন, থানায় অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ভুক্তভোগি রোমানা, আমিনুরুল সহ কয়েকজন বলেন, উপজেলার সাতকুড়ি বাজারে একটি অফিস নিয়ে আই ডি এন এফ সংস্থা নামের একটি এনজিও গড়ে তোলেন। মাত্র ৫ শতাংশ হারে দু,বছর মেয়াদী ঋণ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সমিতি করেন এবং কমপক্ষে এক লাখ করে ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা সঞ্জয় আদায় করেন এবং বলেন রবিবার বিকালে ঋণ বিতরণ করা হবে। কিন্তু ঋণ প্রত্যাশিরা এসে দেখেন অফিসে তালা ঝুলছে। আশপাশের লোকজন জানায় সকাল থেকে ওই অফিস তালাবন্ধ। অফিসের লোকের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তারা বুঝতে পারেন তাদের সাথে প্রতরনা করা হয়েছে। প্রতারনার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিকার পেতে ৭৯ জনের ৪ সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

‎অফিসের বিল্ডিং মালিক রিয়াজুল আলম জানান, আইডিএফএন সংস্থা নামের এনজিওর দুই ব্যাক্তি চলতি মাসের ৩ তারিখে ভাড়া নিতে আসেন। এবং মাসিক ৬ হাজার টাকা মৌখিক ভাড়া চুক্তি হয়। লিখিত চুক্তি করতে চাইলে চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকা থেকে বড় স্যার আসবে তখন লিখিত চুক্তি করার কথা জানান। রোববার সকাল থেকে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। মনে করেছিলাম তারা ফিল্ডে গেছে। বিকেলে শুনি তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

‎ভুক্তভোগী উপজেলার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় সমিতি খোলা হয়ছিল। ঋন দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ১০-২০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা নিয়েছে। এখন তারা উধাও। তাদের মুঠোফোনে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

‎হাকিমপুর থানা ওসি নাজমুল হক জানান, ঋণ দেওয়ার কথা বলে আই ডি এফ এন সংস্থা নামের একটি এনজিও সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৪ টি সমিতির সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সমিতির সভাপতিদের দেওয়া তথ্য মতে ৭৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। যারা প্রতরণার শিকার হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এবিষয়ে এনজিও ম্যানেজার মাজহারুল ও মাঠ কর্মীদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।