সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ঝালকাঠিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ননদের জামাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত, গৃহবধূর দাবি আত্মরক্ষা বরিশালে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে খুশি মালিকরা, প্রশংসিত কাউনিয়া থানা পুলিশ ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রিপোর্ট ছুড়ে ফেললেন চিকিৎসক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স : শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসা এক রোগীর চিকিৎসা প্রতিবেদন ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের দাবি ওই চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় এমন কাণ্ড করেছেন তিনি।

রোগীর স্বজনরা জানান, সদর উপজেলার দড়ির হাওলা এলাকার এসকান চৌকিদার মঙ্গলবার দুপুরে হৃদরোগ আক্রান্ত হলে তার স্বজনরা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস রোগীকে কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

তবে রোগীর স্বজনরা ওই ক্লিনিকে না গিয়ে অন্য আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করান। পরবর্তীতে রিপোর্ট নিয়ে কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াসের নিকটে গেলে তিনি রিপোর্ট দেখবেন না বলে ছুড়ে ফেলেন।

এসকান চৌকিদারের ছেলে হেদায়েত বলেন, চিকিৎসক কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস কিছু পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং তিনি পরীক্ষাগুলো একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করানোর কথা বলেন।

কিন্তু আমরা আর্থিক সমস্যার কারণে ওই ক্লিনিকে না গিয়ে অন্য একটি ক্লিনিকে পরীক্ষাগুলো করাই। পরে রিপোর্ট নিয়ে এলে চিকিৎসক সেগুলো দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের এমন আচরণে আমরা খুবই হতাশ ও বিপাকে পড়েছি।

চিকিৎসা নিতে আসা লিখন নামের এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষার অনুরোধ নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। পরীক্ষাগুলো অন্য কোথাও করালে অনেক সময় চিকিৎসকরা রিপোর্ট গ্রহণ করেন না।

এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য চিকিৎসা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমন হয়রানি বন্ধ হোক। সবার জন্য সঠিক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি চিকিৎসক কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। সেইসঙ্গে রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন বলে দাবি জানান।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আকরাম এলাহী বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার ছিল। চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় রিপোর্ট ছুড়ে ফেললেন চিকিৎসক

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫

আজকের ক্রাইম ডেক্স : শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসা এক রোগীর চিকিৎসা প্রতিবেদন ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের দাবি ওই চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে টেস্ট না করানোয় এমন কাণ্ড করেছেন তিনি।

রোগীর স্বজনরা জানান, সদর উপজেলার দড়ির হাওলা এলাকার এসকান চৌকিদার মঙ্গলবার দুপুরে হৃদরোগ আক্রান্ত হলে তার স্বজনরা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস রোগীকে কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

তবে রোগীর স্বজনরা ওই ক্লিনিকে না গিয়ে অন্য আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করান। পরবর্তীতে রিপোর্ট নিয়ে কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াসের নিকটে গেলে তিনি রিপোর্ট দেখবেন না বলে ছুড়ে ফেলেন।

এসকান চৌকিদারের ছেলে হেদায়েত বলেন, চিকিৎসক কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস কিছু পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং তিনি পরীক্ষাগুলো একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করানোর কথা বলেন।

কিন্তু আমরা আর্থিক সমস্যার কারণে ওই ক্লিনিকে না গিয়ে অন্য একটি ক্লিনিকে পরীক্ষাগুলো করাই। পরে রিপোর্ট নিয়ে এলে চিকিৎসক সেগুলো দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের এমন আচরণে আমরা খুবই হতাশ ও বিপাকে পড়েছি।

চিকিৎসা নিতে আসা লিখন নামের এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষার অনুরোধ নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। পরীক্ষাগুলো অন্য কোথাও করালে অনেক সময় চিকিৎসকরা রিপোর্ট গ্রহণ করেন না।

এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য চিকিৎসা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমন হয়রানি বন্ধ হোক। সবার জন্য সঠিক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি চিকিৎসক কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াস। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগটি অস্বীকার করেন। সেইসঙ্গে রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন বলে দাবি জানান।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আকরাম এলাহী বলেন, বিষয়টি জানতে পেয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার ছিল। চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবো।