সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

বরিশালের সেই লুসি হল্টকে দেখতে যাবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশে চিঠি লিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সমর্থন আদায়ে চেষ্টাকারী বৃটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট এর সাথে এবার দেখা করতে যাবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা।

আজ (২৯ ডিসেম্বর) বরিশালে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা। সেখান থেকে লুসির আবাসস্থল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন চার্চে গিয়ে দেখা করবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা।

লসি হল্ট জানান, ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে জন্মগ্রহণ করেন লুসি হল্ট। লুসির বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। ১৯৪৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন লুসি। অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে আসেন তিনি। নিয়োজিত হন মানবতার সেবায়। ৭১র যুদ্ধের সময় যখন তার সহযাত্রীরা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন লুসি আত্মগোপনে যশোরের হাসপাতালে গিয়ে সেবা দেন আহতদের। বিভিন্ন দেশে দেশে বাংলাদেশের স্বপক্ষে চিঠি লিখেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি। মায়ার বন্ধনে থেকে গেছেন।

যুদ্ধাপরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন লুসিকে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন লুসি।

বর্তমানে ৯৩ বছর বয়সী লুসি শেস জীবনে স্থায়ী হয়েছেন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে। তার জীবনের একমাত্র চাওয়া ছিলো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্তি। বরিশালের মাটিতে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির ধ্বন্না দিলেও পাননি। তাছাড়া অর্থ সংকটে চিকিৎসা চালানো এবং বছরে বৃটিশ নাগরিক লুসির বাংলাদেশের ভিসা ফি নবায়নে ৪০/৪৫ হাজার টাকা যোগাড় করতেও কষ্ট হতো।

অক্সফর্ড মিশনের ফাদার জন জানান, লুসির জীবনের এসব নানা দিক নিয়ে ২০১৬ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রথম ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শুরু করেন তৎকালীন ডিবিসি টেলিভিশনে সাংবাদিক ও বর্তমানে সময় টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপু। সংবাদের ধারাবাহিকতরা এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারী বরিশালের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, বিভাগীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাসহ বরিশালের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নাগরিকদের নিয়ে ডিবিসি নিউজের আয়োজনে নগরীর বিডিএস ক্লাবে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় লুসি হল্টকে।

ঐ অনুষ্ঠানে লুসির আজীবন ব্যয়ভার বহনের ঘোষনা দেন অপসোনিন ফার্মার প্রকল্প সমন্বয়ক রফিকুর রহমান। নগত ১ লক্ষ টাকা তুলে দেয়া হয় লুসির হাতে। অনুষ্ঠানের পরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

লুসির সংবাদ নজরে পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তৎপর হয় বরিশালের স্থানীয় প্রশাসন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বরিশাল সফরে এসে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ভিসা ফি মওকুফ যুক্ত পাসপোর্ট তুলে দেন লুসিকে। পরে প্রধানমন্ত্রী লুসির স্বপ্ন পূরণে গণভবনে লুসিকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

সেই লুসির শারীরিক খোঁজ নিতে এবার স্বশরীরের স্ময়ং লুসির ঘরে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা। ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার অক্সফোর্ড মিশনে যাবেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। তার আগমনকে সাজ সাজ রব পুরো অক্সফোর্ড মিশনে। জানা গেছে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা তার সাথে একান্ত কিছু সময় কাটাবেন। এমন খবরে দারুণ খুশি বৃটিশ বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক লুসি হল্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশালের সেই লুসি হল্টকে দেখতে যাবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশে চিঠি লিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সমর্থন আদায়ে চেষ্টাকারী বৃটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট এর সাথে এবার দেখা করতে যাবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা।

আজ (২৯ ডিসেম্বর) বরিশালে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা। সেখান থেকে লুসির আবাসস্থল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন চার্চে গিয়ে দেখা করবেন বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ রেহানা।

লসি হল্ট জানান, ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে জন্মগ্রহণ করেন লুসি হল্ট। লুসির বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। ১৯৪৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন লুসি। অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে আসেন তিনি। নিয়োজিত হন মানবতার সেবায়। ৭১র যুদ্ধের সময় যখন তার সহযাত্রীরা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন লুসি আত্মগোপনে যশোরের হাসপাতালে গিয়ে সেবা দেন আহতদের। বিভিন্ন দেশে দেশে বাংলাদেশের স্বপক্ষে চিঠি লিখেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি। মায়ার বন্ধনে থেকে গেছেন।

যুদ্ধাপরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন লুসিকে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন লুসি।

বর্তমানে ৯৩ বছর বয়সী লুসি শেস জীবনে স্থায়ী হয়েছেন বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে। তার জীবনের একমাত্র চাওয়া ছিলো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্তি। বরিশালের মাটিতে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির ধ্বন্না দিলেও পাননি। তাছাড়া অর্থ সংকটে চিকিৎসা চালানো এবং বছরে বৃটিশ নাগরিক লুসির বাংলাদেশের ভিসা ফি নবায়নে ৪০/৪৫ হাজার টাকা যোগাড় করতেও কষ্ট হতো।

অক্সফর্ড মিশনের ফাদার জন জানান, লুসির জীবনের এসব নানা দিক নিয়ে ২০১৬ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রথম ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শুরু করেন তৎকালীন ডিবিসি টেলিভিশনে সাংবাদিক ও বর্তমানে সময় টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপু। সংবাদের ধারাবাহিকতরা এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারী বরিশালের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, বিভাগীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাসহ বরিশালের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নাগরিকদের নিয়ে ডিবিসি নিউজের আয়োজনে নগরীর বিডিএস ক্লাবে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় লুসি হল্টকে।

ঐ অনুষ্ঠানে লুসির আজীবন ব্যয়ভার বহনের ঘোষনা দেন অপসোনিন ফার্মার প্রকল্প সমন্বয়ক রফিকুর রহমান। নগত ১ লক্ষ টাকা তুলে দেয়া হয় লুসির হাতে। অনুষ্ঠানের পরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

লুসির সংবাদ নজরে পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তৎপর হয় বরিশালের স্থানীয় প্রশাসন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বরিশাল সফরে এসে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ভিসা ফি মওকুফ যুক্ত পাসপোর্ট তুলে দেন লুসিকে। পরে প্রধানমন্ত্রী লুসির স্বপ্ন পূরণে গণভবনে লুসিকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

সেই লুসির শারীরিক খোঁজ নিতে এবার স্বশরীরের স্ময়ং লুসির ঘরে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা। ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার অক্সফোর্ড মিশনে যাবেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। তার আগমনকে সাজ সাজ রব পুরো অক্সফোর্ড মিশনে। জানা গেছে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ রেহানা তার সাথে একান্ত কিছু সময় কাটাবেন। এমন খবরে দারুণ খুশি বৃটিশ বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক লুসি হল্ট।