সংবাদ শিরোনাম ::
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

সেতু আছে সড়ক নেই, খাল পার হতে হয় নৌকায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩ ১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালুইগাছা এলাকার বাঁশগাদা খালের উপর ৩১ লাখ টাকা ব্যয় নির্মিত সেতুটির দুইপাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রচ রোড) না থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে সেতু থাকলেও খাল পার হতে হয় নৌকায় চড়ে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরের বালুইগাছা বাঁশগাদা খালের উপর নির্মিত সেতুটির চারপাশে অথৈই পানি। অস্তিত্ব নেই দুই পাশের সংযোগ সড়কের। বিলের মাঝে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটি যেতে চাইলে নৌকা ব্যবহার করতে হয়। কিংবা সাঁতরে যেতে হয়। যদিও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা। তবে এ ধরনের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাই বেতনা নদীর বেঁড়িবাধ থেকে বালুইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কারের মাধ্যমে সেতুর সঙ্গে সংযোগের দাবি স্থানীয়দের। যদি এই এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা না হয় সেক্ষেত্রে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা এই সেতুটি নিছক রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ছাড়া কিছু নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালুইগাছা এলাকার বাঁশগাদা খালের উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস। তবে সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সরকারের অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা বালুইগাছা গ্রামের জামসেদ হোসেন জানান, সেতুটি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়। এটা নিছক সরকারি অর্থ অপচয় করা ছাড়া আর কিছু নয়। যদি সেতুতে যেতে হয় সেক্ষেত্রে নৌকা দিয়ে কিংবা সাঁতার কেটে সেখানে যেতে হয়। এটা সত্যিই হাস্যকর।

তিনি বলেন, প্রতিদিন অনেক স্কুল শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত পারাপার হয়। ফলে সেতুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। শুকনা মৌসুমে কষ্ট করে টুকটাক চলাফেরা সম্ভব হলেও বর্ষার মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সকলকে। এত টাকা দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সেটি স্থানীয় জনসাধারণের কোনো উপকারে আসছে না।

এদিকে, সরকারি অর্থ অপচয়ের বিষয়টি মানতে রাজি নন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইয়ারুল হক।

তিনি বলেন, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুর সুফল ভোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দুইপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে সেতুটির সুফল আরও বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজের দুইপাশে চলাচলের জায়গাটি মাটি দ্বারা ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বৃষ্টির মৌসুম গেলে কাজটি শুরু করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, সদরের বালুইগাছা বাঁশগাদা খালের উপর নির্মিত সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপকারে আসছে না বিষয়টা এমন নয়। সেখানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে পাশাপাশি দুপাশের সংযোগ সড়কও রয়েছে। সেক্ষেত্রে যেটা করতে হবে দুপাশের রাস্তাটা চলাচল উপযোগী করে দিতে হবে। তারপর সেটার পুরোপুরি সুবিধা পাবে বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সেতু আছে সড়ক নেই, খাল পার হতে হয় নৌকায়

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালুইগাছা এলাকার বাঁশগাদা খালের উপর ৩১ লাখ টাকা ব্যয় নির্মিত সেতুটির দুইপাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রচ রোড) না থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে সেতু থাকলেও খাল পার হতে হয় নৌকায় চড়ে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরের বালুইগাছা বাঁশগাদা খালের উপর নির্মিত সেতুটির চারপাশে অথৈই পানি। অস্তিত্ব নেই দুই পাশের সংযোগ সড়কের। বিলের মাঝে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটি যেতে চাইলে নৌকা ব্যবহার করতে হয়। কিংবা সাঁতরে যেতে হয়। যদিও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা। তবে এ ধরনের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাই বেতনা নদীর বেঁড়িবাধ থেকে বালুইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কারের মাধ্যমে সেতুর সঙ্গে সংযোগের দাবি স্থানীয়দের। যদি এই এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা না হয় সেক্ষেত্রে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা এই সেতুটি নিছক রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ছাড়া কিছু নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালুইগাছা এলাকার বাঁশগাদা খালের উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস। তবে সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সরকারের অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা বালুইগাছা গ্রামের জামসেদ হোসেন জানান, সেতুটি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়। এটা নিছক সরকারি অর্থ অপচয় করা ছাড়া আর কিছু নয়। যদি সেতুতে যেতে হয় সেক্ষেত্রে নৌকা দিয়ে কিংবা সাঁতার কেটে সেখানে যেতে হয়। এটা সত্যিই হাস্যকর।

তিনি বলেন, প্রতিদিন অনেক স্কুল শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত পারাপার হয়। ফলে সেতুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। শুকনা মৌসুমে কষ্ট করে টুকটাক চলাফেরা সম্ভব হলেও বর্ষার মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সকলকে। এত টাকা দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সেটি স্থানীয় জনসাধারণের কোনো উপকারে আসছে না।

এদিকে, সরকারি অর্থ অপচয়ের বিষয়টি মানতে রাজি নন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইয়ারুল হক।

তিনি বলেন, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুর সুফল ভোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দুইপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে সেতুটির সুফল আরও বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজের দুইপাশে চলাচলের জায়গাটি মাটি দ্বারা ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বৃষ্টির মৌসুম গেলে কাজটি শুরু করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, সদরের বালুইগাছা বাঁশগাদা খালের উপর নির্মিত সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপকারে আসছে না বিষয়টা এমন নয়। সেখানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে পাশাপাশি দুপাশের সংযোগ সড়কও রয়েছে। সেক্ষেত্রে যেটা করতে হবে দুপাশের রাস্তাটা চলাচল উপযোগী করে দিতে হবে। তারপর সেটার পুরোপুরি সুবিধা পাবে বাসিন্দারা।