সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

বিরামপুরে অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রতনপুর জমিদার বাড়ি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রয়েছে বহু দর্শনীয় স্থান। এমনই একটি স্থাপনা রতনপুর জমিদার বাড়ি। জমিদার বংশের শেষ নিদর্শন বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে বিষণ্ণ মৌনতায়। অযত্ন আর অবহেলায় এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। দর্শনার্থীরা জমিদারবাড়ির ভগ্নাংশ দেখে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরআগে জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবরকম প্রচেষ্টা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন উপজেলা প্রশাসন। বিরামপুর শহর হতে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

জানা যায়, বিরামপুরসহ আশপাশে অঞ্চলগুলোতে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার জন্য অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরা ফুলবাড়ি জমিদারের পক্ষে রাজকুমার সরকারকে রতনপুর কাচারিতে পাঠান। সাধারণ খাজনা আদায়কারী থেকে জমিদার বনে যান তিনি। পরে তিনি বিলাসবহুল সুদৃশ্য দ্বিতল অট্টালিকা নির্মাণ করেন। কিন্তু তার এ সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তার এক ছেলে রতন পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে তার অন্য ছেলে রখুনি কান্ত বাবু জমিদার হন। ‘৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে রখুনি কান্ত বাবু সস্ত্রীক কলকাতায় পাড়ি জমান। বর্তমানে রখুনি কান্ত বাবুর জমিদার বাড়ির পাশে রয়েছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা, মসজিদ, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশাল একটি পুকুর। রখুনি কান্ত বাবুর ১২০০ বিঘা জমি ফলদ, বনজ ও ওষধি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে অনেক সম্পত্তি বিলীন ও বেদখল হয়ে গেছে। শুধু বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুগ যুগ ধরে এই জমিদার বাড়িটি মেরামত ও সংস্কার না করায় তা ধ্বংস হতে চলছে। এটি সংস্কারের মাধ্যমে প্রত্নত্তাত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করার দাবি এলাকাবাসীর।

বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের খায়রুল আলম রাজু জানান, এ অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে রতনপুর জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানাই।

অপূর্ব সৌন্দর্যে মোড়া জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে জমিদারবাড়িটি উপজেলা প্রশাসন থেকে সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কালের সাক্ষী রতনপুর জমিদার বাড়িটি এলাকাবাসী সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রতনপুর জমিদার বাড়ি

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রয়েছে বহু দর্শনীয় স্থান। এমনই একটি স্থাপনা রতনপুর জমিদার বাড়ি। জমিদার বংশের শেষ নিদর্শন বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে বিষণ্ণ মৌনতায়। অযত্ন আর অবহেলায় এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। দর্শনার্থীরা জমিদারবাড়ির ভগ্নাংশ দেখে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরআগে জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবরকম প্রচেষ্টা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন উপজেলা প্রশাসন। বিরামপুর শহর হতে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

জানা যায়, বিরামপুরসহ আশপাশে অঞ্চলগুলোতে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার জন্য অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরা ফুলবাড়ি জমিদারের পক্ষে রাজকুমার সরকারকে রতনপুর কাচারিতে পাঠান। সাধারণ খাজনা আদায়কারী থেকে জমিদার বনে যান তিনি। পরে তিনি বিলাসবহুল সুদৃশ্য দ্বিতল অট্টালিকা নির্মাণ করেন। কিন্তু তার এ সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তার এক ছেলে রতন পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে তার অন্য ছেলে রখুনি কান্ত বাবু জমিদার হন। ‘৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে রখুনি কান্ত বাবু সস্ত্রীক কলকাতায় পাড়ি জমান। বর্তমানে রখুনি কান্ত বাবুর জমিদার বাড়ির পাশে রয়েছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা, মসজিদ, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশাল একটি পুকুর। রখুনি কান্ত বাবুর ১২০০ বিঘা জমি ফলদ, বনজ ও ওষধি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে অনেক সম্পত্তি বিলীন ও বেদখল হয়ে গেছে। শুধু বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুগ যুগ ধরে এই জমিদার বাড়িটি মেরামত ও সংস্কার না করায় তা ধ্বংস হতে চলছে। এটি সংস্কারের মাধ্যমে প্রত্নত্তাত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করার দাবি এলাকাবাসীর।

বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের খায়রুল আলম রাজু জানান, এ অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে রতনপুর জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানাই।

অপূর্ব সৌন্দর্যে মোড়া জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে জমিদারবাড়িটি উপজেলা প্রশাসন থেকে সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কালের সাক্ষী রতনপুর জমিদার বাড়িটি এলাকাবাসী সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।