সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

পালটাপালটি ৯৮ কমিটি সাদিক-খোকনদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩ ১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ পালটাপালটি ৯৮ কমিটি ঘোষণা নিয়ে উত্তেজনা চলছে বরিশালে। বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত অনুসারী ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এসব কমিটি।

যদিও দুপক্ষের কেউ গঠিত কমিটির তালিকা কিংবা অনুমোদনের কোনো কপি প্রকাশ করেনি। তবু পুরোদমে চলছে কথিত পালটাপালটি কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের অভিনন্দন জানানোর প্রতিযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা এ লড়াইয়ের রেশ ছড়াচ্ছে মাঠেও।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে খোকনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আর সাদিকের না পাওয়া নিয়ে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে বরিশাল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পুরোটা সময় থাকা এ বিভক্তি এখনো চলছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে ১৫ মে বাতিল হয় মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি।

গত বছর ২৩ জুলাই ঘোষিত ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাদিক অনুসারী রইজ আহম্মেদ মান্না। খোকন-সাদিক দ্বন্দ্বে ১২ নেতাকর্মীসহ কিছু দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছে তাকে। সপ্তাহখানেক আগে গুজব ছড়ায় পেছনের তারিখ দেখিয়ে সব ইউনিট কমিটি ঘোষণার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বাতিল হওয়া কমিটির নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক রইজ আহম্মেদ মান্না বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পরপরই আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কলেজ কমিটি করার কাজ শুরু করি। পর্যায়ক্রমে ৩০ ওয়ার্ড, ১৬ কলেজ এবং ৩ থানা কমিটি গঠন করা হয়। কথা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটির নেতাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। কিন্তু বিসিসি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হওয়ায় তা করা যায়নি। মহানগর ছাত্রলীগের বৈধ কমিটিই এসব ইউনিট কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

তার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে খোকন অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান বলেন, পুরো বিষয়টি একটা জালিয়াতি। এখানে ছাত্রলীগের ৪৯ ইউনিট কমিটি গঠিত হলো অথচ কেউ জানল না? কমিটি করতে হলে সম্মেলন হতে হয়। সেই সম্মেলন কবে হলো? কোনো খবরের কাগজ কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত একটা খবর কি তারা দেখাতে পারবেন? এটা আসলে মাঠ দখলে রাখার চক্রান্ত। ব্যাক ডেটে কমিটি গঠন দেখিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি ধ্বংস করতে চাইছেন তারা।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি বলেন, পালটাপালটি ৯৮ কমিটি ফেসবুকে ছড়ালেও প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এসব কমিটির অনুমোদন দিল? এখানে কেন্দ্র যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে হয়তো একটা ফলাফল আসতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা তদন্ত করে বলতে পারবে কোনটা সঠিক।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, সদ্য বিলুপ্ত হওয়া মহানগর কমিটি তাদের দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকটি ইউনিট কমিটি গঠন করেছে বলে আমরা জানি। সেসব কমিটি তাদের দায়িত্বও পালন করছে। এর বাইরে যদি কেউ ফেসবুকে কমিটি ঘোষণা দিয়ে নিজে নিজে নেতা হওয়ার চেষ্টা করেন তবে তা ছাত্রলীগের জন্য অসম্মানজনক। এসব ফেসবুকের নেতা এবং যারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। না হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আইন সেল তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া খুব শিগগিরই বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এখন থেকে একসঙ্গে সব রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছেন সদর আসনের সংসদ-সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম এবং নতুন মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত। শুক্রবার রাতে বরিশালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তারা। হঠাৎ দুই নেতার এ ঘোষণায় নানা আলোচনা চলছে নগরে।

অনেকে বলছেন, রাজনীতির মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার অনুসারীদের ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে এ ঘোষণা। যদিও তা মানতে নারাজ প্রতিমন্ত্রী ও নয়া মেয়রপন্থিরা। তাদের দাবি, বরিশালে এতদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিল একক আধিপত্য। এক নেতার সেই প্রথা ভেঙে দলে গণতান্ত্রিক ধারা চালু করতেই দুই নেতার এমন উদ্যোগ। এর মাধ্যমে এখানে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি লস্কর নুরুল হক বলেন, বরিশালের উন্নয়ন প্রশ্নেই এই ঐক্য জরুরি। সদরের এমপি আর মেয়র যদি একসঙ্গে থাকেন তাহলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন তরান্বিত হবে। তাছাড়া দলেও প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পালটাপালটি ৯৮ কমিটি সাদিক-খোকনদের

আপডেট সময় : ১০:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ পালটাপালটি ৯৮ কমিটি ঘোষণা নিয়ে উত্তেজনা চলছে বরিশালে। বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত অনুসারী ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এসব কমিটি।

যদিও দুপক্ষের কেউ গঠিত কমিটির তালিকা কিংবা অনুমোদনের কোনো কপি প্রকাশ করেনি। তবু পুরোদমে চলছে কথিত পালটাপালটি কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের অভিনন্দন জানানোর প্রতিযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা এ লড়াইয়ের রেশ ছড়াচ্ছে মাঠেও।

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে খোকনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আর সাদিকের না পাওয়া নিয়ে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে বরিশাল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পুরোটা সময় থাকা এ বিভক্তি এখনো চলছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে ১৫ মে বাতিল হয় মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি।

গত বছর ২৩ জুলাই ঘোষিত ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাদিক অনুসারী রইজ আহম্মেদ মান্না। খোকন-সাদিক দ্বন্দ্বে ১২ নেতাকর্মীসহ কিছু দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছে তাকে। সপ্তাহখানেক আগে গুজব ছড়ায় পেছনের তারিখ দেখিয়ে সব ইউনিট কমিটি ঘোষণার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বাতিল হওয়া কমিটির নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক রইজ আহম্মেদ মান্না বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পরপরই আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কলেজ কমিটি করার কাজ শুরু করি। পর্যায়ক্রমে ৩০ ওয়ার্ড, ১৬ কলেজ এবং ৩ থানা কমিটি গঠন করা হয়। কথা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কমিটির নেতাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। কিন্তু বিসিসি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হওয়ায় তা করা যায়নি। মহানগর ছাত্রলীগের বৈধ কমিটিই এসব ইউনিট কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

তার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে খোকন অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান বলেন, পুরো বিষয়টি একটা জালিয়াতি। এখানে ছাত্রলীগের ৪৯ ইউনিট কমিটি গঠিত হলো অথচ কেউ জানল না? কমিটি করতে হলে সম্মেলন হতে হয়। সেই সম্মেলন কবে হলো? কোনো খবরের কাগজ কিংবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত একটা খবর কি তারা দেখাতে পারবেন? এটা আসলে মাঠ দখলে রাখার চক্রান্ত। ব্যাক ডেটে কমিটি গঠন দেখিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি ধ্বংস করতে চাইছেন তারা।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি বলেন, পালটাপালটি ৯৮ কমিটি ফেসবুকে ছড়ালেও প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এসব কমিটির অনুমোদন দিল? এখানে কেন্দ্র যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে হয়তো একটা ফলাফল আসতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা তদন্ত করে বলতে পারবে কোনটা সঠিক।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, সদ্য বিলুপ্ত হওয়া মহানগর কমিটি তাদের দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকটি ইউনিট কমিটি গঠন করেছে বলে আমরা জানি। সেসব কমিটি তাদের দায়িত্বও পালন করছে। এর বাইরে যদি কেউ ফেসবুকে কমিটি ঘোষণা দিয়ে নিজে নিজে নেতা হওয়ার চেষ্টা করেন তবে তা ছাত্রলীগের জন্য অসম্মানজনক। এসব ফেসবুকের নেতা এবং যারা অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। না হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আইন সেল তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া খুব শিগগিরই বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এখন থেকে একসঙ্গে সব রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছেন সদর আসনের সংসদ-সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম এবং নতুন মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত। শুক্রবার রাতে বরিশালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তারা। হঠাৎ দুই নেতার এ ঘোষণায় নানা আলোচনা চলছে নগরে।

অনেকে বলছেন, রাজনীতির মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার অনুসারীদের ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে এ ঘোষণা। যদিও তা মানতে নারাজ প্রতিমন্ত্রী ও নয়া মেয়রপন্থিরা। তাদের দাবি, বরিশালে এতদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিল একক আধিপত্য। এক নেতার সেই প্রথা ভেঙে দলে গণতান্ত্রিক ধারা চালু করতেই দুই নেতার এমন উদ্যোগ। এর মাধ্যমে এখানে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি লস্কর নুরুল হক বলেন, বরিশালের উন্নয়ন প্রশ্নেই এই ঐক্য জরুরি। সদরের এমপি আর মেয়র যদি একসঙ্গে থাকেন তাহলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন তরান্বিত হবে। তাছাড়া দলেও প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র।