নতুন ইতিহাসের পথে তাপস বিএনপির ভোট তার ঘরে
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০২৩ ১৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস এর নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। লক্ষ্য দলের মনোনীত মেয়রপ্রার্থীকে বিজয়ী করা। দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, গত নির্বাচনের চেয়ে এবার নির্বাচনী পরিবেশ ইকবাল হোসেন তাপস এর অনুকূলেই রয়েছে। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবার সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারপরে অংশ নেয়া মেয়রপ্রার্থীদের জয় পরাজয়ের একমাত্র সম্ভল বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক। একমাত্র বিএনপি ছাড়া নিজ্স্ব সর্বচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার মতো সক্ষমতা অন্য দলের প্রার্থীদের নেই। তাই দলীয় ভোট ছাড়াও বিএনপির ভোটারদের কাছেই সব প্রার্থীর ভোট প্রার্থণার আবেদন অব্যাহত রয়েছে। এসব দিকে বিবেচনা করলে দেখাযায়, নানা কারণে বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীসমর্থকরা ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন।
জাপা মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস সৎ ও সাহসী নেতা হিসেবে নগরবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে হেরে গেলেও বরিশাল থেকে হারিয়ে যাননি তাপস। সিটি করপোরেশনের ক্ষমতায় না থেকেও নিজস্ব অর্থায়ণে নগরীর অসহায় দুস্থ পরিবারে সাধ্যমতো পাশে দাড়িয়েছেন। আর তাপসের সহযোগীতা ছিলো কোন দল কেন্দ্রীক নয় বরং বিপদগ্রস্থ্য ব্যক্তিকে সহযোগীতা করতে গিয়ে কে কোন দলের সাপোর্ট করেন তা মাথায় আনেননি। এখানকার আওয়ামী লীগ বিএনপি সহ সব দলের কর্মীসমর্থকরা তাকে ভোট দিবেন এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন তাপস। এরমধ্যে বিএনপির একটি বিশাল সমর্থণ ইকবাল হোসেন তাপসের পক্ষেই যাচ্ছে বলে নগরে বেশ আলোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইকবাল হোসেন তাপস গত এক বছর আগে থেকে দলের নমিনেশন কনফার্ম করে বরিশাল নগরের সাংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে যেসব ভুলবোঝা বুঝি ছিলো তারও সমাধান করে একসাথে সাধারণ মানুষের সাথে বছরজুড়ে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। মানবসেবা আরো বৃদ্ধি করার জন্য গত বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন বরিশাল ফরএভার লিভিং সোসাইটি সেবাকেন্দ্র। যেখান থেকে কয়েক হাজার নারী ও শিক্ষিত যুবক সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সহ নানা সুযোগ সুবিধা পেয়ে উপকৃত হয়েছে। এই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মুলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সহ বিভিন্ন দলের সমর্থকরা উপকৃত হওয়ায় ব্যক্তি ইকবাল হোসেন তাপস প্রশংসা পাচ্ছেন।
বরিশাল বিএনপির কর্ণধর সাবেক এমপি ও সাবেক মেয়র এ্যড. মজিবুর রহমান সরোয়ার অনুসারী মাঠপর্যায়ের কর্মীসমর্থকরা নানা কৌশলে ইকবাল হোসেন তাপস এর পক্ষে লাঙ্গল প্রতীকের গণসংযোগ করে আসছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রকাশ্যে না এসে এসব নেতা কর্মীরা নিরবে তাপসের লাঙ্গলে ভোট চাইছেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি প্রতি বছর বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও তারও রয়েছে ২৫-৩০ হাজার নিজস্ব ভোট। সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সাথে অনেক সিনিয়র নেতারই তেমন ভালো সক্ষতা ছিলো না ফলে এই নেতার সমর্থকরা আহসান হাবিব কামালের ছেলে সতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল হাসান রুপনকে সমার্থন করবেনা বলেই অনেকের ধারণা।
অপরদিকে, ইকবাল হোসেন তাপস এর ছোট ভাই এইচ এম তসলিম উদ্দিন কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব রয়েছেন। এইচ এম তসলিম উদ্দিন বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজপথে তার যেমন শক্ত অবস্থান রয়েছে তেমনই বিএনপির মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সাথেও রয়েছে সুসম্পর্ক। এইচ এম তসলিম উদ্দিনের ভক্ত-সমর্থকরা বড় ভাই ইকবাল হোসেন তাপসের পক্ষেই ভোট দিবে বলে শোনা যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইকবাল হোসেন তাপস এর নির্বাচনী মাঠের একাধিক সভা সমাবেশের বক্তব্য গুলো অনেকটাই বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সাথে মিলে যাওয়াতে সরকার বিরোধী সমর্থকরাও তাপসের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে বিএনপির মোট ভোটের বৃহৎ একটি অংশ ইকবাল হোসেন তাপসের পক্ষে আসবে বলে ধারণা সচেতন মহলের। সেদিক থেকে বিশ্লেষণ করলে নির্বাচনী হিসেব নিকেশে ইকবাল হোসেন তাপস অন্য প্রার্থীর দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির উপর।
আগামী ১২ জুন সোমবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। শহরে আইন শৃংখলা বাহিনীর টহল দেখা গেছে।১০ জুন সর্বশেষ প্রচারে হাজার হাজার নারী পুরুষদের শ্লোগানে মুখরিত হয়েছে নগরী।লাঙ্গলের শ্লোগানে সবার দৃষ্টিতে পড়েছেন প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস। নতুন ও তরুণ প্রজন্মের আস্হা অর্জন করেছেন তিনি।সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বরিশালে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে আর সেই ইতিহাসের নায়ক হবেন তাপস।
৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটির মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৫। এর মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের তুলনায় বেশি। নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭১ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৪ জন।


























