সংবাদ শিরোনাম ::
মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বানারীপাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিসিসির ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা *‘স্মার্ট, সবুজ ও জনবান্ধব বরিশাল’ গড়ার অঙ্গীকার ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে নলছিটিতে মানববন্ধন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ঝালকাঠিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ননদের জামাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত, গৃহবধূর দাবি আত্মরক্ষা বরিশালে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে খুশি মালিকরা, প্রশংসিত কাউনিয়া থানা পুলিশ

আশ্রায়নের ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম সিএ রাজিবের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : নলছিটিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রায়নের ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় আশ্রায়নের নির্মাণকৃত ঘরের তদারককারী সিএ রাজিবের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার সময় নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের শেখরকাঠি গ্রামের কাঠেরঘর নামক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা এই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সিএ রাজিবের অপসারন দাবি করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

সূত্রে জানাগেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘর নির্মানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠির একাধিক উপজেলাতেও ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য এই ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের শেখেরকাঠি গ্রামের কাঠেরঘর সংলগ্ন স্থানে ৪১টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। নলছিটির তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী কাম সিএ রাজিব চক্রবর্তীকে দায়িত্ব এই ঘর নির্মানের দায়িত্ব প্রদান করেন।

কিন্তু সিএ রাজিব চক্রবর্তী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে মেতে উঠেন। তিনি ইটভাটা থেকে নিম্নমানের (পাজার) ইট দিয়ে ঘর নির্মানের কাজ করেন। এছাড়াও বালু ভরাটে অনিয়ম, প্রয়োজনমতো রড না দেয়া, টোপ বালু ব্যবহার না করে মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে ঘর নির্মানের কাজ চালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সাধারন জনগন একাধিকবার তাকে সতর্ক করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানান। কিন্তু সুযোগ সন্ধানি দুর্নীতি ও অনিয়মের মূলহোতা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারকে ম্যানেজ করে তার অনিয়ম-দুর্নীতি বজায় রাখেন। এছাড়াও রাজিব চক্রবর্তী ঘর নির্মানের স্থানের বড় বড় গাছ কোনপ্রকার টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রী করেন। যা সম্পূর্ন বেআইনি।

মানববন্ধনে উপস্থিত দপদপিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এসাহাক আলী হাওলাদার বলেন, রাজিব একজন দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি। তিনি নিম্নসামগ্রী ব্যবহার করে ঘর নির্মান করে আশ্রয়হীনদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। তিনি বলেন এসব দুর্নীতিবাজরা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বদনাম করাচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজদের বিচার হওয়া উচিত। মানববন্ধনে উপস্থিত প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ দরিদ্র জনসাধারনের জীবন ঝুঁকিরমধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের হোতা রাজিবের অপসারন ও বিচারের দাবি জানান।

এ ঘটনায় দপদপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাফ হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মান করায় রাজিবকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাজিব কোন কর্নপাত না করায় মাসিক সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরলে তখন রাজিব চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও অদৃশ্য কারনে রাজিব চক্রবর্তীকে আর সরানো হয়নি। আর রাজিব তার কাজে অনিয়ম -দুর্নীতি বজায় রেখে অর্থ লোপাট করেন। তিনি আরো জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আশ্রয়নের ঘর নির্মান করায় যেকোন সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘরে বসবাস করা খুবই ঝুঁকিপূর্ন।

তবে অভিযুক্ত সিএ রাজিব চক্রবর্তি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান তিনি কিছু জানেন না। তবে তাকে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহার করা ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কেটে বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আশ্রায়নের ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম সিএ রাজিবের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন-প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট সময় : ০২:৩০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : নলছিটিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রায়নের ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় আশ্রায়নের নির্মাণকৃত ঘরের তদারককারী সিএ রাজিবের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার সময় নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের শেখরকাঠি গ্রামের কাঠেরঘর নামক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা এই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সিএ রাজিবের অপসারন দাবি করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

সূত্রে জানাগেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘর নির্মানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠির একাধিক উপজেলাতেও ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য এই ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের শেখেরকাঠি গ্রামের কাঠেরঘর সংলগ্ন স্থানে ৪১টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। নলছিটির তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী কাম সিএ রাজিব চক্রবর্তীকে দায়িত্ব এই ঘর নির্মানের দায়িত্ব প্রদান করেন।

কিন্তু সিএ রাজিব চক্রবর্তী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে মেতে উঠেন। তিনি ইটভাটা থেকে নিম্নমানের (পাজার) ইট দিয়ে ঘর নির্মানের কাজ করেন। এছাড়াও বালু ভরাটে অনিয়ম, প্রয়োজনমতো রড না দেয়া, টোপ বালু ব্যবহার না করে মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে ঘর নির্মানের কাজ চালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সাধারন জনগন একাধিকবার তাকে সতর্ক করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানান। কিন্তু সুযোগ সন্ধানি দুর্নীতি ও অনিয়মের মূলহোতা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারকে ম্যানেজ করে তার অনিয়ম-দুর্নীতি বজায় রাখেন। এছাড়াও রাজিব চক্রবর্তী ঘর নির্মানের স্থানের বড় বড় গাছ কোনপ্রকার টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রী করেন। যা সম্পূর্ন বেআইনি।

মানববন্ধনে উপস্থিত দপদপিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এসাহাক আলী হাওলাদার বলেন, রাজিব একজন দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি। তিনি নিম্নসামগ্রী ব্যবহার করে ঘর নির্মান করে আশ্রয়হীনদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। তিনি বলেন এসব দুর্নীতিবাজরা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বদনাম করাচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজদের বিচার হওয়া উচিত। মানববন্ধনে উপস্থিত প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ দরিদ্র জনসাধারনের জীবন ঝুঁকিরমধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের হোতা রাজিবের অপসারন ও বিচারের দাবি জানান।

এ ঘটনায় দপদপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাফ হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মান করায় রাজিবকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাজিব কোন কর্নপাত না করায় মাসিক সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরলে তখন রাজিব চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও অদৃশ্য কারনে রাজিব চক্রবর্তীকে আর সরানো হয়নি। আর রাজিব তার কাজে অনিয়ম -দুর্নীতি বজায় রেখে অর্থ লোপাট করেন। তিনি আরো জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আশ্রয়নের ঘর নির্মান করায় যেকোন সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘরে বসবাস করা খুবই ঝুঁকিপূর্ন।

তবে অভিযুক্ত সিএ রাজিব চক্রবর্তি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান তিনি কিছু জানেন না। তবে তাকে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহার করা ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কেটে বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।