সংবাদ শিরোনাম ::
ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বানারীপাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাবুগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ও চাদপাশা দুই ইউনিয়নের ১ কোটি ৭৫ লাখ ৬৭,৯৮১ টাকা ব্যয়ে নির্মাধীন সংযোগ গার্ডার ব্রিজের নির্মানের কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি।

ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই এলাকা বাসীসহ হাজারও মানুষ। উপজেলার রহমতপুর ও চাদপাশা ইউনিয়নের নোমর হাট এলাকার রাজার ব্যার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জনসাধারণের যাতায়াত।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ অঞ্চলের বাবুগঞ্জে রাজার ব্যার খালের ওপর আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন বরিশাল এলজিইডি। এতে ওই ব্রিজের কাজ পান বরিশালের মেসার্স রূপালী কনেষ্ট্রাকশন।

স্থানীয় মোঃ মনির হোসেন বলেন, হঠাৎ করে একদিন ঠিকাদারের লোক এসে পুরাতন ব্রিজটি ভাঙ্গা শুরু করে, ভাঙ্গার কারন জানতে চাইলে বলে নতুন ব্রিজ হবে। এতে দুই ইউনিয়নের মানুষ খুব খুশি হয়। কারন এটাকে দুই ইউনিয়নের সংযোগ সেতু বলা হয়। এ ব্রিজ দিয়ে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চলাচল। এ ব্রিজ ব্যাবহার করে আমরা চাদপাশা ইউনিয়নের মানুষ রহমতপুর ইউনিয়নে তথা উপজেলা সদরে ও জেলা শহরে চলাচল করি। কাজ শুরুর তিন বছর অতিক্রম হলেও অদৃশ্য কারনে ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতরত শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে কাঠের সাকো পাড় হয়ে স্কুল কলেজে যাতায়াত করি, আমাদের এখান দিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয়, গত বর্ষায় খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠের ব্রিজটি প্রায়শই পানির নিচে তলিয়ে থাকতো, ঝুকি নিয়ে পাড় হতে গিয়ে ভিজে স্কুলে যেতাম।

স্থানীয় সোহরাব হোসেন বলেন, ব্রিজটি নির্মান না হওয়ার কারনে, আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটা অসুস্থ রোগী নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা উপজেলা শহরে যেতে পারি না। ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে সমস্যায় হয়। কাঠের ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে অনেক মানুষের হাত পা ভাঙছে। মারাত্মক ঝুকি নিয়ে এখান দিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয় কাজী মোঃ শাহজাহানের ভাষ্য, নির্মানাধীন ব্রিজটির কাজ করেন না কেন জিজ্ঞেস করলে, ঠিকাদার বলে আপনারা আসছেন কেন? কাজ আমার গতিতে করব, আপনাদের কথায় করব। ঠিকাদার সাধারন জনগনকে আরো বলে আপনারা কি আমার কাছে চাদা দাবি করতে এসেছেন। আমি একজন অ্যাডভোকেট আমাকে আইন শিখাইতে আসছেন নাকি, আইনে লড়াই করব।

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিলন মৃধা বলেন, ব্রিজটির কাজ শুরু থেকেই ধীর গতি, তিন বছর ধরে ব্রিজটির অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয় নি। নির্মানাধীন ব্রিজের পাশ দিয়ে সময়িক চলাচলের জন্য কাঠ দিয়ে কোন রকম একটি শাকো তৈরি করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ্য দিনে কাঠ নষ্ঠ হয়ে যাওয়ায় চলাচলের সময় সেখান থেকে খালে পরে প্রায়ই ঘটছে হাত, পা ভাঙার মত দূর্ঘটনা। তিনি দ্রুত ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান কতৃপক্ষকে।

এলজিইডির বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আগের ডিজাইন পরিবর্তীত হয়েছে, ব্রিজটির ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ার কারনে সময় লেগেছে। তবে আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যে ব্রিজটির নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, ব্রিজটির আগের ডিজাইন পরিবর্তিত হয়ে, নতুন ডিজাইনে ব্রিজটির কাজ চলমান, বর্তমানে সেন্টারিং এর কাজ চলছে, আগামী এক দের মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন জোড়া পুল সংলগ্ন প্রধান মন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ন প্রকল্পের ৬৫ টি ঘর রয়েছে, সুবিধাভোগী মানুষগুলো ওখান দিয়ে যাতায়াত করে, ব্রিজের নির্মান কাজ বিলম্বিত হওয়ার কারন আমি এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্রিজটির ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ায় সময় লেগেছে, আগামী জানুয়ারির মধ্যে নির্মান কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরো বলেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ও চাদপাশা দুই ইউনিয়নের ১ কোটি ৭৫ লাখ ৬৭,৯৮১ টাকা ব্যয়ে নির্মাধীন সংযোগ গার্ডার ব্রিজের নির্মানের কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি।

ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই এলাকা বাসীসহ হাজারও মানুষ। উপজেলার রহমতপুর ও চাদপাশা ইউনিয়নের নোমর হাট এলাকার রাজার ব্যার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জনসাধারণের যাতায়াত।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ অঞ্চলের বাবুগঞ্জে রাজার ব্যার খালের ওপর আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন বরিশাল এলজিইডি। এতে ওই ব্রিজের কাজ পান বরিশালের মেসার্স রূপালী কনেষ্ট্রাকশন।

স্থানীয় মোঃ মনির হোসেন বলেন, হঠাৎ করে একদিন ঠিকাদারের লোক এসে পুরাতন ব্রিজটি ভাঙ্গা শুরু করে, ভাঙ্গার কারন জানতে চাইলে বলে নতুন ব্রিজ হবে। এতে দুই ইউনিয়নের মানুষ খুব খুশি হয়। কারন এটাকে দুই ইউনিয়নের সংযোগ সেতু বলা হয়। এ ব্রিজ দিয়ে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চলাচল। এ ব্রিজ ব্যাবহার করে আমরা চাদপাশা ইউনিয়নের মানুষ রহমতপুর ইউনিয়নে তথা উপজেলা সদরে ও জেলা শহরে চলাচল করি। কাজ শুরুর তিন বছর অতিক্রম হলেও অদৃশ্য কারনে ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতরত শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে কাঠের সাকো পাড় হয়ে স্কুল কলেজে যাতায়াত করি, আমাদের এখান দিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয়, গত বর্ষায় খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠের ব্রিজটি প্রায়শই পানির নিচে তলিয়ে থাকতো, ঝুকি নিয়ে পাড় হতে গিয়ে ভিজে স্কুলে যেতাম।

স্থানীয় সোহরাব হোসেন বলেন, ব্রিজটি নির্মান না হওয়ার কারনে, আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটা অসুস্থ রোগী নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা উপজেলা শহরে যেতে পারি না। ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে সমস্যায় হয়। কাঠের ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে অনেক মানুষের হাত পা ভাঙছে। মারাত্মক ঝুকি নিয়ে এখান দিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয় কাজী মোঃ শাহজাহানের ভাষ্য, নির্মানাধীন ব্রিজটির কাজ করেন না কেন জিজ্ঞেস করলে, ঠিকাদার বলে আপনারা আসছেন কেন? কাজ আমার গতিতে করব, আপনাদের কথায় করব। ঠিকাদার সাধারন জনগনকে আরো বলে আপনারা কি আমার কাছে চাদা দাবি করতে এসেছেন। আমি একজন অ্যাডভোকেট আমাকে আইন শিখাইতে আসছেন নাকি, আইনে লড়াই করব।

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিলন মৃধা বলেন, ব্রিজটির কাজ শুরু থেকেই ধীর গতি, তিন বছর ধরে ব্রিজটির অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয় নি। নির্মানাধীন ব্রিজের পাশ দিয়ে সময়িক চলাচলের জন্য কাঠ দিয়ে কোন রকম একটি শাকো তৈরি করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ্য দিনে কাঠ নষ্ঠ হয়ে যাওয়ায় চলাচলের সময় সেখান থেকে খালে পরে প্রায়ই ঘটছে হাত, পা ভাঙার মত দূর্ঘটনা। তিনি দ্রুত ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান কতৃপক্ষকে।

এলজিইডির বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আগের ডিজাইন পরিবর্তীত হয়েছে, ব্রিজটির ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ার কারনে সময় লেগেছে। তবে আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যে ব্রিজটির নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, ব্রিজটির আগের ডিজাইন পরিবর্তিত হয়ে, নতুন ডিজাইনে ব্রিজটির কাজ চলমান, বর্তমানে সেন্টারিং এর কাজ চলছে, আগামী এক দের মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন জোড়া পুল সংলগ্ন প্রধান মন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ন প্রকল্পের ৬৫ টি ঘর রয়েছে, সুবিধাভোগী মানুষগুলো ওখান দিয়ে যাতায়াত করে, ব্রিজের নির্মান কাজ বিলম্বিত হওয়ার কারন আমি এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্রিজটির ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ায় সময় লেগেছে, আগামী জানুয়ারির মধ্যে নির্মান কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরো বলেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।