আগৈলঝাড়ায় নাটকীয় আত্মহত্যার জন্য কবর খুঁড়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

বি এম মনির হোসেনঃ-
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভাইয়ের সাথে পাকা ভবনের মালিকানার দদ্বের জের ধরে নিজের জন্য কবর খুড়ে এলাকায় নাটকীয়তা সুষ্টি করেছে এক সাবেক ইউপি সদস্য। তার দাবি অনুযায়ি সমস্যার সমাধান না হলে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আরো ৪টি কবর খুড়ে পরিবার সদস্যদের নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ওই ইউপি সদস্য। ভবনের মালিকানার বিষয়ে দুই ভাইয়ের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সরেজমিন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুগুটিয়া গ্রামের মৃত. তোতা তালুকদারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি’র ক্যাডার ডব্লিউ তালুকদার ১০-১২ বছর পূর্বে পৈত্রিক জায়গার একটি এক তলা পাকা ভবন নির্মাণ কাজে হাত দেন। নির্মানের কিছুদিন পরে ধার-দেনার দায়ে ডব্লিউ তালুকদার ওই পাকা ভবন নিজের ভাই বাহালুল তালুকদার ওরফে তারেকের কাছে বিক্রি করেন। বাহালুল তালুকদার ওই ভবন বসবাসের উপযোগী করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি পুণরায় ওই ভবনের মালিকানা দাবি করে ডব্লিউ তালুকদার ভাইয়ের কাছে টাকা দাবী করে আসছে। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান নিজের জন্য একটি কবর খুড়েছে সে। স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আরো ৪টি কবর খুড়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নাটকীয়ভাবে আতœহত্যা করার হুমকিও দিয়েছে ডব্লিউ তালুকদার। এ ঘটনায় চেঙ্গগুটিয়া গ্রামে রহস্য এবং আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে বহুবার ডব্লিউ তালুকদার ঐরাকায় নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছিল। মালিকানা দাবি করে পাকা ভবন ফিরে পেতে ডব্লিউ তালুকদার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার সকালে সরেজমিন উপজেলার চেঙ্গুগুটিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সাবেক ইউপি সদস্য ডব্লিউ তালুকদার আত্মহত্যা করতে একটি কবর খুড়ছেন। ডব্লিউ তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আমি পরিবারসহ ঢাকায় এক বছর পূর্বে বেড়াতে গেলে নিজের নির্মাণ করা পাকা ভবনের তালা ভেঙ্গে বড় ভাই বাহালুল তালুকদার তা দখলে নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করে আসছে। আমার ভবন ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন লোকজনের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন সমাধান পাইনি। যার কারনে আমি বিভিন্ন বাড়িতে ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। ভবনের সমাধান না পেলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যার করার জন্য কবর খুড়েছি। অভিযুক্ত বড় ভাই বাহালুল তালুকদার বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকী জানান, আমরা ২৬ লাখ টাকায় ওই ভবন আমার দেবর ডব্লিউ তালুকদারের কাছ থেকে ক্রয় করে বসবাস করে আসছি। বর্তমানে ডব্লিউ তালুকদার কবর খুড়ে যে নাটক শুরু করেছে তাতে আমি ছেলে নিয়ে আতংকের মধ্যে আছি। যার কারছে আমার ছেলে স্কুলে যেতে পারছে না। আমি নিরাপত্তার অভাবে ছেলে নিয়ে গেট বন্ধ করে ভবনের মধ্য থাকি।
এ ব্যাপারে রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদার বলেন, ডব্লিউ তালুকদার আমার পরিষদের ইউপি সদস্য ছিল। ওর বির্তকিত কর্মকান্ডে কারনে এলাকার কেউ ওকে পছন্দ করছে না। ও এখন কবর খুড়ে নাটক শুরু করেছে। ওকে আমি ফোনে কবর খুড়তে নিষেধ করেছি। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ডব্লিউ তালুকদারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কবর খোড়ার কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কবর খোড়ার ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























