প্রেমের বিয়ের মর্মান্তিক পরিণতি
- আপডেট সময় : ০৪:২১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
একই শ্রেণিতে পড়া থেকে সুসম্পর্ক। এরপর প্রেমের সম্পর্ক চলে পাঁচ বছর। তবে মধুর এই সম্পর্কের ছন্দপতন হয় প্রেমিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) চাকরি পাওয়ায়। এতে প্রেমিকা খুশি হলেও তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন প্রেমিক। কমিয়ে দেন যোগাযোগ। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে ফেলা হয় আড়াই মাস আগে বিয়ের মাধ্যমে। সিদ্ধান্তটি প্রেমিকার জন্য পরিণয় নয়, বরং পরিণতির দিকে ধাবিত করে। মেহেদির রং শুকাতে না শুকাতেই শুরু হয় তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বিজিবি সদস্য রনি আলী। টাকা দিতে না পারায় দিনে দিনে বাড়তে থাকে নির্যাতনের মাত্রা। এক পর্যায়ে নববধূর জীবনের ইতি ঘটেছে করুণভাবে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে।
বিজিবি সদস্য রনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের নামো কয়লাদিয়াড় গ্রামের বদিউরের ছেলে। তাঁর বাড়ি থেকে গৃহবধূ উম্মে সালমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত সালমা পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর ইউনিয়নের আবদুর রশিদের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন প্রেম করলেও মেয়েটিকে বিয়ে করা নিয়ে টালবাহানা করছিলেন রনি। এক পর্যায়ে পারিবারিক সালিশে বিষয়টির মীমাংসা হয় এবং তাঁদের বিয়ে হয়। এর পর মেয়েটির সংসারে অশান্তি দেখা দেয় যৌতুক নিয়ে। স্বামীর দাবি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারা এবং প্রেমের সম্পর্কে যৌতুকের বিষয়টি নিয়ে মানসিক পীড়ায় ভুগছিলেন সালমা। এসব তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। এ জন্য হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহতের মা সাবেরা বেগম বলেন, ‘যৌতুকের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমার মেয়েকে তারা হত্যা করেছে। বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। এখন তাকে মেরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বলছে, আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ তবে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে রনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলেন, যৌতুকের জন্য সালমাকে কখনও নির্যাতন করা হয়নি। কোনো কারণ ছাড়াই সে আত্মহত্যা করেছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী জুবায়ের হোসেন বলেন, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখা হবে।


























