সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আহাজারি থামছে না করতোয়ার তীরে, মৃত বেড়ে ৬৪

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। সময় যতই গড়াচ্ছে প্রাণহীন মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে।

উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিন সকাল থেকে এখন আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে। উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের মধ্যে ৬১ জনের পরিচয় জানা সম্ভব হলেও তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মোট ৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানান রেলমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলমন্ত্রী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের মরদেহ সনাক্ত করা যায়নি। সে হিসেবে মৃতদের মধ্যে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ৩৯ জন, দেবীগঞ্জের ১৯ জন, আটোয়ারীর একজন ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দুইজন রয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ১৮ জন, নারী ২৮ ও ১৫ জন পুরুষ।

তিন দিন আগে নৌকাডুবির ওই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। স্বজনদের মরদেহ দেখার জন্য এখনো শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন করতোয়ার তীরে। প্রিয় স্বজনের লাশটি শেষবারের মতো দেখার জন্য বিলাপ করছেন বহু মানুষ। তাদের কান্না আর আহাজারিতে আজও ভারী হয়ে আছে করতোয়া পাড়ের আকাশ।

দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক বলেন, ‘সকাল থেকেই তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রশাসন ও স্থানীয়রা।

পরদিন ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে। এরপর আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হলে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা ও আহতদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আহাজারি থামছে না করতোয়ার তীরে, মৃত বেড়ে ৬৪

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। সময় যতই গড়াচ্ছে প্রাণহীন মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে।

উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিন সকাল থেকে এখন আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে। উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের মধ্যে ৬১ জনের পরিচয় জানা সম্ভব হলেও তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মোট ৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানান রেলমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলমন্ত্রী জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের মরদেহ সনাক্ত করা যায়নি। সে হিসেবে মৃতদের মধ্যে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ৩৯ জন, দেবীগঞ্জের ১৯ জন, আটোয়ারীর একজন ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দুইজন রয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু ১৮ জন, নারী ২৮ ও ১৫ জন পুরুষ।

তিন দিন আগে নৌকাডুবির ওই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। স্বজনদের মরদেহ দেখার জন্য এখনো শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন করতোয়ার তীরে। প্রিয় স্বজনের লাশটি শেষবারের মতো দেখার জন্য বিলাপ করছেন বহু মানুষ। তাদের কান্না আর আহাজারিতে আজও ভারী হয়ে আছে করতোয়া পাড়ের আকাশ।

দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক বলেন, ‘সকাল থেকেই তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রশাসন ও স্থানীয়রা।

পরদিন ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে। এরপর আরও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হলে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা ও আহতদের পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।