সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

ঋণের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপান, স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামীও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২২ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ঋণের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপান, স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামীও
নাটোরের বড়াইগ্রামে সুদের চাপ ও পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়েছেন। এ ঘটনায় স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬) মারা যাওয়ার ১২ ঘণ্টার পর স্বামী ওমর ফারুকও (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ফারুকের মরদেহ নাটোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওমর ফারুক উপজেলার বনপাড়া কালিকাপুর এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং বিথী খাতুন লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের পানঘাটা গ্রামের বাছের উদ্দিনের মেয়ে।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মারা যান। এর আগে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে ফল ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের সঙ্গে বিথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বড়াইগ্রাম হালদারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। ফারুক দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে তাদের সংসারে কলহ চলছিল। তাছাড়া বিভিন্ন এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া ছিল তার। ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় বেশির ভাগ সময় দোকান বন্ধ রেখে তিনি বাসাতেই থাকতেন।

শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট খান। পরে তারা হেঁটে ফারুকের বাবার বাড়িতে যান। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথীর মৃত্যু হয়। পরে ওমর ফারুককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পৌনে ১১টায় দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ফারুকের সঙ্গে থাকা বোন মায়া খাতুন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু চিকিৎসকরা তার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিলেন। মহাজনদের চাপে এক দিনে ভাই-ভাবী দুজনকেই হারালাম। এখন আমার ভাইয়ের সন্তানদের কে দেখবে?

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, ফারুকের দুটি সংসার ছিল। সে তার ছোট স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঋণের দায়ে তারা অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিল। কোনো উপায় না পেয়ে একসঙ্গে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঋণের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপান, স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামীও

আপডেট সময় : ০৮:২২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ঋণের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর বিষপান, স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামীও
নাটোরের বড়াইগ্রামে সুদের চাপ ও পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়েছেন। এ ঘটনায় স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬) মারা যাওয়ার ১২ ঘণ্টার পর স্বামী ওমর ফারুকও (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ফারুকের মরদেহ নাটোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওমর ফারুক উপজেলার বনপাড়া কালিকাপুর এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং বিথী খাতুন লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের পানঘাটা গ্রামের বাছের উদ্দিনের মেয়ে।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মারা যান। এর আগে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে ফল ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের সঙ্গে বিথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর বড়াইগ্রাম হালদারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তারা। ফারুক দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে তাদের সংসারে কলহ চলছিল। তাছাড়া বিভিন্ন এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া ছিল তার। ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় বেশির ভাগ সময় দোকান বন্ধ রেখে তিনি বাসাতেই থাকতেন।

শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ইঁদুর মারার বিষাক্ত ট্যাবলেট খান। পরে তারা হেঁটে ফারুকের বাবার বাড়িতে যান। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথীর মৃত্যু হয়। পরে ওমর ফারুককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পৌনে ১১টায় দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ফারুকের সঙ্গে থাকা বোন মায়া খাতুন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু চিকিৎসকরা তার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিলেন। মহাজনদের চাপে এক দিনে ভাই-ভাবী দুজনকেই হারালাম। এখন আমার ভাইয়ের সন্তানদের কে দেখবে?

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, ফারুকের দুটি সংসার ছিল। সে তার ছোট স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঋণের দায়ে তারা অনেকটাই বিপর্যস্ত ছিল। কোনো উপায় না পেয়ে একসঙ্গে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।