বাবুগঞ্জে উপহারের ঘরে বদলে যাচ্ছে ভূমি ও গৃহহীনদের জীবন
- আপডেট সময় : ১১:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জ ( বরিশাল)ঃ বাবুগঞ্জে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে ভূমি ও গৃহহীন ১৮০ টি পরিবার এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। অবসান হয়েছে মানবেতর জীবন যাপনের। এছাড়াও তৃতীয় ধাপের ৯৪ পরিবারের স্বপ্নের ঘর তৈরি করার কাজ শেষ হয়েছে ২০ জুলাই বুধবার। ২১জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে তা হস্তান্তর করা হবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
বাবুগঞ্জে উপহার পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের পরিবর্তন শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। আর আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের স্বপ্ন পূরণে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদারকি কমিটির তত্ত্ববধায়নে ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ওই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হয়েছে।
যার অগ্রভাগে ছিলেন কমিটির আহবায়ক বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমীনুল ইসলাম, সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন এবং যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা কমিশনার(ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে এবং কোন অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াই যাচাই বাছাই থেকে শুরু করে গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত মোট ২৭৪টি গৃহের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ৪৩টি, কেদারপুর ইউনিয়নে ১৭টি, দেহেরগতি ইউনিয়নে ২৮টি, চাঁদপাশা ইউনিয়নে ৪৯টি, রহমতপুর ইউনিয়নে ৮৬টি এবং মাধবপাশা ইউনিয়নে ৫১টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত রেখে আরো দুটি পরিবারকে দুটি গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। গৃহ নির্মাণ ব্যয়ের অর্থের অর্ধেক যোগান দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল এবং বাকী অর্ধেক দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব।
অপরদিকে একই প্রক্রিয়ায় ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মেঘিয়া গ্রামের মৃতঃ আব্দুল আলী মৃধার(বীর মুক্তিযোদ্ধা) পরিবারকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমীনুল ইসলাম। গৃহের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে মৃতঃ অব্দুল আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগমকে। আর ওই দুটি গৃহের সমন্বয়ে মোট গৃহের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৭৬ টি।
সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকেলে নির্মিত উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গছে ছিন্নমূল পরিবারগুলোর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জীবন যাপনের চিত্র। প্রাপ্ত গৃহের অঙ্গিনায় কেউ করছেন শাক-সবজির আবাদ। কেউবা করছেন হাঁস মুরগি-ছাগল-গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছেন স্কুলে।
তবে অনেকের সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়প্রাপ্ত মানুষগুলো। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া আব্দুস সালাম, মঞ্জুয়ারা বেগম, সাথী দম্পতিসহ আরো অনেকেই জানান, কিছু দিন আগেও ভাবিনি নিজের ভালো একটা ঠিকানা হবে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি। ঘরের আঙ্গিনায় শাক সবজি রোপণ, হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি- সত্যিই এটা স্বপ্নের।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আমীনুল ইসলাম জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের জীবন মান উন্নয়নে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করেছি। এই প্রকল্প পৃথিবীতে একটি রোল মডেল। কারণ এভাবে কোন দেশে আশ্রয়হীনদের জন্য সরকারিভাবে নিরাপদ ছাদ তৈরি করা হয়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছি। বাবুগঞ্জে আমরা আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন স্থানে আশ্রয়নে বসবাসরত লোকজনের সুপেয় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৮০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেয়েছেন। তৃতীয় ধাপের আরো ৯৪টি ঘরের কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।























