সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীরের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন চুয়াডাঙ্গার জেলা জামায়াতের জেলা আমির এমপি রুহুল আমিনের শপথ ঘোড়াঘাটে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট জানাযার খাদ্যের দাম বৃদ্ধি বিপাকে গরুর মালিক ও খামারিরা চুয়াডাঙ্গার বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান!লিখন,পরে মুছন ঝালকাঠিতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ড.জিয়াউদ্দিন হায়দার দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ৭ আসামী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জন নয়, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হতে হবে: জিয়াউদ্দিন হায়দার উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি রাস্তার চার কিলোমিটার এলাকার গাছ লুটের মহোৎসব

যে শহরের ৬ ভাগ মানুষের ৫ ভাগই চালান সাইকেল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মধ্যে সাইকেলের ব্যবহার অনেক বেশি। এটি সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। আবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুততার সঙ্গে যাওয়ার বাহন হিসেবেও সাইকেলের ব্যবহার তুঙ্গে।

তবে জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের এমন একটি শহর আছে যেখানে শুধু সাইকেলই ভরসা। সে শহরে নেই কোনো যানবাহনের ধোঁয়া। ফলে সেখানকার পরিবেশও দূষণমুক্ত।

বলছি ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরের কথা। এ শহরে অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে সাইকেলের সংখ্যা বেশি। এমনও দেখা যায় যে, কারও হয়তো ২-৩টি গাড়ি আছে; তবুও তিনি সাইকেলে চলাচল করেন। কারণ তারা সাইকেলে চলাচল করতেই বেশি আনন্দ উপভোগ করেন।

জানা যায়, কোপেনহেগেনে ৬ লাখ ৭৫ হাজার সাইকেল ও ১ লাখ ২০ হাজার গাড়ি আছে। অর্থাৎ সে শহরের ৬ ভাগের ৫ ভাগ মানুষই সেখানে সাইকেল ব্যবহার করেন। ১৯৭০ সালে সেখানে সাইকেলের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী, কোপেনহেগেনের সাইক্লিস্টরা মোট ১.৪ মিলিয়ন কিলোমিটার সাইকেল চালায়। ২০০৬ সালের পরে এটি আর ২২ শতাংশ বেড়েছে।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশে সাইকেল ব্যবহার করার কারণ কী? সেখানে সাইক্লিংয়ের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো সাইকেলবান্ধব শহর।

কোপেনহেগেন শহর জুড়ে সাইক্লিং সুপার হাইওয়ে ও উদ্ভাবনী সেতুগুলো সবই সাইকেলবান্ধব। সব মিলিয়ে সাইক্লিস্টদের জন্য নিরপদ এক স্থান হলো কোপেনহেগেন।

পাশাপাশি শহরকে কার্বনমুক্ত করার চেষ্টায় সাইকেলবান্ধব নগরী গড়ে তুলেছেন সেখানকার কাউন্সিলর। যাতায়াত খরচ বাঁচানো থেকে শুরু করে সাইকেল চালানোর বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও আছে। সাইক্লিং একটি দুর্দান্ত ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালালে পেশি শক্ত হয়, হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে।

দ্রুত যাতায়াত, যানজট কমানো এবং শাররিক অসুস্থতা কমাতে ডেনমার্কের সাইক্লিং দূতাবাস সাইকেল চালানোর পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণা করে থাকে। সেখানকার সব সাইকেলের দোকানগুলো প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে ক্রেতাদের কাছে সাইকেল বিক্রি করেন।

সাইকেলবান্ধব শহর গড়তে ২০১৭ সালে কোপেনহেগেন অঞ্চলে ৩.৯ কিলোমিটার নতুন পথ, ৬০০ কিলোমিটার সবুজ সাইক্লিং রুট ও ৫টি নতুন সুপার সাইকেল পথ উদ্বোধন করা হয়।

অতিরিক্ত হিসাবে, সাড়ে ৩ হাজার নতুন পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে ও ১২ হাজার ৯০০ পরিত্যক্ত সাইকেল সংগ্রহ করা হয়েছে।

বর্তমানে ডেনমার্কের মতোই প্যারিস, চীনেও সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে। চীনের জিয়ামেন শহর সাইকেলের জন্য একটি ৭.৬ কিলোমিটার এলিভেটেড স্কাইওয়ে তৈরি করেছে।

নেদারল্যান্ডসেও মানুষের চেয়ে বেশি সাইকেল আছে। এমনকি সেখানে সাইকেল চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যে শহরের ৬ ভাগ মানুষের ৫ ভাগই চালান সাইকেল

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

অনলাইন ডেস্ক
বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মধ্যে সাইকেলের ব্যবহার অনেক বেশি। এটি সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। আবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুততার সঙ্গে যাওয়ার বাহন হিসেবেও সাইকেলের ব্যবহার তুঙ্গে।

তবে জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের এমন একটি শহর আছে যেখানে শুধু সাইকেলই ভরসা। সে শহরে নেই কোনো যানবাহনের ধোঁয়া। ফলে সেখানকার পরিবেশও দূষণমুক্ত।

বলছি ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরের কথা। এ শহরে অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে সাইকেলের সংখ্যা বেশি। এমনও দেখা যায় যে, কারও হয়তো ২-৩টি গাড়ি আছে; তবুও তিনি সাইকেলে চলাচল করেন। কারণ তারা সাইকেলে চলাচল করতেই বেশি আনন্দ উপভোগ করেন।

জানা যায়, কোপেনহেগেনে ৬ লাখ ৭৫ হাজার সাইকেল ও ১ লাখ ২০ হাজার গাড়ি আছে। অর্থাৎ সে শহরের ৬ ভাগের ৫ ভাগ মানুষই সেখানে সাইকেল ব্যবহার করেন। ১৯৭০ সালে সেখানে সাইকেলের ব্যবহার বাড়তে থাকে।

২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী, কোপেনহেগেনের সাইক্লিস্টরা মোট ১.৪ মিলিয়ন কিলোমিটার সাইকেল চালায়। ২০০৬ সালের পরে এটি আর ২২ শতাংশ বেড়েছে।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশে সাইকেল ব্যবহার করার কারণ কী? সেখানে সাইক্লিংয়ের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো সাইকেলবান্ধব শহর।

কোপেনহেগেন শহর জুড়ে সাইক্লিং সুপার হাইওয়ে ও উদ্ভাবনী সেতুগুলো সবই সাইকেলবান্ধব। সব মিলিয়ে সাইক্লিস্টদের জন্য নিরপদ এক স্থান হলো কোপেনহেগেন।

পাশাপাশি শহরকে কার্বনমুক্ত করার চেষ্টায় সাইকেলবান্ধব নগরী গড়ে তুলেছেন সেখানকার কাউন্সিলর। যাতায়াত খরচ বাঁচানো থেকে শুরু করে সাইকেল চালানোর বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও আছে। সাইক্লিং একটি দুর্দান্ত ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালালে পেশি শক্ত হয়, হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে।

দ্রুত যাতায়াত, যানজট কমানো এবং শাররিক অসুস্থতা কমাতে ডেনমার্কের সাইক্লিং দূতাবাস সাইকেল চালানোর পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণা করে থাকে। সেখানকার সব সাইকেলের দোকানগুলো প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে ক্রেতাদের কাছে সাইকেল বিক্রি করেন।

সাইকেলবান্ধব শহর গড়তে ২০১৭ সালে কোপেনহেগেন অঞ্চলে ৩.৯ কিলোমিটার নতুন পথ, ৬০০ কিলোমিটার সবুজ সাইক্লিং রুট ও ৫টি নতুন সুপার সাইকেল পথ উদ্বোধন করা হয়।

অতিরিক্ত হিসাবে, সাড়ে ৩ হাজার নতুন পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে ও ১২ হাজার ৯০০ পরিত্যক্ত সাইকেল সংগ্রহ করা হয়েছে।

বর্তমানে ডেনমার্কের মতোই প্যারিস, চীনেও সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে। চীনের জিয়ামেন শহর সাইকেলের জন্য একটি ৭.৬ কিলোমিটার এলিভেটেড স্কাইওয়ে তৈরি করেছে।

নেদারল্যান্ডসেও মানুষের চেয়ে বেশি সাইকেল আছে। এমনকি সেখানে সাইকেল চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার।