শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও শিক্ষার্থীদের নোট গাইডেই ভরসা
- আপডেট সময় : ০২:৪০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর স্কুল খুললেও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছেন নোট গাইডের প্রতি। আর নোট গাইড কেনার জন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ধরিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রকাশনীর লিফলেট।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে ও খোলামেলাভাবে বিক্রি হচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই।
সৃজনশীল ও সহায়ক গ্রন্থ মলাট লাগিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি ক্লাস পর্যন্ত এসব নোট-গাইড বিক্রি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করায় বিক্রেতারা খোলামেলাভাবে এসব নোট-গাইড বিক্রি করছে। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নোট-গাইড প্রকাশ এবং বিক্রি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও বাবুগঞ্জ উপজেলা সদর এলাকায় বাবুগঞ্জ বাজার, কলেজ গেট ও রহমতপুর বাজারের প্রায় ১০টি বইয়ের দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মাধবপাশা বাজার, মোহনগঞ্জ বাজার, পোস্ট অফিস বাজার, আগরপুর বাজার, রাহুতকাঠী বাজার, স্টিমার ঘাট বাজারসহ ছয়টি ইউনিয়নে বিভিন্ন হাটবাজারে আরও একাধিক বইয়ের দোকান রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জননী প্রকাশনী এজেন্ট, ইসলামিয়া এজেন্ট, জুপিটার, লেকচার, অনুপম প্রকাশনীর এজেন্ট থাকায় তাদের বইয়ের দোকানে এসব প্রকাশনীর বই রয়েছে। এরকম প্রতিটি ইউনিয়নের বইয়ের দোকানে চলছে রমরমা নোট-গাইড ব্যবসা।
এসব প্রকাশনীর জোনাল ম্যানেজার ও মার্কেটিং অফিসারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের মোটা অঙ্কের ডোনেশনের মাধ্যমে ম্যানেজ করায় শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নোট-গাইড কিনতে বাধ্য করছে বলে একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন।
৫ম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাবা বলেন, স্কুল খোলার সাথে সাথেই শিক্ষকরা আমার মেয়ের হাতে একটি অনুপম গাইডের একটি লিফটের ধরিয়ে দেন। মেয়ে বাসায় এসে বলে বাবা স্যার এই গাইডটি কিনতে বলেছ। কি আর করবো? শিক্ষকদের কথা মতো গাইডটি কিনে দিয়েছি।
বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৮টি মাদ্রাসা, ৪টি কলেজ, ১০টি কেজি স্কুল রয়েছে। প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে এসব প্রতিষ্ঠানে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মনোনীত নোট-গাইড শিক্ষার্থীরা সংগ্রহ না করলে সে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষাখাতায় কম নম্বর দেয়ার হুমকি প্রদর্শনে শিক্ষার্থীরা ভয়ে নোট-গাইড কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ বই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকাশনী স্কুলের ছাত্র ভেদে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ এক লাখ থেকে সর্বনিম্ম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের নোট-গাইড চালানোর শর্তে ডোনেশন দিয়ে থাকে।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরীন জোবায়দা বলেন, শিক্ষকরা ডোনেশনের বিনিময় নোট-গাইড চালান কিনা তা তার জানা নেই। এ ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম হাওলাদার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ মহসিন কবির,
সেইন্ট বাংলাদেশ এর প্রকল্প অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা অসিত দাস, প্রকল্প সহায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সুষমা হালদার, সায়েদুন্নেচ্ছা।
এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মধ্য ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক গোলাম মোর্শেদ বাচ্চু, মধ্য ভূতেরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান খান প্রমুখ।























