বাকেরগঞ্জে অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিকের ছড়াছড়ি
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ বশির উদ্দিন বাকেরগঞ্জ সংবাদদাতা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে ২০-২৫ টি অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে কোনো লাইসেন্সধারী বা রেজিস্ট্রার ডাক্তার নেই। নেই কোনো অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান সহ বৈধ কাগজপত্র। গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এতে রোগীরা হয়রানির শিকার ও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা। মাঝে মাঝে দুই-একটি ডেন্টাল ক্লিনিক কে মোবাইল কোটের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও অজানা কারণে পরবর্তীতে আরো বেগবান হয়ে চালাচ্ছেন ক্লিনিকের রমরমা ব্যবসা । জরুরি ভিত্তিতে এসব অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিক বন্ধ করা না হলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে রোগীরা।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা জায়। বাকেরগঞ্জ সদর রোড, কলস কাঠী, রবিপুর, কালীগঞ্জ, নিউমার্কেট নিয়ামতি কাকোরদা,কামার খালী, সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় অবৈধভাবে ২৫-৩০ টি ডেন্টাল ক্লিনিক। বাকেরগঞ্জ সদররোডে ১০-১২টি অবৈধ লাইসেন্সবিহীন ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে। এ সব ক্লিনিকে হরদম দাঁতের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এরা গ্রামের কৃষক, দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষকে ধোঁকা দিয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার সেজে বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে সাইন বোর্ড, ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড সহ মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার করে দাঁতের চিকিৎসার নামে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনেক হাতুড়ে চিকিৎসক পঞ্চম শ্রেণি বা অষ্টম শ্রেণি পাস করে কোনো ডাক্তারের সাথে কাজ করেছেন মর্মে এখানে এসে ডাক্তার সেজে কাজ করছেন। অথচ তারা ডেন্টাল সার্জন লিখে চিকিৎসাপত্র দিচ্ছেন। বিনা অনুমতিতে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করছেন তারা ।
একাধিক ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক কাগজপত্র ছাড়াই চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।ভুয়া চিকিৎসকরা রোগীর দাঁতের স্কেলিং, দাঁতের ফিলিং, দাঁত তোলা, দাঁত বাঁধানোসহ দাঁতের নানা রোগের চিকিৎসার নামে হয়রানি করে কারি কারি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভুয়া ডাক্তারের কাছে এসে রোগীরা না জেনে চিকিৎসা নিয়ে পরেছেন বিপদে, ভুল চিকিৎসার কারণে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। গারুড়িয়া ইউনিয়নের শাহেবপুর গ্রামের আনসার হাওলাদারের স্ত্রীর দাঁতের সমস্যা হওয়ায় বাকেরগঞ্জের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসা কড়ালে সুস্থের পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি নামি-দামি হসপিটালে চিকিৎসা করালেও তিনি সুস্থ হননি। ভিটা মাটি বেঁচে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেও তাকে সুস্থ করা সম্ভব হয়নি তিনি মরণব্যাধিতে আক্রন্ত হয়েই মারা যান ।হাতুড়ে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় এরকম হাজারো ঘটনা রয়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে ।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান , এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অবহিত হয়েই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোটে জরিমানা করিয়েছি। এবং আমাদের এ-ই কার্যক্রম চলমান থাকিবে।বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মোঃ ইজাজুল হক সংবাদ মাধ্যম কে জানান ইতিমধ্যেই আমরা কোন কাগজ পত্র না-থাকায় হানিফ ডেন্টাল কেয়ার কে ২০ হাজার ও এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।
অচিরেই আমরা সকল অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া ডাক্তার দের আইনের আওতায় আনব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডেন্টিস্ট জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে মাসিক মাসোয়ারার মাধ্যমে অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালনা করেন।এমনকি উপজেলা প্রশাসনের আকস্মিক অভিযানের তথ্য তাড়াই আগাম জানিয়ে দেয় এ-কারণে অভিযানের পূর্বেই ক্লিনিক বন্ধ করে সটকে পড়েন ভুয়া ডাক্তার ও ক্লিনিকের মালিক রা।

























