সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

মাছ চুরি বন্ধের জন্য লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ইকবাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের মন্দিরে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছে প্রশাসন। পুকুরে চাষ করা মাছ যেন কেউ চুরি করতে না পারে সেজন্য ওই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। এতেই ধরা পড়েছে ইকবাল।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে পুলিশ বলছে, ইকবাল পূজামণ্ডপের ৫০০ গজ দূরের দারোগাবাড়ি মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে মন্দিরে ঢোকেন।

অনেকে বলছেন, কেন এই ফুটেজ পেতে এক সপ্তাহ লাগল। আবার কারও মন্তব্য, সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জুম হয় না। এ ক্ষেত্রে ইকবালের চলাচল অনুযায়ী ক্যামেরা নড়াচড়া করছে, জুম হচ্ছে কীভাবে?

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এই সিসিটিভি ক্যামেরা অত্যাধুনিক মুভেবল ক্যামেরা। এটি নড়াচড়া চিহ্নিত (মোশন ডিটেক্ট) করতে পারে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার এক দিন পর পুলিশের হাতে এই সিসিটিভি ফুটেজ আসে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ইকবালকে শনাক্ত করে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি তখনও গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ আরও যাচাই-বাছাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পেয়ে বুধবার রাতে এটি প্রকাশ করা হয়।

দারোগাবাড়ি মাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা ইয়াছিন নূরী সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া পুকুরটি মাজারের। এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান সোহাগ মাজারের পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছচাষ করছেন। সোহাগ লাকসাম উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার। ইজারাদার তার বাসা থেকে পুকুর নজরদারি করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। রাতে কেউ যেন মাছ চুরি বা ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য ক্যামেরা দিয়ে পুকুরে নজর রাখা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, মাছ চুরি বন্ধ করতে তিনি বাড়ির বাইরের দিকের দোতলায় উন্নত প্রযুক্তির একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসান। ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের এ ক্যামেরা প্রতি চার মিনিট পরপর মুভ করে। মূল ক্যামেরার পাশে আরও চারটি ফিক্সড ক্যামেরাও আছে। এসব ক্যামেরা বসাতে তার ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। মন্দিরে ঘটনার পর তদন্ত করে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ক্যামেরার ডিভিআর বক্স (ফুটেজ সংরক্ষণস্থল) নিয়ে গেছে।
সিসিটিভি আমদানিকারকরা বলছেন, বাজারে এমন অনেক ক্যামেরা রয়েছে, যা সাধারণ ক্যামেরার চেয়ে ২০-৩০ গুণ জুম করা হয়। এর মাধ্যমে দূরের ছবিও ধারণ করা সম্ভব। অনেক ক্যামেরায় অপটিক্যাল জুম থাকায় আধা কিলোমিটার দূরের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়।

‘ঘটনার রাতে বিদ্যুৎ ছিল না’ বলে যে অপপ্রচার চালানো হয়, তা সঠিক নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও বিদ্যুৎ থাকার প্রমাণ মিলেছে।

কুমিল্লার ঘটনায় কেন মন্দির থেকে এক ব্যক্তি এত রাতে গদা নিয়ে বের হন- এই ক্লু ধরেই সন্দেহভাজন ইকবালের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাছ চুরি বন্ধের জন্য লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ইকবাল

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স

কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের মন্দিরে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছে প্রশাসন। পুকুরে চাষ করা মাছ যেন কেউ চুরি করতে না পারে সেজন্য ওই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। এতেই ধরা পড়েছে ইকবাল।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে পুলিশ বলছে, ইকবাল পূজামণ্ডপের ৫০০ গজ দূরের দারোগাবাড়ি মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে মন্দিরে ঢোকেন।

অনেকে বলছেন, কেন এই ফুটেজ পেতে এক সপ্তাহ লাগল। আবার কারও মন্তব্য, সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জুম হয় না। এ ক্ষেত্রে ইকবালের চলাচল অনুযায়ী ক্যামেরা নড়াচড়া করছে, জুম হচ্ছে কীভাবে?

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এই সিসিটিভি ক্যামেরা অত্যাধুনিক মুভেবল ক্যামেরা। এটি নড়াচড়া চিহ্নিত (মোশন ডিটেক্ট) করতে পারে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার এক দিন পর পুলিশের হাতে এই সিসিটিভি ফুটেজ আসে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ইকবালকে শনাক্ত করে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি তখনও গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ আরও যাচাই-বাছাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পেয়ে বুধবার রাতে এটি প্রকাশ করা হয়।

দারোগাবাড়ি মাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা ইয়াছিন নূরী সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া পুকুরটি মাজারের। এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান সোহাগ মাজারের পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছচাষ করছেন। সোহাগ লাকসাম উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার। ইজারাদার তার বাসা থেকে পুকুর নজরদারি করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। রাতে কেউ যেন মাছ চুরি বা ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য ক্যামেরা দিয়ে পুকুরে নজর রাখা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, মাছ চুরি বন্ধ করতে তিনি বাড়ির বাইরের দিকের দোতলায় উন্নত প্রযুক্তির একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসান। ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের এ ক্যামেরা প্রতি চার মিনিট পরপর মুভ করে। মূল ক্যামেরার পাশে আরও চারটি ফিক্সড ক্যামেরাও আছে। এসব ক্যামেরা বসাতে তার ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। মন্দিরে ঘটনার পর তদন্ত করে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ক্যামেরার ডিভিআর বক্স (ফুটেজ সংরক্ষণস্থল) নিয়ে গেছে।
সিসিটিভি আমদানিকারকরা বলছেন, বাজারে এমন অনেক ক্যামেরা রয়েছে, যা সাধারণ ক্যামেরার চেয়ে ২০-৩০ গুণ জুম করা হয়। এর মাধ্যমে দূরের ছবিও ধারণ করা সম্ভব। অনেক ক্যামেরায় অপটিক্যাল জুম থাকায় আধা কিলোমিটার দূরের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়।

‘ঘটনার রাতে বিদ্যুৎ ছিল না’ বলে যে অপপ্রচার চালানো হয়, তা সঠিক নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও বিদ্যুৎ থাকার প্রমাণ মিলেছে।

কুমিল্লার ঘটনায় কেন মন্দির থেকে এক ব্যক্তি এত রাতে গদা নিয়ে বের হন- এই ক্লু ধরেই সন্দেহভাজন ইকবালের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় পুলিশ।