সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজারে বেচাকেনা কমতি নেই।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১ ৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ সুজন আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ

লকডাউন ও করোনা ভীতি কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজারে বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে। এখন বাজারগুলোতে নানান জাতের সুস্বাদু আম বাজারজাত হওয়ার কারণে বেচা-কেনা তুলনামূলক বেড়ে গেছে। উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভালো দাম পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের শংকা কাটতে শুরু করেছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ব্যাপারী এবং ব্যবসায়ীরাও। আবার কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমে চাহিদা দিচ্ছেন। জেলা শহরের অস্থায়ী আম বাজার ডা আ. আ. ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে ও দেশের সর্ববৃহৎ কানসাট আমবাজারে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে চলছে বেচাকেনা।

এরই মধ্যে বাজারে নানান জাতের সুস্বাদু আমের। দেশসেরা ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, সুরমা ফজলি, ফজলি ও নানা জাতের গুটি আম এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আম বেচা-কেনা চললেও, গত ৩ সপ্তাহ থেকে আম বেচাকেনা শুরু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারগুলোতে।

লকডাউন ও করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিতে জমে উঠেছে জেলার সব আমবাজার। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, নায্য দাম ও বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা আসার পাশাপাশি লনলাইনে বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

বর্তমানে প্রতিমণ ক্ষিরসাপাত ৩৫’শ-৪ হাজার টাকা, লক্ষণভোগ ১ হাজার-১৫’শ টাকা, ল্যাংড়া ৩ হাজার-৩৫’শ টাকা, আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার-২৫’শ টাকা, ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার-১৫’শ টাকা, সুরমা ফজলি ১৪’শ -১৮’শ টাকা আর গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা।

এদিকে, আম মৌসুমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে জেলার অর্থনীতি। বর্তমানে জেলা জুড়ে প্রতিদিন বেচা-কেনা হচ্ছে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকার আম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ ট্রাকসহ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কানসাট আমআড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে কানসাট আম বাজারেই বেচা-কেনা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। একেক দিন হয়তো বিক্রি কম হলেও পরের দিন ভাল হচ্ছে। বাইরে থেকে আম কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানকার আমের চাহিদা দেশব্যাপী।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, করোনা পরিস্থিতিতে আমের নায্যমূল্য নিশ্চিতে আম বাজারজাত ও দেশব্যাপী আম পরিবহণে উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে আমের ব্যবসা তুলনামূলক ভাল। বৃষ্টির কারণে ব্যবসা মন্থর ভাব থাকলেও বর্তমান বেচাকেনা ভালই হচ্ছে।

প্রতিদিন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, ফেণীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে আম যাচ্ছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭’শ ৩৮ হেক্টর জমির বাগান থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যার বাজারমূল্য ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজারে বেচাকেনা কমতি নেই।

আপডেট সময় : ০১:১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জুলাই ২০২১

মোঃ সুজন আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ

লকডাউন ও করোনা ভীতি কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজারে বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে। এখন বাজারগুলোতে নানান জাতের সুস্বাদু আম বাজারজাত হওয়ার কারণে বেচা-কেনা তুলনামূলক বেড়ে গেছে। উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভালো দাম পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের শংকা কাটতে শুরু করেছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ব্যাপারী এবং ব্যবসায়ীরাও। আবার কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমে চাহিদা দিচ্ছেন। জেলা শহরের অস্থায়ী আম বাজার ডা আ. আ. ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে ও দেশের সর্ববৃহৎ কানসাট আমবাজারে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে চলছে বেচাকেনা।

এরই মধ্যে বাজারে নানান জাতের সুস্বাদু আমের। দেশসেরা ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, সুরমা ফজলি, ফজলি ও নানা জাতের গুটি আম এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আম বেচা-কেনা চললেও, গত ৩ সপ্তাহ থেকে আম বেচাকেনা শুরু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারগুলোতে।

লকডাউন ও করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিতে জমে উঠেছে জেলার সব আমবাজার। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, নায্য দাম ও বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা আসার পাশাপাশি লনলাইনে বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

বর্তমানে প্রতিমণ ক্ষিরসাপাত ৩৫’শ-৪ হাজার টাকা, লক্ষণভোগ ১ হাজার-১৫’শ টাকা, ল্যাংড়া ৩ হাজার-৩৫’শ টাকা, আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার-২৫’শ টাকা, ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার-১৫’শ টাকা, সুরমা ফজলি ১৪’শ -১৮’শ টাকা আর গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা।

এদিকে, আম মৌসুমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে জেলার অর্থনীতি। বর্তমানে জেলা জুড়ে প্রতিদিন বেচা-কেনা হচ্ছে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকার আম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ ট্রাকসহ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কানসাট আমআড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে কানসাট আম বাজারেই বেচা-কেনা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। একেক দিন হয়তো বিক্রি কম হলেও পরের দিন ভাল হচ্ছে। বাইরে থেকে আম কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানকার আমের চাহিদা দেশব্যাপী।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, করোনা পরিস্থিতিতে আমের নায্যমূল্য নিশ্চিতে আম বাজারজাত ও দেশব্যাপী আম পরিবহণে উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে আমের ব্যবসা তুলনামূলক ভাল। বৃষ্টির কারণে ব্যবসা মন্থর ভাব থাকলেও বর্তমান বেচাকেনা ভালই হচ্ছে।

প্রতিদিন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, ফেণীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে আম যাচ্ছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭’শ ৩৮ হেক্টর জমির বাগান থেকে তিন লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যার বাজারমূল্য ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।