সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫

ভয়ংকর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, ঢাকা ছাড়ছে কাজ হারানোরা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুলাই ২০২১ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশব্যাপী ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনার থাবা। এত মৃত্যু, সংক্রমণেও লাগাম টানা যাচ্ছে না মানুষের চলাচলে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই মানুষের ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে।
ভয়ঙ্কর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, বেড়েছে ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা
ভয়ঙ্কর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, বেড়েছে ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা

বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দূর-দূরান্তে যাত্রা করছেন অনেকেই। যাদের বেশির ভাগই নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর। চাপ বেড়েছে সড়কে যানবাহন চলাচলেও।
একে তো লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ। তার ওপর একই মোটরবাইকে চালকসহ যাত্রী সংখ্যা চারজন। তার ওপর বৃষ্টির হানা, এসব প্রতিরোধ প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আমিনবাজার থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তারা। সবশেষ গন্তব্য দিনাজপুর বলে জানান তারা।
সরকার ঘোষিত চলমান কঠোর বিধিনিষেধের এ পর্যায়ে এসে পরিস্থিতি মোড় নিয়েছে ভিন্ন দিকে। দ্বিতীয় দফায় বিধিনিষেধের সমসয়সীমা আরও সাত দিন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা। দূরপাল্লাসহ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনে ঝুঁকি নিয়েই ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই। যাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
বাড়ি ফেরা একজন বলেন, বাড়ি যাব। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে বলেন সিরাজগঞ্জ। গাবতলী মহাসড়কে দাড়িয়ে এক তরুণ জানান মুন্সীগঞ্জ থেকে এখানে আসা পর্যন্ত তাকে পুলিশ আটকায়নি। বিনা বাধায় তিনি এখানে আসতে পেরেছেন। এন অসংখ্য মানুষ পাওয়া যাবে এখানে।
আরেকজন বলেন, লকডাউন তো বেড়েছে, ঢাকায় বসে থেকে কি করব। কাজ তো নেই। তাই বাড়ি যাচ্ছি।
বুধবার (০৭ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকায় প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার অন্যতম পয়েন্ট গাবতলী এলাকায় চোখে পড়বে ভারী ব্যাগ নিয়ে মানুষের পায়ে হাঁটার দৃশ্য। আমিনবাজার ব্রিজ পার হওয়ার পর অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে চেপে দূরপাল্লায় যাত্রা করলেও সেখানে ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি।
পুলিশকে চাঁদার দেওয়ার অভিযোগ করেন এক মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। তারা বলেন, পুলিশ যদি গাড়ি না ছাড়ত আমরা আমরা সেটি চালাতে পারতাম না।
এদিকে গত কয়েক দিনের মতো এদিনও রাজধানীর সড়কজুড়ে যানবাহনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। যান নিয়ন্ত্রণ ও আরোহীর তথ্য যাচাই-বাছাই করতেই হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
গাবতলী সড়কে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইস্তেখার বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টার করছি, যাদের ছাড়া যায় তাদেরই শুধু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আর না হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন রাজধানীর প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায়ও ছিল পুলিশের নানা কার্যক্রম।
লালাবাগ জোনের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট, কনভয় পেট্রোলিংসহ নানা উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। এ সময় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অযথা বাইরে বের হলে পড়তে হয় শাস্তির মুখে।
আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে সোমবার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।
এর আগে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও।
লকডাউন নিয়ে গত ৩০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভয়ংকর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, ঢাকা ছাড়ছে কাজ হারানোরা।

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুলাই ২০২১

দেশব্যাপী ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনার থাবা। এত মৃত্যু, সংক্রমণেও লাগাম টানা যাচ্ছে না মানুষের চলাচলে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই মানুষের ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে।
ভয়ঙ্কর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, বেড়েছে ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা
ভয়ঙ্কর করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, বেড়েছে ঢাকা ছাড়ার প্রবণতা

বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দূর-দূরান্তে যাত্রা করছেন অনেকেই। যাদের বেশির ভাগই নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর। চাপ বেড়েছে সড়কে যানবাহন চলাচলেও।
একে তো লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ। তার ওপর একই মোটরবাইকে চালকসহ যাত্রী সংখ্যা চারজন। তার ওপর বৃষ্টির হানা, এসব প্রতিরোধ প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আমিনবাজার থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তারা। সবশেষ গন্তব্য দিনাজপুর বলে জানান তারা।
সরকার ঘোষিত চলমান কঠোর বিধিনিষেধের এ পর্যায়ে এসে পরিস্থিতি মোড় নিয়েছে ভিন্ন দিকে। দ্বিতীয় দফায় বিধিনিষেধের সমসয়সীমা আরও সাত দিন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা। দূরপাল্লাসহ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনে ঝুঁকি নিয়েই ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই। যাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ।
বাড়ি ফেরা একজন বলেন, বাড়ি যাব। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে বলেন সিরাজগঞ্জ। গাবতলী মহাসড়কে দাড়িয়ে এক তরুণ জানান মুন্সীগঞ্জ থেকে এখানে আসা পর্যন্ত তাকে পুলিশ আটকায়নি। বিনা বাধায় তিনি এখানে আসতে পেরেছেন। এন অসংখ্য মানুষ পাওয়া যাবে এখানে।
আরেকজন বলেন, লকডাউন তো বেড়েছে, ঢাকায় বসে থেকে কি করব। কাজ তো নেই। তাই বাড়ি যাচ্ছি।
বুধবার (০৭ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকায় প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার অন্যতম পয়েন্ট গাবতলী এলাকায় চোখে পড়বে ভারী ব্যাগ নিয়ে মানুষের পায়ে হাঁটার দৃশ্য। আমিনবাজার ব্রিজ পার হওয়ার পর অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে চেপে দূরপাল্লায় যাত্রা করলেও সেখানে ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি।
পুলিশকে চাঁদার দেওয়ার অভিযোগ করেন এক মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। তারা বলেন, পুলিশ যদি গাড়ি না ছাড়ত আমরা আমরা সেটি চালাতে পারতাম না।
এদিকে গত কয়েক দিনের মতো এদিনও রাজধানীর সড়কজুড়ে যানবাহনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। যান নিয়ন্ত্রণ ও আরোহীর তথ্য যাচাই-বাছাই করতেই হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
গাবতলী সড়কে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইস্তেখার বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টার করছি, যাদের ছাড়া যায় তাদেরই শুধু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আর না হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন রাজধানীর প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায়ও ছিল পুলিশের নানা কার্যক্রম।
লালাবাগ জোনের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট, কনভয় পেট্রোলিংসহ নানা উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। এ সময় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অযথা বাইরে বের হলে পড়তে হয় শাস্তির মুখে।
আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে সোমবার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।
এর আগে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও।
লকডাউন নিয়ে গত ৩০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন।