সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পেটের দায়ে ৪ মাইল হেঁটে কলা বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন ৭০ বছরের রেণু।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
থরথর করে কাঁপছে শরীর। এই শরীর নিয়েই চার মাইল হেঁটে কলা বিক্রি করতে এসেছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর ছালিপুরা গ্রামের বৃদ্ধা রেনু আক্তার (৭০)।

স্থানীয় গ্রামের বাজারে মানুষ নেই। তাই প্রায় চার মাইল সড়ক পাড়ি দিয়ে কলা বিক্রির আশায় শেষ পর্যন্ত যাচ্ছিলেন বারহাট্টার গোপালপুর বাজার। সেখানেও বাধা। পথে পুলিশের চেকপোস্ট। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বৃদ্ধা রেনু।

রেনু বেগম ওসিকে বলেন, লকডাউনে ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। কাজকর্ম না থাকায় পেটের খাবার জুটছিল না। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে বাড়ির গাছ থেকে কলা পেড়ে বিক্রি করে বাজার করতে চাচ্ছিলেন।

সংসার জীবনের দারিদ্র্যতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু তারা নিজেরাই চলতে পারে না, অভুক্ত থাকে। ওদের জীবনইতো দুর্বিষহ। ওরা যদি নিজেরা চলতে পারত আর আমার ভরণপোষণ না করত তবে মনে কষ্ট থাকত। কিন্তু এখন তা নেই। তারা নিজেরাইতো চলতে পারছে না।’

ওসি মিজানুর রহমান সব শুনে বলেন, ‘মা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মধ্যে আপনার বাইরে থাকা বা কলা বিক্রির দরকার নেই। আমি টাকা দিচ্ছি। কী দরকার তা কিনে আপনি ঘরে চলে যান।’

ওসির কথা শুনে এবং তার দেয়া টাকা হাতে পেয়ে বেজায় খুশি হন সত্তরোর্ধ্ব রেনু বেগম। এসময় তিনি অন্যদের কাছে জানতে চান, সব পুলিশই কি এমন?

বারহাট্টা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘লকডাউনে টহলের সময় সড়কের পাশে ওই বৃদ্ধাকে দেখে গাড়ি থামালাম। উনি আমাদের দেখে ভয় পাচ্ছিলেন। আশ্বস্ত করলাম, কথা বললাম। তিনি নিজের গাছের কলা কয়েক মাইল হেঁটে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। এটা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। তাই বাজার করার জন্য কিছু টাকা দিলাম। টাকা দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পেটের দায়ে ৪ মাইল হেঁটে কলা বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন ৭০ বছরের রেণু।

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
থরথর করে কাঁপছে শরীর। এই শরীর নিয়েই চার মাইল হেঁটে কলা বিক্রি করতে এসেছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর ছালিপুরা গ্রামের বৃদ্ধা রেনু আক্তার (৭০)।

স্থানীয় গ্রামের বাজারে মানুষ নেই। তাই প্রায় চার মাইল সড়ক পাড়ি দিয়ে কলা বিক্রির আশায় শেষ পর্যন্ত যাচ্ছিলেন বারহাট্টার গোপালপুর বাজার। সেখানেও বাধা। পথে পুলিশের চেকপোস্ট। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বৃদ্ধা রেনু।

রেনু বেগম ওসিকে বলেন, লকডাউনে ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। কাজকর্ম না থাকায় পেটের খাবার জুটছিল না। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে বাড়ির গাছ থেকে কলা পেড়ে বিক্রি করে বাজার করতে চাচ্ছিলেন।

সংসার জীবনের দারিদ্র্যতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু তারা নিজেরাই চলতে পারে না, অভুক্ত থাকে। ওদের জীবনইতো দুর্বিষহ। ওরা যদি নিজেরা চলতে পারত আর আমার ভরণপোষণ না করত তবে মনে কষ্ট থাকত। কিন্তু এখন তা নেই। তারা নিজেরাইতো চলতে পারছে না।’

ওসি মিজানুর রহমান সব শুনে বলেন, ‘মা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মধ্যে আপনার বাইরে থাকা বা কলা বিক্রির দরকার নেই। আমি টাকা দিচ্ছি। কী দরকার তা কিনে আপনি ঘরে চলে যান।’

ওসির কথা শুনে এবং তার দেয়া টাকা হাতে পেয়ে বেজায় খুশি হন সত্তরোর্ধ্ব রেনু বেগম। এসময় তিনি অন্যদের কাছে জানতে চান, সব পুলিশই কি এমন?

বারহাট্টা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘লকডাউনে টহলের সময় সড়কের পাশে ওই বৃদ্ধাকে দেখে গাড়ি থামালাম। উনি আমাদের দেখে ভয় পাচ্ছিলেন। আশ্বস্ত করলাম, কথা বললাম। তিনি নিজের গাছের কলা কয়েক মাইল হেঁটে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। এটা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। তাই বাজার করার জন্য কিছু টাকা দিলাম। টাকা দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম।’