সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ ১০০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স::রাজধানীর শাজাহানপুরের গুলবাগ এলাকায় বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে এক তরুণী গলায় ফাঁস লাগিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। বুধবার (২৩ জুন) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

আত্মহননকারী রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১) রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছিলেন। রুবিনা ইয়াসমিন নদীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। তার বাবা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের আগৈলঝারা থানায় কর্মরত।

রুবিনা বর্তমানে শাজাহানপুর থানার মালিবাগে ৩৯১ নম্বর গুলবাগের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বান্ধবীকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

দুই বান্ধবী পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। নদীর রুমমেট মারিয়াম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মারিয়াম বলেন, ‘রুবিনা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করতো। সেখানে একই বিভাগের সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর /অক্টোবরে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলের চরিত্রগত কারণে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।’

রুবিনার খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেন, ‘ওই ছেলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরও বিভিন্ন সময় রুবিনার বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে সায়েম তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতো। মারিয়াম তা রুবিনাকে দেখাতো। পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এসব নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে থাকতো।’

শরিফা সুলতানার দাবি, ওই ছেলেটার (সায়েম) এসবের কারণেই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

রুবিনার বান্ধবী মারিয়ম আরও বলেন, ‘‘রুবিনা আজ কাজে যায়নি। আমি কাজে চলে যাই। বিকাল ৩টার সময় ফোন করে সে জানায়— ‘আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাবো।’ পরে ভিডিও কলে সে দেখায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচাচ্ছিল।’’

তিনি বলেন, ‘পরে দ্রুত চলে যাই, গিয়ে দেখি ভেতর দিয়ে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় ছিটকানি ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করি। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত বলে জানান।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য রুবিনার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালে ডিএমপি সবুজবাগ জোনের এসি মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা শুনে এসেছি। প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা না অন্যকিছু, তা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা।

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স::রাজধানীর শাজাহানপুরের গুলবাগ এলাকায় বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে এক তরুণী গলায় ফাঁস লাগিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। বুধবার (২৩ জুন) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

আত্মহননকারী রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১) রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ছিলেন। রুবিনা ইয়াসমিন নদীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। তার বাবা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালের আগৈলঝারা থানায় কর্মরত।

রুবিনা বর্তমানে শাজাহানপুর থানার মালিবাগে ৩৯১ নম্বর গুলবাগের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বান্ধবীকে নিয়ে সাবলেট থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

দুই বান্ধবী পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। নদীর রুমমেট মারিয়াম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মারিয়াম বলেন, ‘রুবিনা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে পড়াশোনা করতো। সেখানে একই বিভাগের সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর /অক্টোবরে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলের চরিত্রগত কারণে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।’

রুবিনার খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেন, ‘ওই ছেলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরও বিভিন্ন সময় রুবিনার বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে সায়েম তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতো। মারিয়াম তা রুবিনাকে দেখাতো। পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এসব নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে থাকতো।’

শরিফা সুলতানার দাবি, ওই ছেলেটার (সায়েম) এসবের কারণেই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

রুবিনার বান্ধবী মারিয়ম আরও বলেন, ‘‘রুবিনা আজ কাজে যায়নি। আমি কাজে চলে যাই। বিকাল ৩টার সময় ফোন করে সে জানায়— ‘আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাবো।’ পরে ভিডিও কলে সে দেখায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচাচ্ছিল।’’

তিনি বলেন, ‘পরে দ্রুত চলে যাই, গিয়ে দেখি ভেতর দিয়ে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় ছিটকানি ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করি। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত বলে জানান।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য রুবিনার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালে ডিএমপি সবুজবাগ জোনের এসি মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা শুনে এসেছি। প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা না অন্যকিছু, তা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে।’