সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ বাবুগঞ্জে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে মারধর, মাথা ফাটানোর অভিযোগ ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গোডাউনসহ পুড়ে ছাই ৮ দোকান উজিরপুরে বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে মারধর ও জিম্মি করে লুটপাট, থানায় অভিযোগ বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার দর্শনা সীমান্তের ওপারে যাওয়ার পথে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পেলেন ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

মামুনুলকাণ্ডে কারাবন্দি হেফাজত নেতার মৃত্যু।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত হওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির ইস্যুতে সহিংসতার মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দি হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সময় নিউজকে জানান, সোনারগাঁ থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তার মাওলানা ইকবাল হোসেনকে অসুস্থ অবস্থায় গত ১১ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে জেলখানার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ সময় নিউজকে বলেন, গত ১১ মে ইকবাল হোসেন নামের আসামিকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে পাঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই তাকে চিকিৎসার জন্য আমরা ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি ফিরে আসেন। ১৫ মে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আবার তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। এতদিন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। তবে আজ দুপুর ১২টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইকবাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়। পরে আমাদের কাছে লাশ পাঠানো হলে আমরা কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগ ও ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কারাগারে আসার পূর্বেই তিনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলছিলেন। এসব জটিল রোগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।
মাওলানা ইকবাল হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবার নাম আবু সাঈদ। তিনি সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে জুরাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব ১১ ব্যাটালিয়ানের একটি দল। পরে র‍্যাব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, ইকবাল হোসেন গত ৩ এপ্রিল হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এক নারীসহ সোনারগাঁয়ের ‘রয়েল রিসোর্টে’ আটকের পর মসজিদের মাইকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে লোক জমায়েত করে হাম লা ভাঙচুর চালিয়ে তাণ্ডব চালায়। তার নেতৃত্বেই ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল হোসেন সহিংসতা সৃষ্টির ব্যাপারে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মামুনুলকাণ্ডে কারাবন্দি হেফাজত নেতার মৃত্যু।

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত হওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারির ইস্যুতে সহিংসতার মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দি হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সময় নিউজকে জানান, সোনারগাঁ থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তার মাওলানা ইকবাল হোসেনকে অসুস্থ অবস্থায় গত ১১ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে জেলখানার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ সময় নিউজকে বলেন, গত ১১ মে ইকবাল হোসেন নামের আসামিকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে পাঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই তাকে চিকিৎসার জন্য আমরা ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি ফিরে আসেন। ১৫ মে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা আবার তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। এতদিন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। তবে আজ দুপুর ১২টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইকবাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়। পরে আমাদের কাছে লাশ পাঠানো হলে আমরা কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবাস চন্দ্র ঘোষ আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগ ও ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কারাগারে আসার পূর্বেই তিনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলছিলেন। এসব জটিল রোগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।
মাওলানা ইকবাল হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবার নাম আবু সাঈদ। তিনি সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে জুরাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব ১১ ব্যাটালিয়ানের একটি দল। পরে র‍্যাব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, ইকবাল হোসেন গত ৩ এপ্রিল হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এক নারীসহ সোনারগাঁয়ের ‘রয়েল রিসোর্টে’ আটকের পর মসজিদের মাইকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে লোক জমায়েত করে হাম লা ভাঙচুর চালিয়ে তাণ্ডব চালায়। তার নেতৃত্বেই ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল হোসেন সহিংসতা সৃষ্টির ব্যাপারে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।