সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

স্বামী হত্যার ৮ মাস পর স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
মাদারীপুরের রাজৈরে আলোচিত ইকবাল মোল্লা হত্যাকাণ্ডের আট মাস পার হতে না হতেই তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে চাপের মুখে স্বীকার করেন, নিহত ইকবালের বড় ভাই মঞ্জুর মোল্লার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে তার এমনটা ঘটেছে।

এদিকে, মঞ্জু বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে সদর উপজেলার শ্রীনদী থেকে মঞ্জুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার উমারখালী গ্রামের সুন্দর আলী মোল্লার দুই ছেলে মঞ্জুর মোল্লা (৪৫) ও ইকবাল মোল্লা (৪০)। বড় ছেলে মঞ্জুর তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। ছোট ছেলে ইকবাল তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থেকে সুদের টাকা আদান-প্রদান করতেন। কিন্তু ইকবাল খুন হওয়ার পর থেকে স্ত্রী-সন্তান রেখে পিতাসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করেন মঞ্জুর।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় জনসম্মুখে প্রকাশ পায় তাদের সম্পর্কের ঘটনা। পরে ভাশুর মঞ্জুরের কাছে সন্তানদের পিতৃ পরিচয় দাবি করেন নিহত ইকবালের দ্বিতীয় স্ত্রী। অস্বীকার করায় সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদী গ্রামে বাবার বাড়ি ফিরে যান এবং ধর্ষণ মামলা করে। এতে জনমনে সংশয় ভাশুর ও ভাবির এই পরকীয়ার জেরেই কি ইকবাল খুন হয়েছে? নাকি আরও গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে?

এ ব্যাপারে নিহত ইকবালের প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী জীবিত থাকতেই তাদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তারাও আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমি মামলা করব।’

মামলার বাদী অন্তঃসত্ত্বা নারী বলেন বলেন, ‘আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটা সুস্থ বিচার চাই।’

এদিকে অভিযুক্ত মঞ্জুর মোল্লা বলেন, ‘ভাইয়ের মৃত্যুর তিন মাস পর থেকে আমাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’ তবে গর্ভে তার বাচ্চা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতবছরের ২২ জুন সন্ধ্যায় ইকবাল বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। রাতে আর বাড়িতে ফেরেন না। পরেরদিন ২৩ জুন সকালে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় মল্লিক কান্দির জমি থেকে ইকবালের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে রাজৈর থানা পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইকবালের বড় ভাই (বর্তমানে ছোট স্ত্রীর দেয়া ধর্ষণ মামলায় আটককৃত আসামি) মঞ্জুর বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর একই উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড়ের দুজনকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামী হত্যার ৮ মাস পর স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
মাদারীপুরের রাজৈরে আলোচিত ইকবাল মোল্লা হত্যাকাণ্ডের আট মাস পার হতে না হতেই তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে চাপের মুখে স্বীকার করেন, নিহত ইকবালের বড় ভাই মঞ্জুর মোল্লার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে তার এমনটা ঘটেছে।

এদিকে, মঞ্জু বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে সদর উপজেলার শ্রীনদী থেকে মঞ্জুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার উমারখালী গ্রামের সুন্দর আলী মোল্লার দুই ছেলে মঞ্জুর মোল্লা (৪৫) ও ইকবাল মোল্লা (৪০)। বড় ছেলে মঞ্জুর তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। ছোট ছেলে ইকবাল তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থেকে সুদের টাকা আদান-প্রদান করতেন। কিন্তু ইকবাল খুন হওয়ার পর থেকে স্ত্রী-সন্তান রেখে পিতাসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করেন মঞ্জুর।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় জনসম্মুখে প্রকাশ পায় তাদের সম্পর্কের ঘটনা। পরে ভাশুর মঞ্জুরের কাছে সন্তানদের পিতৃ পরিচয় দাবি করেন নিহত ইকবালের দ্বিতীয় স্ত্রী। অস্বীকার করায় সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের শ্রীনদী গ্রামে বাবার বাড়ি ফিরে যান এবং ধর্ষণ মামলা করে। এতে জনমনে সংশয় ভাশুর ও ভাবির এই পরকীয়ার জেরেই কি ইকবাল খুন হয়েছে? নাকি আরও গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে?

এ ব্যাপারে নিহত ইকবালের প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী জীবিত থাকতেই তাদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তারাও আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমি মামলা করব।’

মামলার বাদী অন্তঃসত্ত্বা নারী বলেন বলেন, ‘আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটা সুস্থ বিচার চাই।’

এদিকে অভিযুক্ত মঞ্জুর মোল্লা বলেন, ‘ভাইয়ের মৃত্যুর তিন মাস পর থেকে আমাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’ তবে গর্ভে তার বাচ্চা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতবছরের ২২ জুন সন্ধ্যায় ইকবাল বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। রাতে আর বাড়িতে ফেরেন না। পরেরদিন ২৩ জুন সকালে উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় মল্লিক কান্দির জমি থেকে ইকবালের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে রাজৈর থানা পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইকবালের বড় ভাই (বর্তমানে ছোট স্ত্রীর দেয়া ধর্ষণ মামলায় আটককৃত আসামি) মঞ্জুর বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর একই উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড়ের দুজনকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।