বরিশালে মাদকের আস্তানায় ডিবি পুলিশের চমক: পত্রিকার স্টিকার লাগানো গাড়ি জব্দ। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৬:১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট
৮:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালে বহুজাতিক পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান টপটেনে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান ত্রিমুখী অভিযানের মাঝে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এক চমক সৃষ্টি করল। শহরের কাশিপুর বাজার এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকের সন্ধান পেয়েছে। সেই সাথে ঘটনাস্থল থেকে একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকার নামে স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এসময় তিন যুবককে আটক করলেও ঘটনাচক্রে একজন পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তির নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, দুদিন পূর্বে সদর রোডের টপটেন শো-রুমে হামলায় অংশ নিয়েছিল এমন যুবকদের কয়েকজন কাশিপুরে আত্মগোপন করে আছে। তাৎক্ষণিক প্রাপ্ত খবরে কাশিপুর বাজারের একটি দ্বিতল ভবনে অভিযান চালায়। ওই ভবনটির নিচ তলায় মোটরসাইকেল গ্যারেজ, পেছন ভাগে একটি বিশালাকায় গোপন কক্ষে প্রবেশ মাত্র অনেকটা কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে যাওয়ার মতো বিপুল পরিমাণ মাদকের দেখা মেলে। ওই কক্ষের সার্বিক অবস্থান দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অভিজাত পরিবারের সদস্যরা বিলাসি কায়দায় মাদকের আসর বসাতো। নমূনাস্বরুপ ফেন্সিডিল ও মাদকের বোতল এবং প্যাকেট পোড়ানো অবস্থায় স্তূপ আকারে দেখা যায়।
অর্থাৎ মাদক সেবনের পর অস্থিত্ব নিচ্ছিহ্ন করতে এই কৌশল অবলম্বন করে চলছিল। ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এই আস্তনায় শুধু মাদক সেবন নয়, এখান থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। ঘটনাস্থল থেকে ২০ বোতল ফেন্সিডিল, ২০ ক্যান বিয়ার, এক বোতল মদসহ উদ্ধারে প্রতীয়মাণ হয় এই আস্তানা থেকে মাদকের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রিত হতো। একই সাথে সেখান থেকে বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকার স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, এই মোটরযানসমূহের মাধ্যমে মিডিয়ার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মাদক আনা-নেওয়া করা হতো। অফহোয়াইট কালারের গাড়িটির মালিক ডিবি পুলিশ তা নিশ্চিত হয়েছে। মোজাম্মেল হক মঞ্জু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এই গাড়িটির মালিক, যিনি কী না অভিযান টের পেয়ে এক ফাঁকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ডিবি ফাঁদ থেকে মুন্না, আজিজ আহম্মেদ বাবুল এবং কাজী সজল নামের এই তিন যুবক আর বেরিয়ে যেতে পারেনি।
আটকের পর তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে, কি ভাবে, কার শেল্টারে মাদক কেনাবেচা এবং সেবনের আসরে কারা সমাবেত হতো। অনেকটা চ্যাঞ্চল্যকর এই তথ্য শুনে ডিবি পুলিশের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। কারণ মিডিয়ার ছায়াতলেই মাদকের আস্তানাটি পরিচালিত হতো। পার্শ্ববর্তীরা ভাবতো মিডিয়াকর্মীদের কোনো কার্যালয়। তাছাড়া ওই আস্তানা নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে কাজী সজল স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এদের আটক করার পর মিডিয়ার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্তত কাজী সজলকে ছাড় দিতে জোর সুপারিশ রাখে। কিন্তু ডিবি পুলিশ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে।
অপর একটি সূত্র জানায়, এরপরেই ওই প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ওই অস্তানায় অভিযানের খবর চেপে যেতে বরিশালের বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীকে অনুরোধ রাখেন। যাতে করে অন্য সহকর্মী বা সহযোগী দৈনিকে এই খবর প্রকাশ না করে। ডিবি পুলিশ আটক তিন যুবক আজ বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, টপটেনে হামলাকারীদের আটকে অব্যাহত অভিযানের মাঝে ডিবি পুলিশের এই সাফল্যে এই অঞ্চলের মাদক নিয়ে অনেক তথ্যাদী তাদের গোচরভুত হয়েছে। এদিকে টপটেনে হামলাকারীদের আটকে এখন পর্যন্ত (বুধবার রাত) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দৃশ্যত সন্তোসজনক। গত মঙ্গলবার দিনব্যাপি র্যাব-পুলিশ-ডিবি ত্রিমুখী অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ যুবককে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করেছে। টপটেনের সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, কারা এই হামলায় অংশ নিয়েছিল। এরপর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযান চলছে। ওই হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলাটি এখন বেশ আলেচিত। কারণ হামলায় জড়িত এবং আটকদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।’


























