সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কর্মকর্তাদের পকেট ভার ! আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহনির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমিসহঘর বরাদ্দ দেয়ার জন্য গত ২৩ জানুয়ারী দেশব্যাপী একযোগে ৭০ হাজার গৃহনির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বানারীপাড়ায় ২০০ টি বরাদ্দকৃত ঘরও রয়েছে। উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সাকরাল গ্রামের ২ একর জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫ টি গৃহের কাজও ওই দিন শুরু হয়। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ করা হবে বলে জানা যায়। ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে ওই গ্রামের সুলতান মৃধার মাছের ঘের সংলগ্ন সরকারী খাস জমির মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ৬৫ টি গৃহের মধ্যে ১২ ঘরের ৩২ টির পিলার ভেঙ্গে ফেলে দুর্বত্তরা। স্থানীয় সোনাহার গ্রামের মৃত কাসেম কাজীর ছেলে মোঃ সুমন কাজী (২৭) সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে চাখার ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদশা মিয়া বানারীপাড়া থানায় ২২ ফেব্রুয়ারী রাতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিনের নেতৃত্বে পুলিশ আসামীদের বাড়ীতে অভিযান চালায়। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,যে পিলার গুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তা আস্তর বালুর পরিবর্তে বিট বালু মিশানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দরজা ও জানালার উপরে লিংটনের পরিবর্তে কোথাও ২ টি কোথাও ৩ টি রডের উপরে ইট গাঁথা হয়। তাছাড়াও সিমেন্ট ও বালুর পরিমান কম হওয়ায় প্রকল্পের চলমান ৬৫ টি ঘরের মধ্যে নির্মিতব্য ৪৪ টি ঘরের প্রত্যেকটি পিলার নড়বড়ে অবস্থা ও খুঁটি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। জানালার এঙ্গেলগুলোও খুবই নি¤œমানের দেখা যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের ওই স্থানে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। ভিটি উচু না করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরতদের বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হবে। স্থানীয় আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, কয়েকদিন আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা গৃহের কাজ করার সময় ওয়াল ধসে নির্মাণ শ্রমিকদের মাথার ওপরে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওই শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন তার সম্পত্তি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভিতরে নিয়ে তাকে প্রথমে ৫টি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন একটি ঘর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। একজনের ভূমি দখল করে তাকে ভূমিহীন করে অন্যকে ভূমিসহ ঘর দেওয়া কতটা মানবিক এ প্রশ্ন তোলেন অশীতিপর এ বৃদ্ধ। জানা গেছে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মহসিন-উল হাসান । এদিকে এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলোও নি¤œমানের হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রনিধিরা পরস্পরের যোগশাজসে নিম্মমানের ঘর নির্মাণ করে দিয়ে তাদের পকেট ভার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা জানান আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প। অনিয়ম-দুর্নীতি ও নি¤œমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়,বরং ভিত্তিহীন। তিনি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন এবং যারা এই পিলার ভেঙ্গেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও জানান। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বানারীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কর্মকর্তাদের পকেট ভার ! আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:২৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহনির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমিসহঘর বরাদ্দ দেয়ার জন্য গত ২৩ জানুয়ারী দেশব্যাপী একযোগে ৭০ হাজার গৃহনির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বানারীপাড়ায় ২০০ টি বরাদ্দকৃত ঘরও রয়েছে। উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সাকরাল গ্রামের ২ একর জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫ টি গৃহের কাজও ওই দিন শুরু হয়। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ করা হবে বলে জানা যায়। ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে ওই গ্রামের সুলতান মৃধার মাছের ঘের সংলগ্ন সরকারী খাস জমির মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ৬৫ টি গৃহের মধ্যে ১২ ঘরের ৩২ টির পিলার ভেঙ্গে ফেলে দুর্বত্তরা। স্থানীয় সোনাহার গ্রামের মৃত কাসেম কাজীর ছেলে মোঃ সুমন কাজী (২৭) সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে চাখার ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদশা মিয়া বানারীপাড়া থানায় ২২ ফেব্রুয়ারী রাতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিনের নেতৃত্বে পুলিশ আসামীদের বাড়ীতে অভিযান চালায়। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,যে পিলার গুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তা আস্তর বালুর পরিবর্তে বিট বালু মিশানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দরজা ও জানালার উপরে লিংটনের পরিবর্তে কোথাও ২ টি কোথাও ৩ টি রডের উপরে ইট গাঁথা হয়। তাছাড়াও সিমেন্ট ও বালুর পরিমান কম হওয়ায় প্রকল্পের চলমান ৬৫ টি ঘরের মধ্যে নির্মিতব্য ৪৪ টি ঘরের প্রত্যেকটি পিলার নড়বড়ে অবস্থা ও খুঁটি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। জানালার এঙ্গেলগুলোও খুবই নি¤œমানের দেখা যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের ওই স্থানে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। ভিটি উচু না করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরতদের বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হবে। স্থানীয় আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, কয়েকদিন আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা গৃহের কাজ করার সময় ওয়াল ধসে নির্মাণ শ্রমিকদের মাথার ওপরে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ওই শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন তার সম্পত্তি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভিতরে নিয়ে তাকে প্রথমে ৫টি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন একটি ঘর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। একজনের ভূমি দখল করে তাকে ভূমিহীন করে অন্যকে ভূমিসহ ঘর দেওয়া কতটা মানবিক এ প্রশ্ন তোলেন অশীতিপর এ বৃদ্ধ। জানা গেছে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মহসিন-উল হাসান । এদিকে এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলোও নি¤œমানের হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রনিধিরা পরস্পরের যোগশাজসে নিম্মমানের ঘর নির্মাণ করে দিয়ে তাদের পকেট ভার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা জানান আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প। অনিয়ম-দুর্নীতি ও নি¤œমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়,বরং ভিত্তিহীন। তিনি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন এবং যারা এই পিলার ভেঙ্গেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও জানান। ###