ক্রাইম পেট্রোল দেখে অপহরণের ছক, সাউন্ড বক্স বাজিয়ে নির্যাতন। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ভারতীয় ক্রাইম পেট্রোল নামে একটি অনুষ্ঠান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অপরাধ সংগঠনের পরিকল্পনা করে অপহরণকারীরা। তারা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের অর্থ সংগ্রহে অপহরণকেই পেশা হিসেবে নিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
সম্প্রতি, আবু হেনা মোস্তাফা কামাল মিলন নামে হাইকোর্টের এক আইনজীবীকে অপহরণের তিন দিন পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
এ ঘটনায় তিন অপহরণকারীকে আটক করেছে সংস্থাটি। তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মাস্টার মাইন্ড রাজ ও রিতুসহ আরও কয়েকজন।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় পিবিআই যশোর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন জানান, ‘মঙ্গলবার যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রাম থেকে আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের এমএ হাকিমের ছেলে। মিলনের সঙ্গে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের এসএম হারুনুর রশিদের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা রিতুর বিয়ে ঠিক হয়। এরই সূত্র ধরে রিতু তার সহযোগীদের মাধ্যমে গত ৬ ফ্রেব্রুয়ারি দুপুরে মিলনকে খুলনা পাইওনিয়র কলেজের সামনে দেখা করার জন্য ডেকে এনে অপহরণ করে। এরপর তাকে রিতুর বান্ধবী সুরাইয়ার যশোরের অভয়গর উপজেলার একতারপুর গ্রামের বাড়িতে বন্দি করা হয়।’
তিনি জানান, ‘সেখানে আইনজীবী মিলনকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে মিলনকে মেরে ফেলা হবে বলে তারা শাসায়। এমনকি ভয় দেয়ার লক্ষ্যে কোয়েল পাখির রক্ত মিলনের গায়ে থাকা পাঞ্জাবিতে মেখে তা তার পরিবারকে দেয়া হয়। তারা রক্তমাখা পাঞ্জাবিটা খুলনার ডুমুরিয়ার যে স্থানে ফেলে আসা হয়েছে সেই লোকেশনটা ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানায়।’
পুলিশ সুপার রেশমা শারমীন আরও জানান, ‘অপহণের পর মিলনের ভগ্নিপতি শরিফুল ইসলাম গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার তালা থানায় একটি জিডি করেন। পরে তারা জিডির কপি নিয়ে যশোরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) যোগাযোগ করে। পিবিআই তদন্ত শুরু করলে অপহরণকারীরা ডুমুরিয়ায় টাকা নিয়ে যেতে বলে। টাকা নিয়ে ডুমুরিয়ায় গেলে তারা খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনে যেতে বলে। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর অপহরণকারীরা যশোরের অভয়নগরে যেতে বলে। এসময় শাহীন টাকা নিতে আসলে তাকে আটক করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্য মতে অভয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সুরাইয়ার বাড়ি থেকে অপহৃত আইনজীবী মিলনকে উদ্ধার করা হয়। এসময় সদস্য সুরাইয়া ও আব্দুস সালাম নামে আরো দুজনকে আটক করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন সুরাইয়ার বাড়িতে যাই তখন ভিকটিম মিলনকে মারপিট করা হচ্ছিল।। তার চিৎকার যাতে বাইরে না যায় এজন্য উচ্চ আওয়াজে গান বাজানো হচ্ছিল।’
রেশমা শারমীন বলেন, ‘অপহরণকারীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের অর্থ সংগ্রহে অপহরণকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। তারা ভারতীয় ক্রাইম পেট্রোল নামে একটি অনুষ্ঠান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অপরাধ সংগঠনের পরিকল্পনা করে।’
এ ঘটনার মাস্টার মাইন্ড রাজ ও রিতুসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। রিতু খুলনার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তার পরিবার সে সম্পর্কে কিছুই জানে না বলেন রেশমা শারমীন।


























