বরিশালে কেন্দ্র দখল নিয়ে ব্যালট না দেওয়ার অভিযোগ। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ১০:১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২১ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: বরিশাল জেলার গৌরনদী ও মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ও ভোটারদের মেয়র পদের ব্যালট না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জহির সাজ্জাদ হান্নান, মেহেন্দিগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী জিয়াউদ্দিন সুজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন এসব অভিযোগ করেন। গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এরপর ঘণ্টা দেড়েক ভোটের পরিবেশ ভালো ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর কর্মীরা ভোট কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। এরপর কয়েকটি কেন্দ্র থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।
১,২,৩,৪,৬, ৭ ও ৮ নম্বর কেন্দ্রের বেশির ভাগ বুথে তাদের লোকজন অবস্থান করছে। তারা মেয়রের ব্যালট ভোটারদের হাত থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ভোটররা তাদের পছন্দের মেয়র প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সেভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।’ মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জিয়াউদ্দিন সুজন অভিযোগ করেন, ‘সকাল ১০টার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। ১,২,৩ ও ৮ নম্বর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল উদ্দিন খানের কর্মীরা বুথের ভেতর অবস্থান নিয়ে ভোটারদের নৌকা প্রতীকে সীল মারতে বাধ্য করছেন।
তাছাড়া কয়েকটি কেন্দ্র থেকে হুমকি-ধামকি দিয়ে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।’ মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন বলেন, ‘৪,৫ ও ৬ নম্বর কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন। তাদের কারণে নিজের পছন্দমতো ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন না। তাছাড়া ২ ও ৭ নম্বর কেন্দ্রের ৪ টি বুথে ভোটারদের কাছ থেকে মেয়রের ব্যালট নিয়ে নৌকা প্রতীকে সীল দেয়া হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করছেন।’
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গৌরনদী পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রের ৯৬টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৩ হাজার ৪০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৭৯৯ জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৬০৯ জন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত হারিছুর রহমান হারিছ এবং বিএনপি মনোনীত জহির সাজ্জাদ হান্নান। মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রের ৭৫টি কক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে।
এ পৌরসভায় মোট ভোটার ২৫ হাজার ৮৮৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ১৭৩ জন এবং ১২ হাজার ৭১৫ জন নারী ভোটার। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত কামাল উদ্দিন খান, বিএনপির জিয়াউদ্দিন সুজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন। গৌরনদী পৌরসভার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোট গ্রহণ শুরুর পর সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভালো উপস্থিতি ছিল। সকাল ১০টার পর বিভিন্ন কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা অবস্থান নিলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমতে শুরু করে। পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম বলেন, ‘ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে ওই দুই পৌরসভায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাইরে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি, র্যাব ও নদী বেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জে কোস্টগার্ড সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।’ বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি সকাল থেকে গৌরনদী পৌরসভার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। কোনো অনিয়ম তার চোখে পড়েনি।
গৌরনদীতে বিএনপি প্রার্থী জহির সাজ্জাদ হান্নান একটি কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ওই কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে সেখানে আসতে বলেছিলেন। তবে বিএনপি প্রার্থী সেখানে আসেননি এবং এরপর আর কোনো অভিযোগও দেননি। মেহেন্দিগঞ্জেও খবর নিয়ে জেনেছেন, সেখানেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভোট দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যারা কেন্দ্রে আসছেন, সুন্দরমতো ভোট দিতে পারছেন


























