ফেসবুকে পরিচয়-প্রেম-বিয়ে: বরগুনার তরুণীকে ঢাকায় ভাড়া বাসায় রেখে স্বামী উধাও! আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২১ ১৫২ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: লালমনিরহাটের ঈমাম হোসেন ইমু পড়েন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বছর তিনেক আগে পরিচয় হয় বরগুনার এক তরুণীর সঙ্গে। ফোনালাপ থেকে ফেসবুকে চ্যাটিং। এরপর চলতে থাকে প্রেম। অবশেষে তিন বছর পর বিয়ের কাজটাও সেরে ফেলেন তারা। এরপর নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা।সেই সূত্র ধরেই স্বামীর স্বীকৃতি আর স্ত্রীর অধিকারের দাবি জানিয়ে সেই তরুণী হাজির হয়েছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায়। গেলো বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি লিখিত অভিযোগ করেন হাতীবান্ধা থানায়। পরবর্তীতে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালেঅচনার ঝড় উঠে গোটা হাতীবান্ধা উপজেলাজুড়ে।
তরুণীর লিখিত বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন বছর আগে ফেসবুকে বরগুনা সদর উপজেলার চরকলোনি এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাংগা ইউনিয়নের ইব্রাহিম হোসেন খলিফার ছেলে ঈমাম হোসেন ইমুর পরিচয় ঘটে। পরিচয় থেকে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেম। গেলো বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মেয়েটির বরিশালে বসবাসকারী খালার বাসায় তারা বিয়ে করেন।মাস ছয়েক ঘর সংসার করার পর তারা চলে যান রাজধানী ঢাকায়। সেখানে ভালোই চলতে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবন। ভাড়া বাসায় থাকেন পাঁচ মাস। সেখানে বসবাসের দুই মাসের মাথায় গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই তরুণী। সুকৌশলে তার গর্ভপাত করান স্বামী ঈমাম হোসেন ইমু। এরপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে শুরু হয় মতবিরোধ। যা মারাত্মক তিক্ততায় রূপ নেয়। এ অবস্থায় স্ত্রীকে ঢাকায় একা রেখেই নিজেকে আড়াল করেন ইমু। চলে যান নিজ গ্রাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নে।
এদিকে, ঢাকায় স্বামীর সন্ধান না পেয়ে কঠিন সমস্যায় দিন পার করতে থাকেন ওই তরুণী।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঈমাম হোসেন ইমুর টংভাংগা গ্রামে চলে যান তিনি। ঠিকানা খুঁজে বের করে সরাসরি উঠে পড়েন স্বামীর বাড়িতে। এরপর ইমুর বাবা মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় না দিয়ে পাশের গ্রামে তার বড় ছেলের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর তার ওপর নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। চলতে নাকে অমানবিক আচরণ। তারা সাফ মেয়েটিকে জানিয়ে দেয় এসব কথা এলাকায় কোনও ব্যক্তিকে না জানিয়ে ফিরে যেতে হবে তাকে তার ঠিকানায়। এতে রাজি না হলে দুর্ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে যায়। তারা মেয়েটিকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকিসহ নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় স্বামী ইমুসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তারা ওই তরুণীকে তিন লাখ টাকা যৌতুকের আল্টিমেটাম দিয়ে জোরপূর্বক একটি বাসে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। বলা হয় তিন লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে গেলে তাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেবে তারা।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আঙ্গুর মিয়া বলেন, ঈমাম হোসেনদের বাড়িতে যাই। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর ইমুর বাবা বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে কয়েক দিনের সময় চাইলে আমরা সময় দেই। এতে কোনও ভালো সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


























