সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

বাবার প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন ছেলে, মৃত্যুর মুখে মা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২১ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
স্বামী পরকীয়া করেন এই অভিযোগে দাম্পত্যকলহের পর বিষপান করেছেন হনুফা বেগম নামের এক নারী। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ঘাস নিধনের বিষ খেয়েছেন হনুফা, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (২ জানুয়ারি) বিষপান করেন হনুফা। হনুফার স্বামী চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত হাই স্কুলের শিক্ষক মোজাফফর আলী ওরফে জহুরুলের (৫০) বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ করেছেন হনুফা বেগমের মা।
হানুফা বেগমের মা বলেন, আমার মেয়ের স্বামীর পরকীয়ার কারণে অতিরিক্ত টেনশনে বিষপান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো।

এদিকে, ওই শিক্ষক জহুরুল তার স্ত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন সাংবাদিকদের কাছে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত হাই স্কুলের প্রাক্তন এক ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শিক্ষক মোজাফফর আলী ওরফে জহুরুল ইসলাম। সেই সুবাদে ওই ছাত্রী জহুরুল ইসলামের স্বশুরবাড়ি দৌলতদিয়াড়ে প্রায় যাতায়াত করত। একপর্যায়ে জহুরুল ইসলামের ছেলে শুভর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি তার মা হানুফা বেগম জানতে পারায় ছেলের সঙ্গে গোপনে ওই মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেন। এতেই স্বামী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো বলে জানান স্থানীয়রা। একপর্যায়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হানুফা বেগম বিষপান করে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেন।
হায়দারপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, জহুরুলের গ্রামের বাড়ি হায়দারপুরে কাজ করতেন হানুফা। কাজ করার সুবাদে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এরপর বিয়েও করেন তারা। কিন্তু জহুরুলের পরিবার বিষয়টিকে মেনে নেয়নি। এ কারণে হানুফা তার বাবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দৌলতদিয়াড়ে থাকতেন। দৌলতদিয়াড়ে জহুরুল মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন। বেশিরভাগ সময় তিনি নিজ গ্রাম হায়দারপুরে অবস্থান করতেন। জহুরুল তার স্ত্রীকে তালাকের ভয় দেখিয়ে তিনি অনৈতিক কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে এর আগে ওই শিক্ষক ২০০৭ সালে নিজ গ্রাম ও একই বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সে সময় মিটিয়ে নেন তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষক জহুরুলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, হানুফা নামে এক নারী সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন বিষপান করা অবস্থায়। প্রথমে তার শরীরের পাকস্থলী থেকে সেটি ওয়াশ করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত সদর থানার এ এসআই শাহিন বলেন, বিষপান করে এক নারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে অজ্ঞান অবস্থায় আছেন তিনি। বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবার প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন ছেলে, মৃত্যুর মুখে মা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
স্বামী পরকীয়া করেন এই অভিযোগে দাম্পত্যকলহের পর বিষপান করেছেন হনুফা বেগম নামের এক নারী। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ঘাস নিধনের বিষ খেয়েছেন হনুফা, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (২ জানুয়ারি) বিষপান করেন হনুফা। হনুফার স্বামী চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত হাই স্কুলের শিক্ষক মোজাফফর আলী ওরফে জহুরুলের (৫০) বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ করেছেন হনুফা বেগমের মা।
হানুফা বেগমের মা বলেন, আমার মেয়ের স্বামীর পরকীয়ার কারণে অতিরিক্ত টেনশনে বিষপান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো।

এদিকে, ওই শিক্ষক জহুরুল তার স্ত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন সাংবাদিকদের কাছে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত হাই স্কুলের প্রাক্তন এক ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শিক্ষক মোজাফফর আলী ওরফে জহুরুল ইসলাম। সেই সুবাদে ওই ছাত্রী জহুরুল ইসলামের স্বশুরবাড়ি দৌলতদিয়াড়ে প্রায় যাতায়াত করত। একপর্যায়ে জহুরুল ইসলামের ছেলে শুভর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বিষয়টি তার মা হানুফা বেগম জানতে পারায় ছেলের সঙ্গে গোপনে ওই মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেন। এতেই স্বামী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো বলে জানান স্থানীয়রা। একপর্যায়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হানুফা বেগম বিষপান করে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেন।
হায়দারপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, জহুরুলের গ্রামের বাড়ি হায়দারপুরে কাজ করতেন হানুফা। কাজ করার সুবাদে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এরপর বিয়েও করেন তারা। কিন্তু জহুরুলের পরিবার বিষয়টিকে মেনে নেয়নি। এ কারণে হানুফা তার বাবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দৌলতদিয়াড়ে থাকতেন। দৌলতদিয়াড়ে জহুরুল মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন। বেশিরভাগ সময় তিনি নিজ গ্রাম হায়দারপুরে অবস্থান করতেন। জহুরুল তার স্ত্রীকে তালাকের ভয় দেখিয়ে তিনি অনৈতিক কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে এর আগে ওই শিক্ষক ২০০৭ সালে নিজ গ্রাম ও একই বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সে সময় মিটিয়ে নেন তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষক জহুরুলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, হানুফা নামে এক নারী সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন বিষপান করা অবস্থায়। প্রথমে তার শরীরের পাকস্থলী থেকে সেটি ওয়াশ করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত সদর থানার এ এসআই শাহিন বলেন, বিষপান করে এক নারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে অজ্ঞান অবস্থায় আছেন তিনি। বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।