সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

জমি নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই আপন বোনকে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দুই বছর আগে সংগঠিত একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার বাদী মুছা মিয়াই তার স্বামী পরিত্যক্তা বোন রফিজা খাতুন হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানান তিনি।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা রফিজা খাতুনকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করেন তার আপন ভাই মুছা মিয়া ও তার সহযোগীরা।

পরবর্তীতে মুছা মিয়াই বাদী হয়ে তার প্রতিপক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. আক্কাছ মিয়া (৪৫) ও মৃত সাদত মিয়ার ছেলে পরশ মিয়া (৪৫)।

এসপি শাখাওয়াত হোসেন জানান, রামপুর গ্রামের দরবেশ মিয়ার ছেলে মুছা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের গোষ্ঠীগতসহ নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ গ্রামের একটি খাস জমি দখল নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ওই জমি নিয়ে গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে আবু কালামের একজন সমর্থক নিহত হন।

এই খবর জানার পর মুছা মিয়া প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সেই পরিকল্পনায় অনুযায়ী মুছা মিয়া ও তার ভাই মোবারক, সোহাগ মিয়া, ভগ্নীপতি জয়নাল এবং চাচাতো ভাই আক্কাছসহ আরও কয়েকজন রফিজা খাতুনকে ঘটনার দিন রফিজাকে বাড়ির আঙিনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর প্রতিপক্ষের ৫৭ জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছা।

এসপি জানান, পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পাওয়ার পর বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আক্কাছকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া সোহাগ ও পরশকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুছা মিয়াসহ জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসপি শাখাওয়াত হোসেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) গোলাম কিবরিয়া, পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাসুদ পারভেজ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জমি নিয়ে বিরোধ: প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই আপন বোনকে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০

আজকের ক্রাইম ডেক্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দুই বছর আগে সংগঠিত একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার বাদী মুছা মিয়াই তার স্বামী পরিত্যক্তা বোন রফিজা খাতুন হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানান তিনি।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা রফিজা খাতুনকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করেন তার আপন ভাই মুছা মিয়া ও তার সহযোগীরা।

পরবর্তীতে মুছা মিয়াই বাদী হয়ে তার প্রতিপক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রামপুর গ্রামের মৃত দরবেশ মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. আক্কাছ মিয়া (৪৫) ও মৃত সাদত মিয়ার ছেলে পরশ মিয়া (৪৫)।

এসপি শাখাওয়াত হোসেন জানান, রামপুর গ্রামের দরবেশ মিয়ার ছেলে মুছা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের গোষ্ঠীগতসহ নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ গ্রামের একটি খাস জমি দখল নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ওই জমি নিয়ে গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে আবু কালামের একজন সমর্থক নিহত হন।

এই খবর জানার পর মুছা মিয়া প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সেই পরিকল্পনায় অনুযায়ী মুছা মিয়া ও তার ভাই মোবারক, সোহাগ মিয়া, ভগ্নীপতি জয়নাল এবং চাচাতো ভাই আক্কাছসহ আরও কয়েকজন রফিজা খাতুনকে ঘটনার দিন রফিজাকে বাড়ির আঙিনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর প্রতিপক্ষের ৫৭ জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছা।

এসপি জানান, পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পাওয়ার পর বিজ্ঞান ভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে আক্কাছকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া সোহাগ ও পরশকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুছা মিয়াসহ জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসপি শাখাওয়াত হোসেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) গোলাম কিবরিয়া, পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাসুদ পারভেজ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।