সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শেফালি মসজিদে দান করলেন ৪০ হাজার টাকা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: রাজশাহীর বাঘায় শেফালি খাতুন নামের প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক ৪০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন। শেফালি দিনে দিনে ভিক্ষা করে দফায় দফায় টাকা জমিয়ে মসজিদে দান করেন।
জানা যায়, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান শেফালি। তারপর থেকে ভিক্ষার কাজে নেমে পড়েন। শেফালির ১৫ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সে মাঝে-মধ্যে দিনমজুরের কাজ করে।

এদিকে তিনি ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে দিনে দিনে জমানো ৪০ হাজার টাকা দান করেন বাঘা পৌর এলাকার দক্ষিণ গাঁওপাড়া জামে মসজিদে। তিনি তোঁতলাভাবে কথা বলেন। লাঠির উপর ভর করে চলাফেরা করেন। ভিক্ষুক শেফালির বাড়ি উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে।

বুধবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল ঘরের দরজা তালাবন্ধ। তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী রঞ্জনা জানান, ভিক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে সকালে বের হয়, ফিরে আসে সন্ধ্যায়। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় এক কাঠা জমিতে ঘর তুলে কোনোরকমে বসবাস করেন শেফালি। তারপরও নিজের চিন্তা না করে ভিক্ষার জমানো টাকা মসজিদে দিয়েছেন। তবে তার জমি থাকলেও পায়নি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের সরকারি ঘর। তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে।

পরে বাঘা বাজারে শেফালির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সংসার চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা গ্রামের গোরস্থান, মসজিদে মাইক, ফ্যান কেনার জন্য টাকা দান করেছি। আমার ইচ্ছা এবার ভিক্ষা করে নিজের সংসারে খরচ করে যা বাঁচবে, সেই টাকা জমিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিব। আল্লাহর ঘরে দান করলে পরকালে শান্তি পাওয়া যাবে।

গড়গড়ি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, শেফালির বাবা মসলেম উদ্দিন প্রামাণিক ছিলেন দিনমজুর। মায়ের মৃত্যুর পর বেড়ে উঠেন বাবার আশ্রয়ে। বাবা বেঁচে থাকতে শেফালিকে বিয়ে দিয়েছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক ছেলের সঙ্গে। এ বিয়ের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হন। তারপর থেকে ভিক্ষা শুরু করেন।

বাঘা পৌরসভার দক্ষিণ গাঁওপাড়া গোরস্থান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সামসুজ্জোহা সরকার, মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ও রফিকুল ইসলাম জানান, দফায় দফায় ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন শেফালি। সেই টাকা দিয়ে মসজিদের মাইক, ফ্যান ও টাইলসের কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গড়গড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, শেফালি ভিক্ষা করে সংসার চালান। পাশাপাশি অবশিষ্ট জমানো টাকা মসজিদে দান করেছেন শুনেছি। তবে তাকে পরিষদ থেকে সহযোগিতা করা হয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শেফালি মসজিদে দান করলেন ৪০ হাজার টাকা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: রাজশাহীর বাঘায় শেফালি খাতুন নামের প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক ৪০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন। শেফালি দিনে দিনে ভিক্ষা করে দফায় দফায় টাকা জমিয়ে মসজিদে দান করেন।
জানা যায়, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান শেফালি। তারপর থেকে ভিক্ষার কাজে নেমে পড়েন। শেফালির ১৫ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সে মাঝে-মধ্যে দিনমজুরের কাজ করে।

এদিকে তিনি ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে দিনে দিনে জমানো ৪০ হাজার টাকা দান করেন বাঘা পৌর এলাকার দক্ষিণ গাঁওপাড়া জামে মসজিদে। তিনি তোঁতলাভাবে কথা বলেন। লাঠির উপর ভর করে চলাফেরা করেন। ভিক্ষুক শেফালির বাড়ি উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে।

বুধবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল ঘরের দরজা তালাবন্ধ। তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী রঞ্জনা জানান, ভিক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে সকালে বের হয়, ফিরে আসে সন্ধ্যায়। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় এক কাঠা জমিতে ঘর তুলে কোনোরকমে বসবাস করেন শেফালি। তারপরও নিজের চিন্তা না করে ভিক্ষার জমানো টাকা মসজিদে দিয়েছেন। তবে তার জমি থাকলেও পায়নি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের সরকারি ঘর। তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে।

পরে বাঘা বাজারে শেফালির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সংসার চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা গ্রামের গোরস্থান, মসজিদে মাইক, ফ্যান কেনার জন্য টাকা দান করেছি। আমার ইচ্ছা এবার ভিক্ষা করে নিজের সংসারে খরচ করে যা বাঁচবে, সেই টাকা জমিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিব। আল্লাহর ঘরে দান করলে পরকালে শান্তি পাওয়া যাবে।

গড়গড়ি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, শেফালির বাবা মসলেম উদ্দিন প্রামাণিক ছিলেন দিনমজুর। মায়ের মৃত্যুর পর বেড়ে উঠেন বাবার আশ্রয়ে। বাবা বেঁচে থাকতে শেফালিকে বিয়ে দিয়েছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক ছেলের সঙ্গে। এ বিয়ের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হন। তারপর থেকে ভিক্ষা শুরু করেন।

বাঘা পৌরসভার দক্ষিণ গাঁওপাড়া গোরস্থান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সামসুজ্জোহা সরকার, মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ও রফিকুল ইসলাম জানান, দফায় দফায় ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন শেফালি। সেই টাকা দিয়ে মসজিদের মাইক, ফ্যান ও টাইলসের কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গড়গড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, শেফালি ভিক্ষা করে সংসার চালান। পাশাপাশি অবশিষ্ট জমানো টাকা মসজিদে দান করেছেন শুনেছি। তবে তাকে পরিষদ থেকে সহযোগিতা করা হয়