সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চোখের জলে বরিশাল পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলের চিরবিদায়। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: শৈশবকাল থেকেই বেশ চাপা স্বভাবের ছিলেন আনিসুল করিম শিপন। নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন সবকিছু। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল কর্মক্ষেত্রেও কোনো চাপে থাকলে তা কারও সঙ্গে শেয়ার করতেন না। ফলে কিছুটা মানসিক সমস্যা তার ওপর ভর করে। এই কর্মকর্তা সুচিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে ওই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাজীপুরের সন্তান ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তা শিপনকে পিটিয়ে হত্যা করে। মঙ্গলবার গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জানাজা শেষে তাকে সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ হাজারো মানুষের চোখের জলে বিদায় নেন আনিসুল। জানাজায় অংশ নেন গাজীপুর জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আনিসুলের বাবা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ পুলিশ পরিদর্শক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল গ্রামে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফাইজুদ্দীন মহানগরের বরুদা এলাকায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বরুদার এই বাড়িতেই আনিসুলের কেটেছে শৈশব-কৈশোর।

জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বড় ভাই বলেন- খুব চাপা স্বভাবের শিপন মানসিক চাপে থাকলেও কাউকে কিছু বলত না। সম্প্রতি তার কিছুটা মানসিক সমস্যা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে তার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। বাবা ফাইজুদ্দীনও ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চান।

প্রতিবেশী চাচা মুক্তিযোদ্ধা এমএ কাশেম সাংবাদিকদের জানান, আনিসুল অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, হাসিখুশি ও মিশুক প্রকৃতির ছিল। চাচা রফিকুল ইসলাম রতন এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চান।

গাজীপুর শহরের রানী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি ও কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন আনিসুল। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞানের (৩৩ ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। ৩১তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হন আনিসুল। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে ছিলেন। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১১ সালে আনিসুল বিয়ে করেন। তার স্ত্রী শারমিন সুলতানাও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ দম্পতির সাফরান করিম নামের ছেলে রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চোখের জলে বরিশাল পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলের চিরবিদায়। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০২০

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: শৈশবকাল থেকেই বেশ চাপা স্বভাবের ছিলেন আনিসুল করিম শিপন। নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন সবকিছু। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল কর্মক্ষেত্রেও কোনো চাপে থাকলে তা কারও সঙ্গে শেয়ার করতেন না। ফলে কিছুটা মানসিক সমস্যা তার ওপর ভর করে। এই কর্মকর্তা সুচিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে ওই হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাজীপুরের সন্তান ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তা শিপনকে পিটিয়ে হত্যা করে। মঙ্গলবার গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জানাজা শেষে তাকে সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ হাজারো মানুষের চোখের জলে বিদায় নেন আনিসুল। জানাজায় অংশ নেন গাজীপুর জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আনিসুলের বাবা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ পুলিশ পরিদর্শক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল গ্রামে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফাইজুদ্দীন মহানগরের বরুদা এলাকায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বরুদার এই বাড়িতেই আনিসুলের কেটেছে শৈশব-কৈশোর।

জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বড় ভাই বলেন- খুব চাপা স্বভাবের শিপন মানসিক চাপে থাকলেও কাউকে কিছু বলত না। সম্প্রতি তার কিছুটা মানসিক সমস্যা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে তার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। বাবা ফাইজুদ্দীনও ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চান।

প্রতিবেশী চাচা মুক্তিযোদ্ধা এমএ কাশেম সাংবাদিকদের জানান, আনিসুল অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, হাসিখুশি ও মিশুক প্রকৃতির ছিল। চাচা রফিকুল ইসলাম রতন এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চান।

গাজীপুর শহরের রানী বিলাসমণি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি ও কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন আনিসুল। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞানের (৩৩ ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। ৩১তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হন আনিসুল। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে ছিলেন। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১১ সালে আনিসুল বিয়ে করেন। তার স্ত্রী শারমিন সুলতানাও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ দম্পতির সাফরান করিম নামের ছেলে রয়েছে।’