সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সংশোধনী প্রাণঘাতি করোনায় সব স্বপ্ন চুরমার… কাতার প্রবাসফেরত স্বপন এখন ফুটপাতের চা দোকানী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি॥ দু’চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে জীবনকে বদলে ফেলতে চাকরি নামের সোনার হরিণের খোঁজে ১৯ মাস পূর্বে সুদূর কাতার গিয়েছিলেন বরিশালের বানারীপাড়ার পশ্চিম সলিয়াবাকপুর গ্রামের স্বপন। সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ভালোই কাটছিলো তার। স্বপনের কাতার যেতে হওয়া ঋন একটু একটু করে পরিশোধের পাশাপাশি স্ত্রী,১০ বছর বয়সী জুঁই ও তিন বছরের মেয়ে জামিলাকে নিয়ে সংসার ভালোই চলছিলো। দু’মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে তাদের আলোকিত জীবন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আনার স্বপ্ন নিয়ে কাতারে রাত-দিন কাজ করে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন তিনি। কিন্তু স্বপনের চোখে রঙিন স্বপ্ন হারিয়ে হঠাৎ অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। আর সেই অন্ধকার নামিয়ে দেয় কোভিড-১৯ প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস। করোনার কারনে কাতারে ৫ মাস বেকার হোম কোয়ারেন্টাইন জীবন কাটিয়ে গত চার মাস পূর্বে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। দেশে এসে কর্মহীন থেকে সংসারে নিত্য অভাব ও বিদেশে যেতে হওয়া ঋন পরিশোধের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। কোথাও কোন কাজ না পেয়ে স্বপন নিরুপায় হয়ে পড়ে। অবশেষে সম্প্রতি বানারীপাড়া পৌর শহরের বন্দর বাজারের ফেরীঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে শহর রক্ষা বাধের আদলে নির্মিত নতুন রাস্তার পাশে বাঁশ,টিন ও পলিথিন দিয়ে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে চা-বিস্কুট-সিঙ্গারার দোকান দেন তিনি। এ দোকানে সারাদিনে তার আয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তার এ সামান্য আয় দিয়ে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। কিভাবে দু’মেয়ের লেখাপড়ার খরচ,৪ জনের সংসারের ভরণপোষন ও ঋন পরিশোধ করবে এ দুঃশ্চিন্তায় তিনি কাতর। এছাড়া নদীর তীরে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা দোকানটিও পৌর কতৃপক্ষ যেকোন সময় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে এ শঙ্কাও রয়েছে তার। প্রাণঘাতি করোনা স্বপনের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করে বিদেশের সুখের জীবনে অমানিশার ঘোর অন্ধকার নামিয়ে আজ তাকে ফুটপাতের অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ বিষয়ে স্বপন বলেন, করোনা আমাকে পথে বসিয়েছে। বড় আশা নিয়ে আমি কাতার গিয়েছিলাম। ফিরে আসলাম খালি হাতে। এখন যে ভালো কোনো ব্যবসা করব সেই উপায়ও নেই আমার কাছে। কিছু অর্থ পেলে ভালো কোনো ব্যবসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংশোধনী প্রাণঘাতি করোনায় সব স্বপ্ন চুরমার… কাতার প্রবাসফেরত স্বপন এখন ফুটপাতের চা দোকানী!

আপডেট সময় : ০২:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি॥ দু’চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে জীবনকে বদলে ফেলতে চাকরি নামের সোনার হরিণের খোঁজে ১৯ মাস পূর্বে সুদূর কাতার গিয়েছিলেন বরিশালের বানারীপাড়ার পশ্চিম সলিয়াবাকপুর গ্রামের স্বপন। সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ভালোই কাটছিলো তার। স্বপনের কাতার যেতে হওয়া ঋন একটু একটু করে পরিশোধের পাশাপাশি স্ত্রী,১০ বছর বয়সী জুঁই ও তিন বছরের মেয়ে জামিলাকে নিয়ে সংসার ভালোই চলছিলো। দু’মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে তাদের আলোকিত জীবন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আনার স্বপ্ন নিয়ে কাতারে রাত-দিন কাজ করে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন তিনি। কিন্তু স্বপনের চোখে রঙিন স্বপ্ন হারিয়ে হঠাৎ অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। আর সেই অন্ধকার নামিয়ে দেয় কোভিড-১৯ প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস। করোনার কারনে কাতারে ৫ মাস বেকার হোম কোয়ারেন্টাইন জীবন কাটিয়ে গত চার মাস পূর্বে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। দেশে এসে কর্মহীন থেকে সংসারে নিত্য অভাব ও বিদেশে যেতে হওয়া ঋন পরিশোধের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। কোথাও কোন কাজ না পেয়ে স্বপন নিরুপায় হয়ে পড়ে। অবশেষে সম্প্রতি বানারীপাড়া পৌর শহরের বন্দর বাজারের ফেরীঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে শহর রক্ষা বাধের আদলে নির্মিত নতুন রাস্তার পাশে বাঁশ,টিন ও পলিথিন দিয়ে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে চা-বিস্কুট-সিঙ্গারার দোকান দেন তিনি। এ দোকানে সারাদিনে তার আয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তার এ সামান্য আয় দিয়ে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। কিভাবে দু’মেয়ের লেখাপড়ার খরচ,৪ জনের সংসারের ভরণপোষন ও ঋন পরিশোধ করবে এ দুঃশ্চিন্তায় তিনি কাতর। এছাড়া নদীর তীরে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা দোকানটিও পৌর কতৃপক্ষ যেকোন সময় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে এ শঙ্কাও রয়েছে তার। প্রাণঘাতি করোনা স্বপনের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করে বিদেশের সুখের জীবনে অমানিশার ঘোর অন্ধকার নামিয়ে আজ তাকে ফুটপাতের অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ বিষয়ে স্বপন বলেন, করোনা আমাকে পথে বসিয়েছে। বড় আশা নিয়ে আমি কাতার গিয়েছিলাম। ফিরে আসলাম খালি হাতে। এখন যে ভালো কোনো ব্যবসা করব সেই উপায়ও নেই আমার কাছে। কিছু অর্থ পেলে ভালো কোনো ব্যবসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
###