সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী মাসুক স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীরের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন চুয়াডাঙ্গার জেলা জামায়াতের জেলা আমির এমপি রুহুল আমিনের শপথ ঘোড়াঘাটে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট জানাযার খাদ্যের দাম বৃদ্ধি বিপাকে গরুর মালিক ও খামারিরা চুয়াডাঙ্গার বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান!লিখন,পরে মুছন ঝালকাঠিতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ড.জিয়াউদ্দিন হায়দার দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ৭ আসামী গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জন নয়, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হতে হবে: জিয়াউদ্দিন হায়দার উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি রাস্তার চার কিলোমিটার এলাকার গাছ লুটের মহোৎসব

ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বিয়ে করলেন ‘ছোটবেলার প্রেমিক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বিয়ে করলেন ‘ছোটবেলার প্রেমিক’
ভালোবাসারা মরে না। বেঁচে থাকে আজীবন। কখনো তা সুপ্ত বা প্রকাশিত। আর তারই নিদর্শন দিলেন ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কুলতলির বাসিন্দা শুভঙ্কর ও তার প্রেমিকা। গত সোমবার কুলতলির পূর্ব গোপালগঞ্জে শুভঙ্করের বাড়িতেই চারহাত এক করা হয়। অনেক লড়াই করা, কষ্ট পাওয়া মেয়েটাকে নিজের মেয়ের মতো করেই বাড়িতে তুলেছেন শুভঙ্করের বাবা ও মা।

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কুলতলি ব্লকের পশ্চিম গোপালগঞ্জের বাসিন্দা শুভঙ্করের ভালোবাসার মানুষটি। কিন্তু গোটা জীবনটা তার বড়ই যন্ত্রণার। ওই তরুণীর মাতৃগর্ভে থাকার সময়ই তার বাবা বিয়ে করে চলে যায়। জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় মায়ের। একমাত্র আশ্রয় ছিল মাসি, দিদা ও দাদা। ছোটবেলা কোনোরকমে কাটলেও মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাকে।
সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালে। বাড়িতে কেউ না থাকায় দাদার কাছে টানা ছয়দিন ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাকে। ছোট্ট মেয়েটি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শুভঙ্কর মণ্ডলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কিশোরী হৃদয়। নিজের ওপর অত্যাচারের কথা খুলে জানায় প্রেমিককে। শুভঙ্কর বিষয়টি জানায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। তাদের পক্ষ থেকে কুলতলি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু এর পরিণতি হয় আরো মারাত্মক।

অভিযোগ করার ‘অপরাধে’ বাড়ি ছাড়তে হয় অসহায় মেয়েটাকে। তাকে যৌন পল্লীতে বিক্রি করে দেওয়ারও চেষ্টা করে তার অত্মীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায়। সেখানেই নতুন জীবন শুরু হয় নির্যাতিতা ওই সাহসী কিশোরীর। নতুন করে পড়াশোনাও শুরু করে। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পাস করেন ওই তরুণী। ততদিনে স্নাতক পাস করে ফেলেছেন শুভঙ্কর।
প্রথমে উপার্জনের জন্য গাড়ি চালানোর কাজ শুরু করলেও পরবর্তীকালে মাছের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। একইসঙ্গে ছোটবেলার প্রেমিকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন শুভঙ্কর। প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওই তরুণী হোম কতৃপক্ষের কাছে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পাত্র হিসেবে শুভঙ্করের কথা জানান তিনি। যোগাযোগ করা হয় শুভঙ্কর ও তার পরিবারের সঙ্গে। এরপর গত সোমবার কুলতলির পূর্ব গোপালগঞ্জে শুভঙ্করের বাড়িতেই তাদের বিয়ে হয়।
সূত্র: নিউজ এইটিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বিয়ে করলেন ‘ছোটবেলার প্রেমিক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে বিয়ে করলেন ‘ছোটবেলার প্রেমিক’
ভালোবাসারা মরে না। বেঁচে থাকে আজীবন। কখনো তা সুপ্ত বা প্রকাশিত। আর তারই নিদর্শন দিলেন ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কুলতলির বাসিন্দা শুভঙ্কর ও তার প্রেমিকা। গত সোমবার কুলতলির পূর্ব গোপালগঞ্জে শুভঙ্করের বাড়িতেই চারহাত এক করা হয়। অনেক লড়াই করা, কষ্ট পাওয়া মেয়েটাকে নিজের মেয়ের মতো করেই বাড়িতে তুলেছেন শুভঙ্করের বাবা ও মা।

ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কুলতলি ব্লকের পশ্চিম গোপালগঞ্জের বাসিন্দা শুভঙ্করের ভালোবাসার মানুষটি। কিন্তু গোটা জীবনটা তার বড়ই যন্ত্রণার। ওই তরুণীর মাতৃগর্ভে থাকার সময়ই তার বাবা বিয়ে করে চলে যায়। জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় মায়ের। একমাত্র আশ্রয় ছিল মাসি, দিদা ও দাদা। ছোটবেলা কোনোরকমে কাটলেও মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাকে।
সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালে। বাড়িতে কেউ না থাকায় দাদার কাছে টানা ছয়দিন ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাকে। ছোট্ট মেয়েটি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শুভঙ্কর মণ্ডলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে কিশোরী হৃদয়। নিজের ওপর অত্যাচারের কথা খুলে জানায় প্রেমিককে। শুভঙ্কর বিষয়টি জানায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। তাদের পক্ষ থেকে কুলতলি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু এর পরিণতি হয় আরো মারাত্মক।

অভিযোগ করার ‘অপরাধে’ বাড়ি ছাড়তে হয় অসহায় মেয়েটাকে। তাকে যৌন পল্লীতে বিক্রি করে দেওয়ারও চেষ্টা করে তার অত্মীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায়। সেখানেই নতুন জীবন শুরু হয় নির্যাতিতা ওই সাহসী কিশোরীর। নতুন করে পড়াশোনাও শুরু করে। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পাস করেন ওই তরুণী। ততদিনে স্নাতক পাস করে ফেলেছেন শুভঙ্কর।
প্রথমে উপার্জনের জন্য গাড়ি চালানোর কাজ শুরু করলেও পরবর্তীকালে মাছের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। একইসঙ্গে ছোটবেলার প্রেমিকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন শুভঙ্কর। প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওই তরুণী হোম কতৃপক্ষের কাছে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পাত্র হিসেবে শুভঙ্করের কথা জানান তিনি। যোগাযোগ করা হয় শুভঙ্কর ও তার পরিবারের সঙ্গে। এরপর গত সোমবার কুলতলির পূর্ব গোপালগঞ্জে শুভঙ্করের বাড়িতেই তাদের বিয়ে হয়।
সূত্র: নিউজ এইটিন।