সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

১১ কিশোরী ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে মামলা না নিতে থানায় সুপারিশ রেখেছিলেন এমপি! আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: নওরোজ হিরা সিকদার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। আর এ ক্ষমতা ব্যবহার করেই গত চার বছরে ১১ কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে সে। শুধু ধর্ষণই নয়, সেই দৃশ্য মোবাইলেও ধারণ করতো। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও দেখিয়ে কিশোরীদের একাধিকবার ধর্ষণ করে আসছিল। হিরা সিকদারের মোবাইলে এসব ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হিরা সিকদারের এমন বিকৃত রুচির শিকার হয়েছেন একই পরিবারের তিন বোন এবং আরেকটি পরিবারের দুই বোন। আর এ খবর প্রকাশ হওয়ায় ঘটনার শিকার ২ নারীর বিয়ে ভেঙে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হিরা সিকদার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউপির পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে। ২৮ অক্টোবর রাতে হিরাসহ দুজনের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক কিশোরীর বাবা। আর ১১ জনের পক্ষে থানায় আরেকটি ধর্ষণ মামলা করেন আরেক অভিভাবক।

অভিযোগ রয়েছে প্রথমে হিরার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মেয়ের অভিভাবক একটি অভিযোগ দিলে ওসি আবুল কালাম তা গ্রহণ করেনি। বরং অভিযোগকারীকে উল্টো মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান। নিশ্চিত হওয়া যায়- বরিশালের স্থানীয় এক এমপি হিরার বিরুদ্ধে মামলা না নিতে থানা পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন। মুলত এই কারণে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে রিয়াজ নামের সেই অভিভাবকের অভিযোগটি গ্রহণ করনি। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হলে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার অভিযোগ অনেকটা চাপের মুখে মামলায় রুপ দিতে বাধ্য হন ওসি। কিন্তু এর পর শুরু হয় তাকে গ্রেপ্তারে বহু নাটকীয়তা।

মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন হিরা সিকদার। পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা পেতে অনেকটা গোপনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নওরোজ হিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক এসএম মাহফুজ আলম তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে- ১৯ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর গ্রামের সিকদার বাড়ি এলাকায় হিরা সিকদারকে মারধর করা হয়। এ সময় হিরার পকেট থেকে ব্যবহৃত মোবাইল পড়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইলটি একই গ্রামের এক ব্যক্তি কুড়িয়ে পান। সেই মোবাইলে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে হিরার অশ্লীল ভিডিও দেখতে পান। এর মধ্যে মোবাইলটি পাওয়া ব্যক্তির মেয়ের ভিডিও রয়েছে। এরপর এক এক করে গ্রামের বেশিরভাগ ব্যক্তির মোবাইলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

১১ ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় অভিযোগ দেওয়া একজন জানান, হিরা সিকদার বিভিন্ন সময় গ্রামের মেয়েদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল। এর মধ্যে তার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছিল। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষমতায় ওই শিক্ষার্থীদের ফল বদলে দেয়ার নাম করে ধর্ষণ করে সে। আবার কাউকে সরকারি চাকরি দেওয়া, বিয়ে করে সংসার করা, ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে।

২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১১টি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে হিরা সিকদার। এদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। শারীরিক সম্পর্কের সময় এসব মেয়ের অগোচরে হিরা তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতেন পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ফের ধর্ষণ করতেন।

এদের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ের পর তাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ওই ভিডিও দেখায় হিরা সিকদার। ফলে তাদের তালাক দেওয়া হয়। এছাড়া তার ধর্ষণের শিকার হয়েছে একই পরিবারের তিন বোন এবং আরেক পরিবারের দুই বোন। কিন্তু ভিডিওর জন্য তারা কারও কাছে কোনো অভিযোগ করতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিরার ঘনিষ্ঠ এক স্বজন জানান, হিরা বিবাহিত। সে তার স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় থাকতো। ওই সময় তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে হিরা এক ছেলেকে বলাৎকার করে। এ ঘটনা এলাকাবাসী দেখে ফেললে হিরার মাথার চুল থেকে শুরু করে ভ্রু পর্যন্ত কেটে দেয়। পরে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর হিরাকে তালাক দেয় স্ত্রী। এরপর থেকে হিরা গ্রামের বাড়িতে থাকা শুরু করে।

বিষয়টি জেনে অভিযুক্ত হিরা যে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সেই কমিটির সভাপতি মীর মহিসন ভীষণ ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন- আমি হিরা সিকদারের বিচার চাই। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার বিষয়টি আমি জানি। আমরাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১১ কিশোরী ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে মামলা না নিতে থানায় সুপারিশ রেখেছিলেন এমপি! আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: নওরোজ হিরা সিকদার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। আর এ ক্ষমতা ব্যবহার করেই গত চার বছরে ১১ কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে সে। শুধু ধর্ষণই নয়, সেই দৃশ্য মোবাইলেও ধারণ করতো। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও দেখিয়ে কিশোরীদের একাধিকবার ধর্ষণ করে আসছিল। হিরা সিকদারের মোবাইলে এসব ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হিরা সিকদারের এমন বিকৃত রুচির শিকার হয়েছেন একই পরিবারের তিন বোন এবং আরেকটি পরিবারের দুই বোন। আর এ খবর প্রকাশ হওয়ায় ঘটনার শিকার ২ নারীর বিয়ে ভেঙে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হিরা সিকদার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউপির পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে। ২৮ অক্টোবর রাতে হিরাসহ দুজনের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক কিশোরীর বাবা। আর ১১ জনের পক্ষে থানায় আরেকটি ধর্ষণ মামলা করেন আরেক অভিভাবক।

অভিযোগ রয়েছে প্রথমে হিরার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মেয়ের অভিভাবক একটি অভিযোগ দিলে ওসি আবুল কালাম তা গ্রহণ করেনি। বরং অভিযোগকারীকে উল্টো মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান। নিশ্চিত হওয়া যায়- বরিশালের স্থানীয় এক এমপি হিরার বিরুদ্ধে মামলা না নিতে থানা পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন। মুলত এই কারণে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে রিয়াজ নামের সেই অভিভাবকের অভিযোগটি গ্রহণ করনি। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হলে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার অভিযোগ অনেকটা চাপের মুখে মামলায় রুপ দিতে বাধ্য হন ওসি। কিন্তু এর পর শুরু হয় তাকে গ্রেপ্তারে বহু নাটকীয়তা।

মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন হিরা সিকদার। পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা পেতে অনেকটা গোপনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নওরোজ হিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক এসএম মাহফুজ আলম তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে- ১৯ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর গ্রামের সিকদার বাড়ি এলাকায় হিরা সিকদারকে মারধর করা হয়। এ সময় হিরার পকেট থেকে ব্যবহৃত মোবাইল পড়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইলটি একই গ্রামের এক ব্যক্তি কুড়িয়ে পান। সেই মোবাইলে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে হিরার অশ্লীল ভিডিও দেখতে পান। এর মধ্যে মোবাইলটি পাওয়া ব্যক্তির মেয়ের ভিডিও রয়েছে। এরপর এক এক করে গ্রামের বেশিরভাগ ব্যক্তির মোবাইলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

১১ ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় অভিযোগ দেওয়া একজন জানান, হিরা সিকদার বিভিন্ন সময় গ্রামের মেয়েদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল। এর মধ্যে তার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছিল। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষমতায় ওই শিক্ষার্থীদের ফল বদলে দেয়ার নাম করে ধর্ষণ করে সে। আবার কাউকে সরকারি চাকরি দেওয়া, বিয়ে করে সংসার করা, ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে।

২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১১টি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে হিরা সিকদার। এদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। শারীরিক সম্পর্কের সময় এসব মেয়ের অগোচরে হিরা তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতেন পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ফের ধর্ষণ করতেন।

এদের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ের পর তাদের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ওই ভিডিও দেখায় হিরা সিকদার। ফলে তাদের তালাক দেওয়া হয়। এছাড়া তার ধর্ষণের শিকার হয়েছে একই পরিবারের তিন বোন এবং আরেক পরিবারের দুই বোন। কিন্তু ভিডিওর জন্য তারা কারও কাছে কোনো অভিযোগ করতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিরার ঘনিষ্ঠ এক স্বজন জানান, হিরা বিবাহিত। সে তার স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় থাকতো। ওই সময় তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে হিরা এক ছেলেকে বলাৎকার করে। এ ঘটনা এলাকাবাসী দেখে ফেললে হিরার মাথার চুল থেকে শুরু করে ভ্রু পর্যন্ত কেটে দেয়। পরে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর হিরাকে তালাক দেয় স্ত্রী। এরপর থেকে হিরা গ্রামের বাড়িতে থাকা শুরু করে।

বিষয়টি জেনে অভিযুক্ত হিরা যে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সেই কমিটির সভাপতি মীর মহিসন ভীষণ ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন- আমি হিরা সিকদারের বিচার চাই। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার বিষয়টি আমি জানি। আমরাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’