সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা

রং নম্বরে পরিচয়, স্বামীর ঘর ছেড়ে গৃহবধূর সর্বনাশ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: পঞ্চগড়ে মাইক্রোবাসে রাতভর এক গৃহবধূকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষক ও তাদের দুই সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম রতন (২৫), একই এলাকার অটোরিকশার চালক আমিরুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় পৌরসভার নিমনগর এলাকার মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলাম (২৭) ও সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের শিকারপুর এলাকার নুর আলম (২৪)।

এদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম রতন ও মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলামকে ধর্ষক হিসেবে এবং আমিরুল ইসলাম ও নুর আলমকে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ওই গৃহবধূর সঙ্গে সম্প্রতি রং নম্বরের ফোন থেকে ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার যুবক জাহিদুল ইসলাম রতনের পরিচয় হয়। রতন মাঝে মধ্যে ওই গৃহবধূকে ফোন করতেন।

গত ২৬ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেন। বিকেলে রতন ওই গৃহবধূকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। গৃহবধূও প্রলোভনে পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ময়দানদিঘী বিআরটিসি কাউন্টারে যান।

সেখানে রতন ওই গৃহবধূকে বিয়ের জন্য কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমিরুলের অটোরিকশায় করে বোদা বাজার হয়ে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে নিয়ে যান। খাওয়া দাওয়ার পর গভীর রাতে শহিদুলের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মালাদাম এলাকার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে আবার ওই গৃহবধূকে নিয়ে পঞ্চগড় মৈত্রি ফিলিং স্টেশনে সামনে এনে গাড়ি থামান।

এ সময় ওই গৃহবধূ তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে চিৎকার করলে তারা তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে রতন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে চালক শহিদুলও তাকে ধর্ষণ করেন।

ভোর পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণের সময় অটোরিকশার চালক আমিরুল ও নুর আলম বাইরে পাহারা দেন। ভোরে ওই গৃহবধূকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বোদা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে চলে যান রতন। খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।

বাড়িতে ফিরে মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে বোদা থানায় গিয়ে দুই ধর্ষকসহ চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই রতনকে গ্রেফতার করে বোদা থানা পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপর ৩ আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

বোদা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া জানান, ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রং নম্বরে পরিচয়, স্বামীর ঘর ছেড়ে গৃহবধূর সর্বনাশ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ১০:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :: পঞ্চগড়ে মাইক্রোবাসে রাতভর এক গৃহবধূকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষক ও তাদের দুই সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম রতন (২৫), একই এলাকার অটোরিকশার চালক আমিরুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় পৌরসভার নিমনগর এলাকার মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলাম (২৭) ও সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের শিকারপুর এলাকার নুর আলম (২৪)।

এদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম রতন ও মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলামকে ধর্ষক হিসেবে এবং আমিরুল ইসলাম ও নুর আলমকে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ওই গৃহবধূর সঙ্গে সম্প্রতি রং নম্বরের ফোন থেকে ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার যুবক জাহিদুল ইসলাম রতনের পরিচয় হয়। রতন মাঝে মধ্যে ওই গৃহবধূকে ফোন করতেন।

গত ২৬ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেন। বিকেলে রতন ওই গৃহবধূকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। গৃহবধূও প্রলোভনে পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ময়দানদিঘী বিআরটিসি কাউন্টারে যান।

সেখানে রতন ওই গৃহবধূকে বিয়ের জন্য কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমিরুলের অটোরিকশায় করে বোদা বাজার হয়ে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে নিয়ে যান। খাওয়া দাওয়ার পর গভীর রাতে শহিদুলের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মালাদাম এলাকার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে আবার ওই গৃহবধূকে নিয়ে পঞ্চগড় মৈত্রি ফিলিং স্টেশনে সামনে এনে গাড়ি থামান।

এ সময় ওই গৃহবধূ তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে চিৎকার করলে তারা তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে রতন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে চালক শহিদুলও তাকে ধর্ষণ করেন।

ভোর পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণের সময় অটোরিকশার চালক আমিরুল ও নুর আলম বাইরে পাহারা দেন। ভোরে ওই গৃহবধূকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বোদা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে চলে যান রতন। খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।

বাড়িতে ফিরে মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে বোদা থানায় গিয়ে দুই ধর্ষকসহ চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই রতনকে গ্রেফতার করে বোদা থানা পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপর ৩ আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

বোদা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া জানান, ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।