সংবাদ শিরোনাম ::
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

করোনাকালে স্কুল মাঠে সবজি চাষ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে দুচার কদম এগোলেই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। মাঠের চার পাশে গাছে গাছে দুল খাচ্ছে নানান জাতের সবজি। কালো মরিচ ও পর্কিংহাম জাতের বেগুনে ঢাকা পড়েছে গাছের সবুজ পাতা। মাটিতে থোকায় থোকায় লাল সবুজের বাহারী রং ছড়াচ্ছে লালশাক- লাইশাক।

লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে পুঁই আর ডাটাশাক।

মাচায় ঝুলছে লাউ। সাদা ফুল এসেছে সীমের ঝারে। পেঁপে গাছের ডগার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে নতুন কটি।

এছাড়া পুরো বিদ্যালয় জুড়ে লাগানো আছে ২০০০ বনজ, ৩০০ ফলজ ও ৫০টি ওষুধি গাছ। চোখ ধাঁধানো সবুজের এই সমারোহ চোখ পরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হাজী আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে।
করোনাকালে সারাদেশের মতো এই বিদ্যালয়টিও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসর সময় কাটাতে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শকের সবজি বাগান গড়ে তুলেন। তার এই সবজি চাষ দেখে এখন এলাকার সাধারণ মানুষরা সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এরই মধ্য অনেক শিক্ষক তাদের বাড়ীর অঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেছেন। আজ বুধবার এই সবজি মাঠ পরিদর্শন করেন মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাজওয়াল এম আউয়াল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ লুৎফুর বারী, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হেলাল।
সরজমিনে দেখা যায়, হরেক রকমের সবজি, ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের সমারোহে ভরে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পাশেই রয়েছে একটি নার্সারী। সেখানে রয়েছে আম, জাম, পেয়ারা, একাশী, কুল, সিপরাসী ও বকাইন গাছের চারা। এছাড়া গাছের গোড়ায় দেয়ার জন্য রয়েছে একটি জৈব সারের প্লান্ট। এই প্লান্টে উৎপন্ন করা হচ্ছে বার্মি কম্পোজ ও ট্রইকো কম্পোজ সার।

প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই অলস সময় পার করার জন্য তিনি শকের বসে বিদ্যালয়ের অঙ্গিনায় একটা দুটা করে সবজি চাষ শুরু করেন। কিন্তু এটা যে এতো ব্যপকতা লাভ করতে তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে এখন তিনি মনে করছেন বিদ্যালয় খোলার পর সবজির মাঠ দেখে শিক্ষার্থীরাও সবজি চাষে উৎসাহিত হবে। তার এই নার্সারী থেকে সল্প মূল্য শিক্ষার্থীদের চারা দেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে সবজি চাষ দেখে তিনি নিজেও এখন বাড়ীতে বিভিন্ন জাতের সববি চাষ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে প্র্যাকটিক্যালি সবজি চাষ শিখতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ লুৎফুর বারী বরেন, করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধ বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর সবজি বাগান করা হয়েছে। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা চাচ্ছি প্রতিটি বিদ্যালয়েই এরকম সবজি চাষ ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তবে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বিদ্যালয় নিয়ে আমরা এটা শুরু করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

করোনাকালে স্কুল মাঠে সবজি চাষ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে দুচার কদম এগোলেই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। মাঠের চার পাশে গাছে গাছে দুল খাচ্ছে নানান জাতের সবজি। কালো মরিচ ও পর্কিংহাম জাতের বেগুনে ঢাকা পড়েছে গাছের সবুজ পাতা। মাটিতে থোকায় থোকায় লাল সবুজের বাহারী রং ছড়াচ্ছে লালশাক- লাইশাক।

লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে পুঁই আর ডাটাশাক।

মাচায় ঝুলছে লাউ। সাদা ফুল এসেছে সীমের ঝারে। পেঁপে গাছের ডগার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে নতুন কটি।

এছাড়া পুরো বিদ্যালয় জুড়ে লাগানো আছে ২০০০ বনজ, ৩০০ ফলজ ও ৫০টি ওষুধি গাছ। চোখ ধাঁধানো সবুজের এই সমারোহ চোখ পরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হাজী আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে।
করোনাকালে সারাদেশের মতো এই বিদ্যালয়টিও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসর সময় কাটাতে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শকের সবজি বাগান গড়ে তুলেন। তার এই সবজি চাষ দেখে এখন এলাকার সাধারণ মানুষরা সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এরই মধ্য অনেক শিক্ষক তাদের বাড়ীর অঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেছেন। আজ বুধবার এই সবজি মাঠ পরিদর্শন করেন মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাজওয়াল এম আউয়াল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ লুৎফুর বারী, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হেলাল।
সরজমিনে দেখা যায়, হরেক রকমের সবজি, ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের সমারোহে ভরে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পাশেই রয়েছে একটি নার্সারী। সেখানে রয়েছে আম, জাম, পেয়ারা, একাশী, কুল, সিপরাসী ও বকাইন গাছের চারা। এছাড়া গাছের গোড়ায় দেয়ার জন্য রয়েছে একটি জৈব সারের প্লান্ট। এই প্লান্টে উৎপন্ন করা হচ্ছে বার্মি কম্পোজ ও ট্রইকো কম্পোজ সার।

প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই অলস সময় পার করার জন্য তিনি শকের বসে বিদ্যালয়ের অঙ্গিনায় একটা দুটা করে সবজি চাষ শুরু করেন। কিন্তু এটা যে এতো ব্যপকতা লাভ করতে তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে এখন তিনি মনে করছেন বিদ্যালয় খোলার পর সবজির মাঠ দেখে শিক্ষার্থীরাও সবজি চাষে উৎসাহিত হবে। তার এই নার্সারী থেকে সল্প মূল্য শিক্ষার্থীদের চারা দেয়া হবে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে সবজি চাষ দেখে তিনি নিজেও এখন বাড়ীতে বিভিন্ন জাতের সববি চাষ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে প্র্যাকটিক্যালি সবজি চাষ শিখতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ লুৎফুর বারী বরেন, করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধ বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর সবজি বাগান করা হয়েছে। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা চাচ্ছি প্রতিটি বিদ্যালয়েই এরকম সবজি চাষ ছাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তবে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বিদ্যালয় নিয়ে আমরা এটা শুরু করবো।