সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

সাগরে ধরা পড়ছে ইলিশ, যথাযথ দাম পাচ্ছেন না জেলেরা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। আর সেই ইলিশ ট্রলার বোঝাই করে একের পর এক আসছে আড়ত ঘাটে। তবে পাইকারী বাজারে খুব একটা দাম পাচ্ছেন না জেলেরা।

চলতি বছরে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

গত ২৩ জুলাই এ সময়সীমা শেষ হয়েছে। করোনার কারণে ওই সময়টা জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েন।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছিল না। তবে সপ্তাহ জুড়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

এর ফলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎসবন্দর মহিপুর-আলীপুরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে, স্থানীয় বরফকলগুলোও চাহিদা অনুযায়ী বরফ সাপলাই দিতে পাড়ছে না। চড়া দামে অন্য এলাকা থেকে বরফ কিনে আনতে হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রলার থেকে ঝুড়ি ভর্তি করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। একদিকে চলে পরিমাপ, অন্যদিকে চলে দরদাম।

পাইকারি ক্রেতারা দরদাম শেষে ইলিশ বরফ দিয়ে সারিসারি ককসেট রাখেন। আর সেই ককসেট বোঝাই ইলিশ ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের ছাদে করে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম পাচ্ছে না জেলেরা-এমটাই বলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার প্রভাব ও সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার পর জেলেদের জালে তেমন মাছ মিলছিল না। তবে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। মাছগুলো আকারেও বড়। তাই জেলেরা অনেক খুশি।

জেলে কুদ্দুস মাঝি জানান, এমনিতেই ধারদেনা ও মহাজনদের কাছ থেকে আগাম দাদন নিয়ে সাগরে নামতে হয়েছে। এত দিন তেমন ইলিশ ধরা না পড়ায় তারা দেনা পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এই পূর্ণিমার পর গভীর সাগরে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

মৎস বন্দর মহিপুর আল্লাহ ভরসা আড়তের মালিক তানভির আহম্মেদ লুনা বলেন, যে হারে সাগরে মাছ পড়ছে, এই অনুপাতে বরফ সাপলাই দিতে পারছে না এখানকার বরফ কলগুলো। তাই চড়া দামে বরফ আনতে হচ্ছে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে। এছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে সাগরে ইলিশ পড়তে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও পাইকারী বাজারে মাছের দাম কম।

আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.আনসার মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। করোনার কারণে রফতানি না থাকায় ইলিশের দাম একটু কম। এখন যে ইলিশ মণ প্রতি ১৭-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মাছ গত বছর দাম ছিল মণ প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

তবে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিলেই মাছের সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জেলেরা উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাগরে ধরা পড়ছে ইলিশ, যথাযথ দাম পাচ্ছেন না জেলেরা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। আর সেই ইলিশ ট্রলার বোঝাই করে একের পর এক আসছে আড়ত ঘাটে। তবে পাইকারী বাজারে খুব একটা দাম পাচ্ছেন না জেলেরা।

চলতি বছরে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

গত ২৩ জুলাই এ সময়সীমা শেষ হয়েছে। করোনার কারণে ওই সময়টা জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েন।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছিল না। তবে সপ্তাহ জুড়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

এর ফলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎসবন্দর মহিপুর-আলীপুরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে, স্থানীয় বরফকলগুলোও চাহিদা অনুযায়ী বরফ সাপলাই দিতে পাড়ছে না। চড়া দামে অন্য এলাকা থেকে বরফ কিনে আনতে হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রলার থেকে ঝুড়ি ভর্তি করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। একদিকে চলে পরিমাপ, অন্যদিকে চলে দরদাম।

পাইকারি ক্রেতারা দরদাম শেষে ইলিশ বরফ দিয়ে সারিসারি ককসেট রাখেন। আর সেই ককসেট বোঝাই ইলিশ ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের ছাদে করে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম পাচ্ছে না জেলেরা-এমটাই বলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার প্রভাব ও সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার পর জেলেদের জালে তেমন মাছ মিলছিল না। তবে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। মাছগুলো আকারেও বড়। তাই জেলেরা অনেক খুশি।

জেলে কুদ্দুস মাঝি জানান, এমনিতেই ধারদেনা ও মহাজনদের কাছ থেকে আগাম দাদন নিয়ে সাগরে নামতে হয়েছে। এত দিন তেমন ইলিশ ধরা না পড়ায় তারা দেনা পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এই পূর্ণিমার পর গভীর সাগরে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

মৎস বন্দর মহিপুর আল্লাহ ভরসা আড়তের মালিক তানভির আহম্মেদ লুনা বলেন, যে হারে সাগরে মাছ পড়ছে, এই অনুপাতে বরফ সাপলাই দিতে পারছে না এখানকার বরফ কলগুলো। তাই চড়া দামে বরফ আনতে হচ্ছে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে। এছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে সাগরে ইলিশ পড়তে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও পাইকারী বাজারে মাছের দাম কম।

আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.আনসার মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। করোনার কারণে রফতানি না থাকায় ইলিশের দাম একটু কম। এখন যে ইলিশ মণ প্রতি ১৭-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মাছ গত বছর দাম ছিল মণ প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

তবে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিলেই মাছের সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জেলেরা উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করছেন।