সংবাদ শিরোনাম ::
পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এএসআই’র শিশু কন্যা নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা পরে ক্লিনিকে সিলগালা অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ

নরসিংদীতে সালিশে তালাকের রায় শুনে গৃহবধূর আত্মহত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
নরসিংদীর মাধবদীতে সালিশে তালাকের রায় শুনে পারভীন আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সাগরদী গ্রামে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত পারভীন আক্তার মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের সাইদ মিয়ার মেয়ে ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী।

সাইদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানাসহ স্থানীয় বিচারকরা এক পক্ষের হয়ে কাজ করেছে।

তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় প্রেমের পর পাইকারচর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পারভীন আক্তারের বিয়ে হয়। এটি তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

এর জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে সেটা সালিস পর্যন্ত গড়ায়। পরে সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানা ও পাইকাচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকার মাতব্বররা সালিসে বসেন।

পরে সালিসে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দেয় বিচারকরা। কিন্তু এই রায় মানেননি পারভিনের বাবা।

পরে এই খবর শুনে ক্ষোভে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন চার সন্তানের জননী পারভিন আক্তার।
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাই কাউছার মিয়া বলেন, সালিশে মাতব্বরদের চাপেই কারণেই জামাই আমার বোনকে তালাকে রাজি হয়েছে। সালিশে আমার বোনকে না রেখেই তারা নিজের ইচ্ছামত রায় দিয়েছে। যেখানে কাবিন আছে দেড় লক্ষ টাকার আর তারা রায় দিয়েছে ২০ হাজার টাকা। এই কারণেই অপমানে ও ক্ষোভে সে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে।

পাইকাচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাহাঙ্গীর দুই বউকে নিয়ে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারে না। এজন্য সে সালিশে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনকে তালাক দিবে বলে জানায়। কিন্তু পারভিন এখানে উপস্থিত না থাকায় কোনো রায় দেওয়া হয় নি। আর সালিশে তালাক দেয়ার জন্যও কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

মাদবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন, একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে জানতে পেরেছি এর আগে স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠক করেছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীতে সালিশে তালাকের রায় শুনে গৃহবধূর আত্মহত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
নরসিংদীর মাধবদীতে সালিশে তালাকের রায় শুনে পারভীন আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সাগরদী গ্রামে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত পারভীন আক্তার মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের সাইদ মিয়ার মেয়ে ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী।

সাইদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানাসহ স্থানীয় বিচারকরা এক পক্ষের হয়ে কাজ করেছে।

তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় প্রেমের পর পাইকারচর ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পারভীন আক্তারের বিয়ে হয়। এটি তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

এর জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে সেটা সালিস পর্যন্ত গড়ায়। পরে সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানা ও পাইকাচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকার মাতব্বররা সালিসে বসেন।

পরে সালিসে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দেয় বিচারকরা। কিন্তু এই রায় মানেননি পারভিনের বাবা।

পরে এই খবর শুনে ক্ষোভে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন চার সন্তানের জননী পারভিন আক্তার।
খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাই কাউছার মিয়া বলেন, সালিশে মাতব্বরদের চাপেই কারণেই জামাই আমার বোনকে তালাকে রাজি হয়েছে। সালিশে আমার বোনকে না রেখেই তারা নিজের ইচ্ছামত রায় দিয়েছে। যেখানে কাবিন আছে দেড় লক্ষ টাকার আর তারা রায় দিয়েছে ২০ হাজার টাকা। এই কারণেই অপমানে ও ক্ষোভে সে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে।

পাইকাচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাহাঙ্গীর দুই বউকে নিয়ে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারে না। এজন্য সে সালিশে দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিনকে তালাক দিবে বলে জানায়। কিন্তু পারভিন এখানে উপস্থিত না থাকায় কোনো রায় দেওয়া হয় নি। আর সালিশে তালাক দেয়ার জন্যও কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

মাদবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন, একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে জানতে পেরেছি এর আগে স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠক করেছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।