সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫

প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরির নামে আ’লীগ নেতার লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২০ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মিজানুর রহমান তসলিম নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান তসলিম ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো পর্যন্ত সরকারি রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এরই মধ্যে তসলিম নিজেকে প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি দাবি করে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩২ জন তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই প্রতারক আওয়ামী লীগ নেতা তসলিম কারো কাছ থেকে ২ লাখ আবার কারো কাছ থেকে ১ লাখ অথবা ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি সে। এছাড়াও যারা ১ লাখ অথবা এর কম টাকা দিয়েছে, তাদেরকে আবার নতুন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। টাকা দিতে না পারলে আগে টাকা দিয়েছে, তাও বাদ যাবে এবং স্কুলে চাকরি দেয়া হবে না এমন হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চাকরি প্রত্যাশী এসব ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে কোন উপায়ান্ত না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তসলিমকে আটক করেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন এ বিষয়ের সমাধানের আশ্বাস দিলে তসলিমকে ছাড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানও কোন সমাধান করতে পারেনি। পরবর্তিতে বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মোসা. আনিকা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয় তসলিম মাস্টার। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যে খসড়া তালিকা করে, তাতে আমার নাম শিক্ষক পদে দেয়নি। আমাকে রাখা হয়েছে আয়া পদে। এরপর আবার আমার কাছ থেকে নতুন করে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে তিনি। আমি টাকা দিতে পারবো না বললে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়। এখন তার সাথে কথা বলার সুযোগই দেয়না’।

ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ৯ মাস আগে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় তসলিম। এখনো পর্যন্ত চাকরির কোন নাম নাই। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি হাত কেটে ফেলারও হুমকি দেয় সে।

ভুক্তভোগী মোসা. শীলা জানান, সাত মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাসেও চাকরি কোন খবর নাই। টাকাও দেয়না, চাকরিও দেয়না। কিছু জানতে চাইলে হুমকি দেয়। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধন পাই নাই।

এছাড়াও চাকরি দেয়ার নাম করে অহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.আনোয়ারের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.আতাউল সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.মাসুদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.শাকিলের কাছ থেকে ১৭ হাজার, মো. আসাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, রাকিব মাহমুদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও আল-মামুনের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেয় মিজানুর রহমান তসলিম।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষক মিজানুর রহমান তসলিম তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে কেউ টাকা পাইবে না’।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি থাকার কথা ইউএনওর। কিন্তু মিজানুর রহমান তসলিম নিজে সভাপতি দাবি করে ইতোমধ্যে অনেককে নিয়োগ দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যেহেতু নীতিমালা অনুযায়ী আমি সভাপতি, আমিতো কাউকে নিয়োগ দেইনি। তাই কোন নিয়োগই বৈধ নয়। কেউ নিয়োগ কার্যক্রম করে থাকলে সেটা প্রতারণা’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরির নামে আ’লীগ নেতার লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২০

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মিজানুর রহমান তসলিম নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান তসলিম ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো পর্যন্ত সরকারি রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এরই মধ্যে তসলিম নিজেকে প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি দাবি করে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩২ জন তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই প্রতারক আওয়ামী লীগ নেতা তসলিম কারো কাছ থেকে ২ লাখ আবার কারো কাছ থেকে ১ লাখ অথবা ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি সে। এছাড়াও যারা ১ লাখ অথবা এর কম টাকা দিয়েছে, তাদেরকে আবার নতুন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। টাকা দিতে না পারলে আগে টাকা দিয়েছে, তাও বাদ যাবে এবং স্কুলে চাকরি দেয়া হবে না এমন হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চাকরি প্রত্যাশী এসব ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে কোন উপায়ান্ত না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তসলিমকে আটক করেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন এ বিষয়ের সমাধানের আশ্বাস দিলে তসলিমকে ছাড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানও কোন সমাধান করতে পারেনি। পরবর্তিতে বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মোসা. আনিকা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয় তসলিম মাস্টার। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যে খসড়া তালিকা করে, তাতে আমার নাম শিক্ষক পদে দেয়নি। আমাকে রাখা হয়েছে আয়া পদে। এরপর আবার আমার কাছ থেকে নতুন করে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে তিনি। আমি টাকা দিতে পারবো না বললে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়। এখন তার সাথে কথা বলার সুযোগই দেয়না’।

ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ৯ মাস আগে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় তসলিম। এখনো পর্যন্ত চাকরির কোন নাম নাই। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি হাত কেটে ফেলারও হুমকি দেয় সে।

ভুক্তভোগী মোসা. শীলা জানান, সাত মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাসেও চাকরি কোন খবর নাই। টাকাও দেয়না, চাকরিও দেয়না। কিছু জানতে চাইলে হুমকি দেয়। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধন পাই নাই।

এছাড়াও চাকরি দেয়ার নাম করে অহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.আনোয়ারের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.আতাউল সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ, মো.মাসুদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মো.শাকিলের কাছ থেকে ১৭ হাজার, মো. আসাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, রাকিব মাহমুদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও আল-মামুনের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেয় মিজানুর রহমান তসলিম।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষক মিজানুর রহমান তসলিম তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে কেউ টাকা পাইবে না’।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি থাকার কথা ইউএনওর। কিন্তু মিজানুর রহমান তসলিম নিজে সভাপতি দাবি করে ইতোমধ্যে অনেককে নিয়োগ দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যেহেতু নীতিমালা অনুযায়ী আমি সভাপতি, আমিতো কাউকে নিয়োগ দেইনি। তাই কোন নিয়োগই বৈধ নয়। কেউ নিয়োগ কার্যক্রম করে থাকলে সেটা প্রতারণা’।