সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার

রাজশাহীতে ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপ’ এর চার সক্রিয় সদস্য হাতে-নাতে গ্রেপ্তার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০ ২৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপ’ এর চার সক্রিয় সদস্যকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা কখনও অল্প টাকায় বেশি পরিমাণ সৌদি রিয়াল আবার কখনও সোনার গয়না কিংবা সোনার বার দেয়ার নামে প্রতারণা করতেন। এভাবে প্রায় কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গ্রেপ্তার চার প্রতারক হলেন- গোপালগঞ্জের মোকসুদপুর থানার ঘুনসি মধ্যপাড়া এলাকার আফছার তালুকদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৯), ঘুনসি দক্ষিণপাড়ার মৃত ছহেদ সরদারের ছেলে লুৎফর সরদার (৩৫), বামনডাঙা বড়বাড়ি এলাকার মৃত মাজেদ শেখের ছেলে বখতিয়ার হোসেন (৫১) এবং ব্যাটক্যামারী গ্রামের মৃত গুনজর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩২)।

রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেপ্তার চারজন ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপের’ সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সৌদি আরবের ১০০ রিয়ালের তিনটি নোট এবং দুটি গামছায় বিশেষ কায়দায় রাখা কিছু খবরের কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। খবরের কাগজগুলো তারা সৌদি রিয়াল হিসেবে দিয়ে প্রতারণা করতেন। এদের আটকের সময় দুইজন পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই দুপুরে পাঠানপাড়া এলাকার কামরুল হাসান (৫৮) নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে ১০০ রিয়ালের বিনিময়ে টাকা দেয়ার অনুরোধ করেন। তারা বলেন, টাকা পেলে তারা ওষুধ কিনবেন। তবে পরেরদিন টাকা দিলেই হবে। কামরুল হাসান এই ১০০ রিয়াল নেন এবং পরদিন মানি চেঞ্জারে গিয়ে রিয়ালটি ভাঙান। আসল রিয়ালের কারণে তিনি টাকা পান।

এরপর ফোন করে ওই প্রতারক চক্রকে টাকা নিতে বাসায় ডাকেন। তারা বাসায় গেলে কামরুল ৮০০ টাকা দেন। কিন্তু প্রতারকরা নেন ৪০০ টাকা। এভাবে তারা বিশ্বাস স্থাপন করেন। এরপর চক্রটি আবার কামরুলকে ফোন করে বলেন, তাদের কাছে ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের রিয়াল আছে। সেগুলোও তাকে দিতে চান। কামরুল রাজি হন। ১৪ জুলাই হেতেমখাঁ কলাবাগান এলাকায় প্রতারকরা কামরুলের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন। এ সময় তাকে রুমাল দিয়ে বাধা একটি পোটলা দেয়া হয়। কামরুল সেটি নিয়ে বাসায় এসে দেখেন, ভেতরে সব খবরের কাগজ। রিয়াল নেই। এরপর প্রতারণার বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ এই চারজনকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চার প্রতারক জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতারণা করে তারা প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সৌদি রিয়াল ছাড়াও তারা সোনার গয়না বলে নকল গয়না কিংবা নকল সোনার বার দিয়ে থাকেন। প্রতারকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণা করে নেয়া টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকরা প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা তাৎক্ষনিকভাবে আত্মীয়-স্বজন এবং নিজেদের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেন। বিকাশের মাধ্যমেও টাকা পাঠিয়ে দিতেন। জমা রাখতেন নিজেদের ব্যাংক হিসাবেও। সেসব টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে ঢাকা, সিলেট, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ফেনী, কুমিল্লা, রংপুর, যশোর ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা এবং বিদেশী মুদ্রা জালিয়াতের আছে। সেগুলো আদালতে বিচারাধীন। তারা বার বার গ্রেপ্তার হন। কারাগারে যান। আবার জামিনে বের হয়ে প্রতারণা শুরু করেন।

কামরুল হাসানের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ এবং নান্নু হাসান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তারাও আলাদা দুটি মামলা করেছেন। এই তিন ভুক্তভোগীই প্রতারকদের শনাক্ত করেছেন। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপ’ এর চার সক্রিয় সদস্য হাতে-নাতে গ্রেপ্তার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপ’ এর চার সক্রিয় সদস্যকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা কখনও অল্প টাকায় বেশি পরিমাণ সৌদি রিয়াল আবার কখনও সোনার গয়না কিংবা সোনার বার দেয়ার নামে প্রতারণা করতেন। এভাবে প্রায় কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গ্রেপ্তার চার প্রতারক হলেন- গোপালগঞ্জের মোকসুদপুর থানার ঘুনসি মধ্যপাড়া এলাকার আফছার তালুকদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৯), ঘুনসি দক্ষিণপাড়ার মৃত ছহেদ সরদারের ছেলে লুৎফর সরদার (৩৫), বামনডাঙা বড়বাড়ি এলাকার মৃত মাজেদ শেখের ছেলে বখতিয়ার হোসেন (৫১) এবং ব্যাটক্যামারী গ্রামের মৃত গুনজর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৩২)।

রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেপ্তার চারজন ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপের’ সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সৌদি আরবের ১০০ রিয়ালের তিনটি নোট এবং দুটি গামছায় বিশেষ কায়দায় রাখা কিছু খবরের কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। খবরের কাগজগুলো তারা সৌদি রিয়াল হিসেবে দিয়ে প্রতারণা করতেন। এদের আটকের সময় দুইজন পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই দুপুরে পাঠানপাড়া এলাকার কামরুল হাসান (৫৮) নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে ১০০ রিয়ালের বিনিময়ে টাকা দেয়ার অনুরোধ করেন। তারা বলেন, টাকা পেলে তারা ওষুধ কিনবেন। তবে পরেরদিন টাকা দিলেই হবে। কামরুল হাসান এই ১০০ রিয়াল নেন এবং পরদিন মানি চেঞ্জারে গিয়ে রিয়ালটি ভাঙান। আসল রিয়ালের কারণে তিনি টাকা পান।

এরপর ফোন করে ওই প্রতারক চক্রকে টাকা নিতে বাসায় ডাকেন। তারা বাসায় গেলে কামরুল ৮০০ টাকা দেন। কিন্তু প্রতারকরা নেন ৪০০ টাকা। এভাবে তারা বিশ্বাস স্থাপন করেন। এরপর চক্রটি আবার কামরুলকে ফোন করে বলেন, তাদের কাছে ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের রিয়াল আছে। সেগুলোও তাকে দিতে চান। কামরুল রাজি হন। ১৪ জুলাই হেতেমখাঁ কলাবাগান এলাকায় প্রতারকরা কামরুলের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন। এ সময় তাকে রুমাল দিয়ে বাধা একটি পোটলা দেয়া হয়। কামরুল সেটি নিয়ে বাসায় এসে দেখেন, ভেতরে সব খবরের কাগজ। রিয়াল নেই। এরপর প্রতারণার বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ এই চারজনকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চার প্রতারক জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতারণা করে তারা প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সৌদি রিয়াল ছাড়াও তারা সোনার গয়না বলে নকল গয়না কিংবা নকল সোনার বার দিয়ে থাকেন। প্রতারকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণা করে নেয়া টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকরা প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা তাৎক্ষনিকভাবে আত্মীয়-স্বজন এবং নিজেদের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেন। বিকাশের মাধ্যমেও টাকা পাঠিয়ে দিতেন। জমা রাখতেন নিজেদের ব্যাংক হিসাবেও। সেসব টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে ঢাকা, সিলেট, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ফেনী, কুমিল্লা, রংপুর, যশোর ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা এবং বিদেশী মুদ্রা জালিয়াতের আছে। সেগুলো আদালতে বিচারাধীন। তারা বার বার গ্রেপ্তার হন। কারাগারে যান। আবার জামিনে বের হয়ে প্রতারণা শুরু করেন।

কামরুল হাসানের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ এবং নান্নু হাসান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তারাও আলাদা দুটি মামলা করেছেন। এই তিন ভুক্তভোগীই প্রতারকদের শনাক্ত করেছেন। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।