বানারীপাড়ায় কিশোরী শিক্ষার্থীকে হত্যার দায় স্বীকার ঘাতক ছেলেকে বাঁচাতে লাশ খালে ডুবিয়ে গুম করে বাবা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ ৭১৫ বার পড়া হয়েছে

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বরিশালের বানারীপাড়ায় কিশোরী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আয়শা আক্তারকে (১৩)
হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দায় স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত সাব্বির।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ
সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ। তিনি জানিয়েছেন হত্যার কারণ সহ আরও বিস্তারিত
জানার জন্য অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।একই কথা জানিয়ে বানারীপাড়া
থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল
শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া
চলছে। এদিকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের
আউয়ার বাজার সংলগ্ন খাল থেকে নিহত আয়শার লাশ উদ্ধার করেছে বরিশাল ফায়ার
সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রসঙ্গত উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার দাখিল মাদরাসার
সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী ও ওই এলাকার দুলাল লাহাড়ীর মেয়ে আয়শা আক্তার (১৩)
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে নিখোঁজ ছিলো এবং তাকে অনেক খোঁজাখুজির পরও
পাওয়া যাচ্ছিলো না। বুধবার সকালে পার্শ্ববর্তী বাড়ির সিদ্দিক মীর আউয়ার
খালে আয়শার লাশ জালের সাথে পেচানো অবস্থায় দেখতে পায় এবং সে ধারণা করে
হয়তো তার ছেলেরা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। পরে সিদ্দিক ছেলেদের
বাঁচাতে লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে পায়ে বালতি ও মেয়েটির ফ্রকের ভিতরে ইট
ঢুকিয়ে খালে ডুবিয়ে দেয়।এদিকে আয়শা (১৩) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর
তাকে খুঁজে পেতে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করে। তার খোঁজে এলাকায়
মাইকিং করা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দিয়ে নিখোঁজ
বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। এতেও তার কোন সন্ধান মেলেনি। ওই ছাত্রীর
পার্শ্ববর্তী বাড়ির সিদ্দিক মীরার ঘরের পাশে বুধবার সকালে আয়শার একটি
জুতা খুঁজে পায় তার স্বজনেরা। ওই জুতার সূত্র ধরেই স্থানীয় ইউপি সদস্য
জাহিদুল ইসলাম কাজল সহ অন্যরা সিদ্দিক,তার ছেলে সাব্বির (২০),সাইদ(১৪) ও
স্ত্রী হনুফা বেগমকে সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে
সিদ্দিক মীর ছাত্রী আয়শার লাশ বাড়ি সংলগ্ন খালে ডুবিয়ে দিয়েছে বলে
স্বীকার করে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারজনকে
গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেখানো স্থানে খালে বানারীপাড়া ও বরিশাল ফায়ার
সার্ভিসের ডুবুরী দল দিনভর তল্লাশি চালিয়ে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লাশ
উদ্ধার করে। এসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বরিশাল জেলা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) আনোয়ার সাঈদ,বানারীপাড়ার থানার
ওসি শিশির কুমার পাল,ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাফর আহম্মেদ,লবণসাড়া পুলিশ
তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর মো. মহসিন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন। ##


























